মহামারীতে সিয়াম সাধনা

প্রকাশিত: ১:৫০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১

মহামারীতে সিয়াম সাধনা

মুফতি মুহাম্মদ এহছানুল হক মুজাদ্দেদী

 

পবিত্র মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা। আল কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম (রোজা) ফরজ করা হয়েছে যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা মুত্তাকি (আল্লাহভীরু) হতে পার।’ সুরা বাকারা আয়াত ১৮৩। মুত্তাকি সেই ব্যক্তিকে বলা হয় যে সংযমের জীবনযাপন করে। লাগামহীন জীবনযাপন যার অভ্যাস নয়। সংযমের জীবনে অভ্যস্ত করার জন্যই আল্লাহ আমাদের ওপর এক মাসের সিয়াম সাধনা ফরজ করেছেন।

মাহে রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে বান্দা সংযমের প্রশিক্ষণ নেয়। আর এটা সম্ভব হয় একে অন্যের প্রতি সহমর্মিতার চর্চার মাধ্যমে। তাই বলা যায় রমজান সহমর্মিতা চর্চারও মাস। সন্দেহ নেই ধৈর্য, সহনশীলতা, তাকওয়া অর্জনই সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এসবের বাইরেও রোজার বড় একটা উদ্দেশ্য হলো মানব জাতিকে সহানুভূতি-সহমর্মিতার অনুপম শিক্ষা প্রদান। ইসলামে সাম্য-মৈত্রীর যে নান্দনিক দর্শন রয়েছে সিয়াম সাধনার মাধ্যমেই মূলত এর বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। রমজান যেমন বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর রহমত বা দয়াকে আকর্ষণ করে তেমনি এক বান্দার প্রতি অন্য বান্দার, এক মানুষের প্রতি অন্য মানুষের অন্তরে মমত্ব, সহানুভূতি, দয়া, ভালোবাসার উপলক্ষ সৃষ্টি করে। সংযম সাধনার এ মাসে ক্ষুধা ও পিপাসার প্রকৃত অনুভূতির মাধ্যমে বিত্তবান-সচ্ছল রোজাদার মানুষ দরিদ্র ও অভাবী মানুষের না খেয়ে থাকার কষ্ট বুঝতে সক্ষম হয়। প্রিয় রসুল (সা.) রমজানকে শাহরুল মুওয়াসাত তথা সহমর্মিতা-সহানুভূতির মাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর এ সহমর্মিতার ক্ষেত্র শুধু আর্থিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি অন্য মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সর্বোত্তম বিনম্র আচরণ, সদুপদেশ প্রদান, তার জন্য প্রভুর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করা- সবই সহমর্মিতার মধ্যে গণ্য। আমি নিজেকে যতটুকু ভালোবাসি।
রমজানে বিত্তবান কর্তৃক সেই দরিদ্র শ্রেণির মানুষকে নতুন জামাকাপড় প্রদান এক অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্যের অবতারণা ঘটায়। ইসলামের নিষ্কলুষ সৌন্দর্য এখানেই। যে সৌন্দর্য মাহে রমজানের সহমর্মিতার মোড়কে বিমূর্ত হয়ে আছে যুগ যুগ ধরে, শত-সহস্র কাল ধরে। প্রতি বছর বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন কর্তৃক দুস্থ-অভাবীদের নিমিত্ত ইফতার ভোজনের যে সমৃদ্ধ আয়োজন আমরা অবলোকন করি, বলা চলে তা রমজানের সহমর্মিতার প্রশিক্ষণেরই বাস্তব চিত্র। আত্মিক তৃপ্তি প্রশান্তি মূলত এ সহমর্মিতা প্রকাশেই রয়েছে। প্রিয় নবী (সা.) যেমনটি বলেছেন, ‘আত্মার অভাবমুক্তিই হচ্ছে আসল অভাবমুক্তি।’ বুখারি।

রমজানের সহমর্মিতার এ শুভশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ আমরা যদি বছরব্যাপী অনুশীলন করি তবেই মানবসমাজে আর দেখা যাবে না কোনোরকম অসাম্য ও শ্রেণিবৈষম্য। দূর হয়ে যাবে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশান্তি-হানাহানি। তাই আসুন! মাহে রমজান থেকে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনের জীবন পরিচালনা করি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। কোরআন, সুন্নাহ এবং আউলিয়া কিরামদের জীবনী আমাদের পাথেয় হোক।

 

লেখক : প্রিন্সিপাল, মণিপুর বাইতুর রওশন মাদরাসা কমপ্লেক্স
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ