মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে হাইকোর্টের ক্ষোভ প্রকাশ

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে হাইকোর্টের ক্ষোভ প্রকাশ

সিল-নিউজ-বিডি ডেস্ক :: মিরপুরের গৃহকর্মী খাদিজা নির্যাতনের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ও সংস্থাটিকে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়ে রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ রায় প্রকাশ করেন। ৩১ পৃষ্ঠার এ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, মানবাধিকার কমিশন আইনে অর্পিত তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। গৃহকর্মী খাদিজা নির্যাতনের মতো মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে কমিশন যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে পরিষ্কার যে কমিশন তার দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ/সচেতন নয় এবং দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনে প্রতিকার দিতে কমিশন আইনে অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলার পরিচয় দিয়েছে। ‘মানবাধিকার রক্ষায় কমিশন চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে এবং কমিশন জেগে জেগে ঘুমাচ্ছে’। রায়ে মানবাধিকার কমিশনের প্রতি ৭টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

১. খাদিজা নির্যাতন মামলার অভিযোগে কমিশন মানবাধিকার রক্ষায় এবং প্রতিকার দিতে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ এবং আইনি অবহেলার পরিচয় দিয়েছে।

২. কমিশন আদেশ দিয়েছে তা কোনোভাবেই পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় না যে এ আদেশগুলো কমিশনের আদেশ নাকি কোনো সদস্যের। এবং ওই সদস্য এরূপ আদেশ আদৌ দিতে পারেন কিনা। মানবাধিকার কমিশন আইনের ১১(৩) এবং ২৮ ধারার বিধানে এ ধরনের আদেশের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ।

৩. কমিশনকে এ মর্মে নির্দেশনা দেয়া যাচ্ছে যে, কমিশন যেন সঠিক বিধি মেনে সদস্য বা সদস্যদের পূর্ণ নাম উল্লেখ করে আদেশ পাস করে এবং আদেশের নকল কপি যেন ভুক্তভোগী পেতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. কমিশন যে খসড়া বিধিমালাটি তৈরি করে রেখেছে তা অতিদ্রুত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করে গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করবে।

৫. আইনের ১৬ এবং ১৮ ধারার বিধান অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অনুসন্ধান বা ক্ষেত্রমতো তদন্ত করে যথাযথ সুপারিশ করার ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য কমিশনকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

৬. কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা কমিশনের আদেশ-নির্দেশ পাত/বিবেচনা না করলে বা অবহেলা করলে সংবিধানের ১০২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের কাছে আবেদন করার জন্য কমিশনকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

৭. কমিশন আইনগতভাবে একটি আধা-বিচারিক কর্তৃপক্ষ। সুতরাং ইহা অবশ্যই ন্যায়-বিচারের সব নীতি মেনে চলতে বাধ্য। অত্র রায় প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে খাদিজা নির্যাতনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে কী প্রতিকার, ক্ষতিপূরণের সুপারিশ বা অন্য যে সব সুপারিশ প্রস্তাব করা যায় তা করতে কমিশনকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। যদি শুনানিতে খাদিজার মানবাধিকার লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে আইনের ১৯ নম্বর ধারার বিধানমতে খাজিদা বরাবর যথাযথ ক্ষতিপূরণের সুপারিশ কমিশন করবে।

২০১৩ সালে রাজধানীর মিরপুরে গৃহকর্মী খাদিজাকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে চিঠি দেয়া হয়। এরপর পাঁচ বছর কেটে গেলেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
      1
23242526272829
3031     
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ