মাহীসন্তোষ

প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২২

মাহীসন্তোষ

মোহাম্মদ সোহেল :: মাহীসন্তোষ মধ্যযুগের প্রশাসনিক ও শিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার মাহীগঞ্জ ও সন্তোষ ‘মাহীসন্তোষ’ হিসেবে পরিচিত। লোককাহিনি অনুযায়ী এক দরবেশ মাছের পিঠে চড়ে এ স্থানে এসেছিলেন। মানুষের কাছে তিনি ‘মাহীসওয়ার’ (মাহী=মাছ) নামে পরিচিত হন। এ থেকেই স্থানটির নামকরণ হয়েছে। এ বিষয়ে আরও একটি জনশ্রুতি অনুসারে প্রথম মহীপালের (৯৯৫-১০৪৩ খ্রি) নামানুসারে এ স্থানের নামকরণ হয়েছে। স্থানটির সাধারণ নকশা ও কিছু অস্ত্রশস্ত্রের আবিষ্কার, বিশেষ করে একটি বন্দুক ও কয়েকটি তরবারি (যা বর্তমানে বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে) নির্দেশ করে, মুসলমানদের আগমনের বহু আগেই পরিখা, কেল্লাসহ এ স্থানটি একটি সুরক্ষিত সামরিক চৌকি ছিল। একটি মিহরাবে লিপি ও লিপির উল্টো দিকে খোদাইকৃত বিষ্ণু ও সূর্যের মূর্তি আবিষ্কার সাক্ষ্য দেয়, মুসলমানদের আগমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে মাহীসন্তোষের অস্তিত্ব ছিল।

ত্রয়োদশ শতকের মধ্যভাগে স্থানটি শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। বলা হয়, শেখ ইয়াহিয়া মানেরি প্রসিদ্ধ সাধক শায়খ তাকিউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এখানে বিদ্যার্জন করেন। ফারসি উপাদান থেকে প্রতীয়মান হয়, এ স্থানটি সুহরাওয়ার্দী তরিকার সাধকদের ঘাঁটি ছিল। রুকনুদ্দিন বারবক শাহের (১৪৫৯-১৪৭৪) রাজত্বকালে ১৪৫৯ সালে এটি একটি টাঁকশাল শহরে পরিণত হয় এবং সুলতানের নামানুসারে এর পুনর্নামকরণ হয় ‘বারবকাবাদ’। সুলতানি আমলের বেশ কিছু মসজিদ আবিষ্কারে মনে হয়, এ শহরটিতে বিপুলসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাস ছিল।

টাঁকশাল শহর হিসেবে এটি ১৫২১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চালু ছিল। আইন-ই-আকবরিতে ‘বারবকাবাদ’কে সরকার ও নগর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নগর কেন্দ্র হিসেবে ষোড়শ শতকের শেষের দিকে সম্ভবত এটি তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। সপ্তদশ শতক থেকে উল্লেখযোগ্য স্থান হিসেবে এর উল্লেখ পাওয়া যায় না। বিশাল এলাকাটি বর্তমানে ধ্বংসস্তূপ, ঘন জঙ্গলে ঢাকা। চার-পাঁচটি মসজিদ, মুহম্মদ শিরান খলজি ও দুজন সুফি-দরবেশের সমাধিসৌধ সবই এখন ধ্বংসস্তূপ।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ