মানুষের মুখ বন্ধ করতে সরকার ‘কোড অব সাইলেন্স’ প্রয়োগ করছে: রিজভী

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০

মানুষের মুখ বন্ধ করতে সরকার ‘কোড অব সাইলেন্স’ প্রয়োগ করছে: রিজভী

অনলাইন ডেস্ক :; সরকার জনগণের মুখ বন্ধ রাখার সব অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, দুর্নীতিবান্ধব সরকার দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, করোনার আঘাতে দেশের বেহাল দশা এবং প্রায় দুর্ভিক্ষাবস্থা ঠেকাতে ‘কোড অব সাইলেন্স’ প্রয়োগ করছে। এ জন্য দমনমূলক আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার করে র্যা ব-পুলিশ ও গোয়েন্দা মেশিনারি দিয়ে মানুষের মুখ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, সরকার চলছে হুকুমবাদের মনোভাব ও বাধ্যকরণের নীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে। তাদের আর একটি প্রধান নীতি হচ্ছে জনগণকে বশ মানাতে বলপ্রয়োগ করা। সরকারের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে গ্রামে গ্রামে নীরবে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। ঢাকাসহ সারাদেশই এখন কোভিড-১৯ ভাইরাসের দখলে। ঢাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ ও বিপজ্জনক। করোনার অভিঘাতে দেশব্যাপী প্রায় দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছে। অর্থনীতির চাকা স্তিমিত, আমদানির পাশাপাশি রফতানি আরও আশঙ্কাজনক হারে কমছে, ধসে গেছে রেমিট্যান্স। করোনার কারণে চাহিদা ও ভোগ হ্রাস পাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশ। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং নিম্নআয়ের মানুষের চোখে সরষে ফুল দেখার দশা। এর ওপর ফ্যাসিবাদের অবয়ব চূড়ান্ত রুপ ধারণ করেছে।

‘অসহায় মানুষকে নীরবে সইতে হচ্ছে ক্ষুধা ও জুলুমের যন্ত্রণা। অসম্ভব হয়ে পড়েছে মানুষের জীবনযাপন’– যোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে দেশের টাকা পাচার হয়েছে অত্যুগ্রমাত্রায়। এর সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের রুই-কাতলারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এরা ক্ষমতা দখল করে ১২ বছরের রাজত্বে অসংখ্য পাপুল, সম্রাট, খালেদ, শিকদার ভ্রাতৃদ্বয়ের জন্ম দিয়েছে। ক্যাসিনো থেকে শুরু করে মানবপাচারের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা তাদের পকেটে ঢুকেছে। রহস্যজনকভাবে দেশ থেকে উধাও হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকাও। ক্ষমতাসীনদের দাপটে সরকারি ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো নিয়মকানুন ছাড়াই ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা উড়ে গেছে। এখন দেশের আর্থিক খাত সম্পূর্ণরূপে দেউলিয়া হয়ে গেছে। এর ওপর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই যাচ্ছে সরকার। এবারেও ভাববিলাসী বাজেট বাস্তবায়ন করতে ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এতে করে ব্যাংকের বিদ্যমান তারল্য সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

এ সময় সরকার তাদের সৃষ্ট শূন্যভাণ্ডার পূরণ করতে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নআয়ের মানুষের গলায় ছুরি বসিয়ে টাকা আদায় করছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ