মরিসের ব্যাটিং ঝড়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল মোস্তাফিজের দল

প্রকাশিত: ১:২৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২১

মরিসের ব্যাটিং ঝড়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল মোস্তাফিজের দল

স্পোর্টস ডেস্ক

দুর্দান্ত খেললেন দ. আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট ডেভিড মিলার। ১৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় একাই করলেন ৬২ রান। যে কারণে বাকি ব্যাটসম্যানরা সেভাবে রান না পেলেও জয় হাতছাড়া হয়নি রাজস্থান রয়্যালসের।

তবে রাজস্থানের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ক্রিস মরিসকে জয়ের নায়ক মানতে হবে। শেষদিকে তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এবারের আইপিএলে প্রথম জয়ের স্বাদ নেয় রাজস্থান। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে দিল্লিকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে মোস্তাফিজের দল।

আইপিএলের ১৪তম আসরের সপ্তম ম্যাচে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আজ দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে লড়েছে রাজস্থান রয়্যালস।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থানের দুই পেসার উনাদকাত ও মোস্তাফিজের তোপে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান সংগ্রহ করে দিল্লি। দিল্লির ইনিংসে সর্বোচ্চ রান আসে অধিনায়ক ঋষভ পন্তের ব্যাট থেকে। ৩২ বলে ৫১ রান করেন এই তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

আইপিএলের মতো জমজমাট আসরে ১৪৯ রানের লক্ষ্য তেমন একটা বড় নয়। হেসেখেলেই তা পার করে দেওয়া সম্ভব।

কিন্তু এমন সহজ লক্ষ্য পার করতে শেষওভার পর্যন্ত বেগ পেতে হয়েছে রাজস্থানের। বিনিময়ে খরচ হয়েছে ৭ উইকেটের।

সহজ ম্যাচকে প্রতিযোগিতা পূর্ণ করার কারিগর দিল্লির ৩ পেসার ওকস, রাবাদা আর আভেশ খান।

শুরুতে রাজস্থানের টপঅর্ডারকে ধসিয়ে দেন এই তিন পেসার।

দশম ওভারের শুরুতেই প্রথম সারির ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে রাজস্থান। স্কোরবোর্ডে জমা তখন মাত্র ৪২। অর্থাৎ বাকি ১০.৫ ওভারে করতে হতো ১০৭ রান। হাতে ছিল ৫ উইকেট।

প্রথমে দুই ওপেনার জস বাটলার ও মানান ভোহরা এবং অধিনায়ক আউট হন যথাক্রমে ২, ৯ ও ৪ রানে। দুই ওপেনারকে ফেরান ক্রিস ওকস আর সঞ্জুর গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নেন কাগিসো রাবাদা।

শিভাম দুবে ও রিয়ান পরাগ দুজনেই মাত্র ২ রান করে আউট হন। তাদের উইকেট দুটি নেন আভেশ খান।

এমতাবস্থায় মিলারের সঙ্গে ছোট ছোট জুটি গড়েন রাহুল তিওয়াতিয়া ও ক্রিস মরিস। ১৭ বলে ১৯ রান করে রাহুল সাজঘরে ফেরেন ক্যারিবীয় পেসার রাবাদার বলে।

এমন পরিস্থিতিতে ১৫তম ওভারে হাত খুলে খেলেন মিলার। আভেশ খানের ওই ওভারটিতে পর পর দুটি ছক্কা হাঁকান মিলার। হ্যাটট্রিক ছক্কার আসায় পরের বলে উড়িয়ে মারলে লংঅনের ললিত যাদবের ক্যাচে পরিণত হন মিলার। সমাপ্তি ঘটে তার ৪৩ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কার মারে ৬২ রানের ইনিংসের।

মিলারের আউটের পরে দুর্দান্ত এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন ক্রিস মরিস। ১৯তম ওভারে রাবাদাকে ২ ছক্কা হাঁকান মরিস। ওই ওভারে ১৫ রান তোলেন মরিস। ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য রাজস্থানের প্রয়োজন পড়ে ১৩ রানের।

টম ক্যারানের ওই ওভারেও দুর্দান্ত দুই ছক্কা হাকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন ক্রিস মরিস। ২ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রাজস্থান।

সে হিসেবে মিলার রানের ভিত গড়ে দিলেও ম্যাচ জয়ের নায়ক ক্রিস মরিসকে বলা যায়।

এর আগে টসে জিতে দিল্লিকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন।

রাজস্থানের উনাদকাত আর মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে কুড়ি ওভারে মাত্র ১৪৮ রান সংগ্রহ করতে পারে দিল্লি।

এই লক্ষ্যও ছুড়তে পারত না দিল্লি যদি না অধিনায়ক ঋষভ পন্ত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন। রানআউট হওয়ার আগে ৩২ বলে ৯ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৫১ রানের ইনিংস খেলেছেন পন্ত। যা দলের পক্ষে সর্বোচ্চ।

রাজস্থানের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পন্ত ছাড়া আর মাত্র ৩ ব্যাটসম্যান দুই অংকের ঘরে পৌঁছুতে পারেন।

ললিত যাদব (২০), টম ক্যারান (২১) রানে আউট হন। ক্রিস ওকস ১৫ রানে নট আউট থাকেন। বাকি ব্যাটসম্যানরা শুধু আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন।

আজ দিল্লির ইনিংসে ধস নামানোর জন্য প্রধান কারিগর বাঁহাতি পেসার জয়দেভ উনাদকাত। ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে তিনি একাই নিয়েছেন ৩টি উইকেট।

আর ৪ ওভারে ২৯ রানের খরচায় ২টি উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ।

ম্যাচের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারেই ওপেনার পৃথ্বী শকে ২ রানে ফেরান উনাদকাত। নিজের পরের ওভারের প্রথম বলেই আউট করেন বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ানকে। নিজের তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে ফেরান অজিঙ্কা রাহানেকে। শিখর করেন ৯ আর রাহানে করেন ৮ রান।

মূলত দিল্লির টপঅর্ডারকে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন উনাদকাত। এরপর আর সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দিল্লি।

উনাদকাদ, সাকারিয়া ও মরিসের ওভারের পর মোস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক সঞ্জু।

সপ্তম ওভারটি করেন তিনি। মোস্তাফিজের প্রথম ওভারটি ছিল দুর্দান্ত। ক্রিজে ছিলেন দিল্লির অধিনায়ক ঋষভ পন্ত আর অলরাউন্ডার স্টইনিস। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এই দুই তারকা ব্যাটসম্যান। কিন্তু মোস্তাফিজের কাটারে পরাস্ত হয়েছেন দুজনেই। ৬ বলে মাত্র এক রান দিয়ে স্টইনিসের উইকেটটি তুলে নেন মোস্তাফিজ।

মোস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ভালো খেলতে থাকা টম ক্যারান। ১৬ বলে ২১ রান করা ক্যারানকে সরাসরি বোল্ড করে দেন কাটারমাস্টার।

স্যামসনের চাতুরতায় অলরাউন্ডার রবিচন্দ্র অশ্বিন ৭ রানে আউট হন। ফলে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি দিল্লি।

১৪৮ রানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ