মানবতার সেবা পরম ধর্ম

প্রকাশিত: ২:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০

মানবতার সেবা পরম ধর্ম

মুফতি রফিকুল ইসলাম আল মাদানী :: মানব কল্যাণের ধর্ম ইসলাম। শান্তি, সহিষ্ণুতা, সেবা ও পরোপকার এ ধর্মের বৈশিষ্ট্য। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ দেখায় না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া-অনুগ্রহ করেন না’ (সহীহ বুখারি, সহীহ মুসলিম)। রসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় যে সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এর বৈশিষ্ট্য ছিল মানবকল্যাণ, নৈতিকতা ও মানবজাতির সার্বজনীনতা। মহানবী (সা.)-এর আদর্শ সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজের মতো ভালোবাসতে শেখায়। পরস্পর সহযোগিতা ও উদারতায় উদ্বুদ্ধ করে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ পরিপূর্ণ মুমিন হবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, অন্যদের জন্যও তা পছন্দ করবে না’ (সহিহ বুখারি)।

অসুস্থ মানুষের সেবা করা, তার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা ও মৃত ব্যক্তির কাফন-দাফন ও জানাজার ব্যবস্থা করা ইসলামের অন্যতম বিধান। মূলত আমাদের সমাজে সৎ, মহৎ, উদার ও আত্মত্যাগী মানুষের সংখ্যা যত বেশি বাড়বে সুখ, শান্তি ও ঐক্য সম্প্রীতি ততই দ্রুত প্রতিষ্ঠা হবে। রসুলুল্লাহ (সা.) নিজে নিয়মিতভাবে অসুস্থদের খবরাখবর নিতেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি মদিনার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে রোগী দেখার জন্য চলে যেতেন।
রোগীর রোগ মুক্তির জন্য মহান প্রভুর কাছে দোয়া করতেন। তাদের বলে দিতেন বিভিন্ন ওষুধ, চিকিৎসা পদ্ধতি ও নিরাপত্তা বিধান। সাহাবি জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত-মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে অসুস্থ ব্যক্তির খবর নিতে যায় আল্লাহর রহমত তাকে বেষ্টিত করে নেয়’ (বুখারি আদাবুল মুফরাদ)। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত মহানবী (সা.) বলেন, ‘কেউ অসুস্থ হলে তার খবরাখবর নেওয়া, যথাসাধ্য সেবা সহযোগিতা করা প্রত্যেক মুসলমান অপর মুসলমানের প্রতি তার প্রাপ্য অধিকার। (সহিহ বুখারি)। মহানবী (সা.) ঘোষণা করেন, যে ব্যক্তি কারও জানাজার নামাজে অংশ নেবে তার জন্য রয়েছে একটি মহা পুরস্কার। আর যে দাফন করা পর্যন্ত থাকবে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ (সহিহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম)। মহানবী (স.)-এর মহান আদর্শ ও অসংখ্য মূল্যবান বাণী প্রমাণ করে, মানবতা পরম ধর্ম। বর্তমানে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ^ব্যাপী।

আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন জনপদ। দিশাহারা মানব জাতি ভুলে যাচ্ছে আপনজনকেও। নিজেদের আত্মরক্ষার চিন্তায় মানবতা আজ চরমভাবে বিপর্যস্ত। অসহায় পরিস্থিতিতে মানব সেবা ও পরস্পর সহযোগিতা একটি ইবাদত, সামাজিক দায়িত্ব, পরস্পরের অধিকার তা বর্তমান বিশ^ ভুলেই যাচ্ছে। হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিক হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা ও ভর্তির সুযোগ না পেয়ে রাস্তায় রোগীর মৃত্যু হওয়া আজ নিত্যদিনের খবর। অসুস্থ মা-বাবাকে নিজ সন্তান জঙ্গলে ফেলে আসছে, মৃত আপনজনের লাশের কোনো খবর নিচ্ছে না। কাফন-দাফন এবং জানাজার ব্যবস্থাও অসম্ভব পরিস্থিতিতে পরিণত হচ্ছে। গোটা পৃথিবী যেন হাশরের ময়দানের চিত্র।

লেখক : গবেষক, মুহাদ্দিস, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা ঢাকা
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ