মামুনুলের সমালোচনা করায়ই শাল্লার হিন্দু গ্রামে হামলা: এসপি

প্রকাশিত: ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২১

মামুনুলের সমালোচনা করায়ই শাল্লার হিন্দু গ্রামে হামলা: এসপি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু গ্রামে হামলার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি অস্বীকার করেছেন জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হকের সমালোচনা করে স্ট্যাটাসের জেরে এই হামলা হয়েছে জানিয়ে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত বাকি সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। একটি মামলার প্রধান আসামি শহীদুল ইসলাম স্বাধীনকে রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হবে বলেও জানান এসপি।

গত বুধবার শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে ৮০টিরও বেশি হিন্দু বাড়িতে হামলা ও লুটপাট হয়। ঘটনার চারদিন পর রোববার (২১ মার্চ) নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সুনামগঞ্জের এসপি।

এসপি বলেন, ১৬ মার্চ সকালে শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস তার ফেসবুক আইডি থেকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে নিয়ে স্ট্যাটাস দেন। এর জেরে দিরাই ও শাল্লা থানার কয়েকটি গ্রামের কয়েকশ মুসলিম মসজিদের মাইকে প্রচার করে জড়ো হয়ে আনুমানিক রাত ৮টার দিকে নোয়াগাঁও গ্রামে মিছিল-স্লোগানসহ প্রতিবাদ জানাতে থাকে বলে জানান তিনি।

ওই রাতেই গ্রামের দারাইন বাজারে শাল্লা থানা থেকে একজন এসআই, একজন এএসআই ও সাতজন কনস্টেবল মোতায়েন করা হয় বলেও দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠানের নেতৃত্বে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়- সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন এসপি।

পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই সংবাদ (উত্তেজনার) পাওয়ার পর শাল্লা থানার ওসি, ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতাকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারেন ঝুমন দাস তার ফেসবুক আইডিতে মামুনুল হকের ছবি বিকৃত করে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওসি ঝুমন দাসকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থার গ্রহণের আশ্বাস দিলে জনতা শান্ত হয়ে ফিরে যায়। তারা আর কোনো উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।’

হামলার পরদিন ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে শাল্লার ওসি, স্থানীয় প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপজেলা চত্বরে সরকারি কর্মসূচিতে ছিলেন বলেও জানান এসপি। তিনি বলেন, ‌‘আমি ও জেলা প্রশাসক জেলা সদরের জাদুঘরে অনুরূপ সরকারি প্রোগ্রামে থাকাবস্থায় সংবাদ পাওয়া যায় সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে শাল্লার কাশিপুর ও দিরাইয়ের চন্ডিপুর, নাচনী, চন্দ্রপুর এবং ধনপুর গ্রামের ১৪০০ থেকে ১৫০০ উত্তেজিত জনতা দা, লাঠিসোঁটা নিয়ে ঝুমন দাসের বাড়িতে আক্রমণ করার উদ্দেশে রওনা হচ্ছে।

‘তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে শাল্লা থানার ওসি ও ইউএনও নোয়াগাঁও গ্রামের দারাইন নদীর উত্তর পশ্চিম পারে অবস্থান করে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে পৌঁছান।’

সুনামগঞ্জ পুলিশের প্রধান জানান, দারাইন নদীর উত্তর-পূর্বপাড়ের অরক্ষিত অংশ দিয়ে সাঁতরে কয়েকজন নোয়াগাঁও গ্রামে প্রবেশ করে। তারা ঝুমন দাস, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বকুল চন্দ্র মজুমদারের ঘরসহ বেশ কিছু ঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

এ সময় পুলিশ আশপাশ থেকে নৌকা জোগাড় করে দারাইন নদী পার হয়ে গ্রামে পৌঁছার আগেই হামলাকারীরা নদী পার হয়ে চলে যায় বলে জানান তিনি।

এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়ে এসপি বলেন, ‌‘জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে সঠিক তদন্ত করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারব বলে আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
17181920212223
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ