মুঘল-ই-আজম ও ক্রসফায়ার

প্রকাশিত: ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০১৯

মুঘল-ই-আজম ও ক্রসফায়ার

নঈম নিজাম :; জীবনের সোনালি দিনগুলো বেশি দিন থাকে না। আজকের দিনটি আগামীকালই অতীত হয়ে যাবে। অতীত আর বর্তমানের মাঝখান থেকে আমরা অনেক কিছু দেখার চেষ্টা করি। টিকে থাকি আশা-নিরাশার দোলাচলে। আশা হারিয়ে গেলে আর কিছুই থাকে না। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারবাদী নেতা মার্টিন লুথার কিং বলেছেন, ‘পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যত বড় অর্জন হয়েছে তার পেছনে আশা ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।’ তাই আমরা আশা নিয়েই বেঁচে থাকি। কিন্তু অন্যায়-অসংগতি আর অনাচার বাড়তে থাকলে একটা সময় এসে আশাও হারিয়ে যায়। নিরাশা তৈরি হয় সমাজে। তখন সামাজিক অনাচার বেড়ে যায়। চারপাশে তাকিয়ে মনে হয়, একটা জটিল অবস্থা অতিক্রম করছি আমরা। জটিলতা উত্তরণে বন্দুকযুদ্ধে অপরাধী নিহত হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান হয় না। সংকটের স্থায়ী সমাধানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয়। আইনের শাসন না থাকলে একটি দেশের স্বাভাবিকতা থাকে না। মানুষের মধ্যে স্বস্তি থাকে না। তখন বিশাল অর্জনগুলো হোঁচট খায়। সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার উপমা কাজে লাগে না। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে উন্নয়ন আছে আবার আইনের শাসনও আছে। এক হাতে তালি বাজে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সরকারের একার কাজ নয়। এ ব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় কোনো সরকারই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।

বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আইনের প্রতি আমাদের সবাইকে কমবেশি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ এখন ভারতে যায় কারণে-অকারণে। কলকাতায় কেউই ট্রাফিক আইন ভাঙে না। ভোররাতেও আমি দেখেছি, জনমানুষ নেই, ভয় ধরানো রাত মনে হয়। কিন্তু ট্যাক্সি ড্রাইভার লালবাতি অতিক্রম করছে না। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, রাতেও তোমরা আইন মেনে চল? জবাব দিল, কেন মানব না। ট্রাফিক সিগন্যাল তৈরি হয়েছে তো আমাদের জন্য। মন জুড়িয়ে যায়। আমাদের সমাজের সর্বস্তরে আইন ভাঙার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। মাদক আর সামাজিক অপরাধ সমাজের বারোটা বাজাচ্ছে। এ প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও একচোখা নীতি ভুলে যেতে হবে। সম্মান দেখাতে হবে সাধারণ মানুষের প্রতি। শক্তির জোরে সবকিছু হয় না। শক্তি সাময়িক। সিস্টেম চিরস্থায়ী। আমাদের প্রতিটি খাত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সিস্টেমে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ধরে রাখতে হবে। না হলে হুমকিতে পড়বে আগামীর প্রতিটি খাত। মনে রাখতে হবে, সর্বস্তরে আইনের শাসন না থাকলে একটা পর্যায়ে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে। দীর্ঘদিনের অসংগতির প্রভাব পড়েছে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে। এ দুই খাতে শৃঙ্খলা বলে এখন আর কিছু নেই। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক অপরাধ। বিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট দুনিয়া আমাদের আবেগ কেড়ে নিয়েছে। মানবিক মূল্যবোধ এখন শুধু বইয়ের বুলি। হতাশ তারুণ্য জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। কিন্তু এই তারুণ্য কেন হতাশায়? আমরা কি তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি? তাদের স্বাভাবিকতায় ফিরিয়ে আনতে কোনো কর্মসূচি আছে কি? হতাশার সমুদ্রে থাকা তারুণ্যকে উদ্ধার করতে হবে। তৈরি করতে হবে আশার আলো।
সময়ের সঙ্গে তারুণ্যের পরিবর্তন হয়। এখনকার তারুণ্য কিছু বিষয়ে অনেক বেশি এগিয়েও রয়েছে। আমাদের সময়ে তারুণ্য ছিল নানা মেরুকরণে। কিন্তু শৃঙ্খলার বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। চুল বড় হলে পাড়াপড়শি মুরব্বিরাও প্রশ্ন করতেন। এখন নিজের সন্তানকে শাসন করা যায় না। ভাবখানা মুঘল শাহজাদা ধরনের। পুরাতন ঢাকার সিদ্দিক বাজারে আমাদের দোকান ছিল। জুতার দোকান। নাম ভূঁইয়া এন্টারপ্রাইজ। আমার ভাই দেখতেন। ওই এলাকায় ভিসিআরে ছবি দেখার সুযোগ ছিল। মুঘল-ই-আজম সেখানেই প্রথম দেখি। বাদশাহ আকবরের ডায়ালগ এখনো কানে বাজে। বাদশাহ আকবর একদিকে ন্যায়পরায়ণতায় ছিলেন অটল নীতিতে। অন্যদিকে পুত্রস্নেহ। সুন্দরী প্রেমিকাদের ভালোবাসার কাছে বার বার পরাস্ত হন শাহজাদা সেলিম। পিতার অবাধ্য হন আনারকলির অমর প্রেমে। মুঘল শাসনের ইতিহাসে পিতা-পুত্রের লড়াই নতুন কিছু নয়। কিন্তু শুধু প্রেমের কারণে সেলিমের লড়াই শাহেনশাহ আকবরের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল বার বার। হারাম করে দিয়েছিল সেনাপতি মানসিংহের ঘুম। অথচ এই সন্তানের জন্য দুনিয়ার ক্ষমতাধর বাদশাহ আকবর আল্লাহর দরবারে দীর্ঘ সময় প্রার্থনা করেছেন। একদিন মরুর তপ্তবালিতে খালি পায়ে ছুটে গিয়েছিলেন আজমিরে হজরত শাহ শেখ সেলিম (রহ.)-এর মাজারে। জিয়ারত শেষে রব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে কবুল করুন। আমার মনের কষ্ট দূর করে দিন। আমাকে একটি সন্তান দিন। এই বিশাল মুঘল সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য একজন উত্তরাধিকার দিন।’ বাদশাহ আকবরের চোখের পানি, আহাজারি, আর্তনাদ আল্লাহ কবুল করেন। কিছুদিন পরই রানী যোধাবাঈয়ের গর্ভে আসেন শাহজাদা সেলিম। কিন্তু শাহজাদাকে নিয়ে শান্তি পাননি আকবর।

শান্তি এমনই, দুনিয়ার বাদশাহকেও সব সময় স্বস্তি দেয় না। আকবর বাদশাহকে কোনো না কোনো কষ্টের মাঝে কাটাতে হয়েছে সারা জীবন। এ কষ্টের বড় অংশ জুড়ে ছিল শাহজাদা সেলিমের অবাধ্যতা। যে পুত্রের জন্য একসময় বাদশাহ আকবর চিৎকার করে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেছেন, একদিন হেরেমে ঢুকে একটি দৃশ্য দেখে তিনি আঁতকে ওঠেন। শাহজাদা সেলিমের তখন অল্প বয়স। ওস্তাদের কাছে পড়াশোনা বাদ দিয়ে সেলিম হেরেমখানায় মদ ও নারীতে মেতে ওঠেন। আকবর শাহজাদাকে বেসামাল দেখে ক্ষুব্ধ হন, ব্যথিত হন। অন্দরমহল থেকে দূরদেশে পাঠিয়ে দেন অতি আদরের শাহজাদাকে। সেখানে যুদ্ধবিদ্যাসহ সব ধরনের শিক্ষায় তাকে পারদর্শী করে তোলেন। পূর্ণ যুবক হয়ে দিল্লির শাহিমহলে ফিরে আসেন শাহজাদা সেলিম। কিন্তু অসাধারণ রূপবতী আনারকলির রূপ, গানের মায়াবী কণ্ঠ, নাচ তাকে মুগ্ধ করে দেয়। বাদশাহ আকবর আনারকলিকে কী করে মুঘল সাম্রাজ্যের রাজবধূ হিসেবে মেনে নেবেন? শুরু হয় অন্যরকম এক লড়াই। আনারকলির প্রেমে কেঁপে ওঠে মুঘল সাম্রাজ্য। পিতা-পুত্রের এই যুদ্ধে অসহায় দাপুটে রানী যোধাবাঈ। অন্দরমহলের দাপুটে রানী কাউকেই থামাতে পারেন না। একপর্যায়ে বিদ্রোহী পুত্রকে দমনের সিদ্ধান্ত নেন পিতা। সাজ সাজ প্রস্তুতি। যুদ্ধে বের হওয়ার সময় রানীর হাত থেকে তলোয়ার নিতেন বাদশাহ। কিন্তু মুঘল হেরেমের দাপুটে রানী যোধাবাঈ এবার আর নিজ হাতে তলোয়ার দিতে রাজি নন। কারণ জানতে রানীর সামনে হাজির হন বাদশাহ আকবর। কিন্তু সম্রাজ্ঞী নিজ হাতে তলোয়ার দেবেনই না। পুত্রকে হত্যার জন্য পিতার হাতে তিনি তলোয়ার দিতে পারেন না। মুহূর্তে গর্জে ওঠেন মুঘল বাদশাহ। বাদশাহ আকবরের নীতি ও অটল সিদ্ধান্তের কাছে পরাস্ত হন রানী যোধাবাঈ। স্বামী না পুত্র- এ সিদ্ধান্ত জানাতে বললে, বিপাকে পড়েন রানী। অবশেষে কাঁপা হাতে তলোয়ার তুলে দেন সম্রাটের হাতে। অশ্রুসিক্ত চোখে রানী বললেন, ‘পুত্রের লাশ আমি দেখতে পারব না।’ বাদশাহ আকবর কিছুই শুনলেন না। চলে যান যুদ্ধের ময়দানে। শাহজাদাকে বন্দী করে দিল্লি ফেরেন।

সেসব সাড়াজাগানো ছবি এখন আর হয় না। হলে গিয়ে কেউ ছবিও দেখে না। বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলোর করুণ দশা চলছে। এখন মানুষ টিভি সিরিয়াল দেখে। অনেক বাড়িতে ‘স্টার জলসা’ জনপ্রিয়। সামাজিক অপরাধগুলোও স্টার জলসার সিরিয়ালগুলোর মতোই। মাঝে একটি ছবি দেখেছিলাম ‘বেলা শেষে’। দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন সৌমিত্র। শেষ বয়সে গিয়ে সৌমিত্রের মনে হলো সংসার জীবনে আর থাকবেন না। সবকিছু ছেড়েছুড়ে চলে যাবেন। এক জীবনে অনেক লড়াই করেছেন। লড়াই করে কোনো লাভ নেই। বাড়ির সবার সন্দেহ হলো, বুড়াকালে কোনো ভীমরতিতে পড়েছেন সৌমিত্র। নিশ্চয়ই কোনো বালিকার কবলে পড়েছেন। এভাবেই ছবির কাহিনি গড়াতে থাকে। আসলে সংসার জীবনের ক্লান্তি শেষ বয়সে পেয়ে বসে তাকে। তখন তার মনে হলো, লড়াই করে লাভ নেই। বাকি জীবনটা ঝামেলাহীন কাটাবেন। এ কারণে গৌতম বুদ্ধের মতো সংসার ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পারেননি। ভালোই লেগেছিল ছবিটি। বড় পর্দায় ছবি দেখা এখন আর আগের মতো হয় না। মানুষের অদ্ভুত সব ব্যস্ততা। এর মাঝেই একটা জীবন দেখতে দেখতে কেটে যায়। বিজ্ঞানের এই যুগে মানুষের ভিতরটা বদলে গেছে। হৃদয় দিয়ে এখন কেউ কিছুর মূল্যায়ন করে না। কিছুদিন আগে এক পুলিশ বন্ধু একটি গল্প শোনান। গল্পটি হলো অনেক বছর আগে আফ্রিকার এক দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে। সে দেশের একটি প্রদেশের এসপি সাহেব একদিন সব অফিসারকে ডাকলেন। বললেন, একজন কুখ্যাত অপরাধীকে মেরে ফেলতে হবে। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশ ও সমাজ উপকৃত হবে। পুলিশ প্রশাসন প্রশংসিত হবে। আর তোমাদের মাঝে যে এ কাজটি করবে তার জন্য বিশেষ পুরস্কার থাকবে। কেউই রাজি হন না। একপর্যায়ে একজন সিপাই রাজি হলেন। তার শর্ত ছিল তাকে অফিসার করে দিতে হবে। এসপি সাহেব আইজিপি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করলেন, সমস্যা নেই। সিপাইকে পদোন্নতি দেওয়া হবে।

নির্দিষ্ট রাতে কথিত কুখ্যাত অপরাধীকে নেওয়া হলো ক্রসফায়ারের জন্য। পুলিশের সবাই একমত এই অপরাধীকে আদালতে নেওয়া হলে বিচারে দীর্ঘ সময় লাগবে। তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ সাক্ষী না দিলে ছাড়াও পেয়ে যেতে পারে। তাতে সমস্যা বাড়বে। এ কারণেই মধ্যরাতে বন্দুকযুদ্ধের সিদ্ধান্ত। নির্ধারিত রাতে অপরাধীকে নিয়ে যাওয়া হয় গভীর জঙ্গলে। আফ্রিকান দেশ। নীরব-নিস্তব্ধ জঙ্গল। হঠাৎ সংশ্লিষ্ট সিপাইটি বলল, ‘স্যার আমি এ কাজ করতে পারব না। আমার হাত-পা কাঁপছে। কোনোভাবেই এ অন্যায় কাজ করা সম্ভব নয়। হাকিম বা ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ না দিলে কোনো দিন ফাঁকা গুলিও চালাইনি। এখন এ কাজ কী করে করব? ঈশ্বর বলে একজন তো আছেন। তিনি কি আমাকে ক্ষমা করবেন?’ এসপি সাহেব তার পাশে দাঁড়ালেন। বললেন, ‘আইজি সাহেবসহ উপরের সবাইকে খবরটা দিয়ে দিয়েছি। এখন না করলে আমার বিপদ। তুমি কাজটা কর, পদোন্নতির পাশাপাশি নগদ অর্থও দেব।’ সিপাই বলল, ‘স্যার, আপনি আমার পাশে এসে দাঁড়ান।’ এসপি সাহেব পাশে গেলেন। তারপর চোখ বাঁধা অপরাধীর দিকে বন্দুক তাক করে সিপাই বলল, ‘হে ঈশ্বর! আমার উপরের কর্মকর্তার নির্দেশে আমি গুলি চালালাম। তুমি আমাকে ক্ষমা কর।’ এর পরের ঘটনা অন্যরকম। সেই এসপি দেশটির অন্য প্রদেশে বদলি হয়ে পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি হয়েছেন। একদিন শুনলেন, তার অধীনে একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর আসছেন ক্রসফায়ার এক্সপার্ট। তিনি খুশি হলেন। কারণ অপরাধ বেড়ে গেছে সমাজে। চারদিকে কুখ্যাত অপরাধীদের যন্ত্রণায় স্থির থাকা মুশকিল। সাধারণ মানুষের ঘুম হারাম। ভালোই হলো। আগত ইন্সপেক্টর এসেই স্যালুট দিতেই ডিআইজি দেখলেন, তিনি তাকে চেনেন। প্রথম ক্রসফায়ারের নায়ক সেই সিপাই এই ইন্সপেক্টর। তিনি বললেন, ‘আমি তোমাকে এএসআই করেছি। অনেক পদোন্নতি পেয়েছো। খুশি হলাম দেখে। তোমার খবর বল। কী করেছো? পদোন্নতিও পেয়েছো দেখি অনেক।’ ইন্সপেক্টর বললেন, ‘স্যার, এখন দেশে অপরাধ বেড়েছে। ক্রসফায়ারও বেড়েছে। আপনার হাত দিয়ে শুরু। এখন নিয়মিত এই কাজে আমাকে সবাই ডাকে। কী আর করব বলেন। প্রথম দিন হাত কেঁপেছিল। এখন আর হাত কাঁপে না। দেশে ক্রাইম বেড়েছে। আবার এলাম আপনার কাছে, কাজে লাগান। পরের পদোন্নতি আপনার হাত থেকেই নিতে চাই।’ অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘জলি এলএলবি-২’ ছবিতে বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে চমৎকার বর্ণনা রয়েছে। এ ছবিতে মূল অপরাধীকে রক্ষা করতে একই নামের আরেকজনকে গুলি করে মেরে ফেলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তার একের পর এক পদোন্নতি শুধু ক্রসফায়ারের কারণে। শেষ পর্যন্ত আইনজীবী জলি সবকিছু আদালতে নিয়ে আসেন। আদালত পুলিশ কর্মকর্তার বিপক্ষে রায় দেয়।

পুরো ঘটনাটা নিছক গল্প হলেও আমাদেরও ভাবনার সময় এসেছে। কারণ সময় থেমে থাকে না। সময় বহমান। আমাদের এই বহমান সময়কে ঘিরে নতুন ভাবনায় যেতে হবে। ইতিহাস সময়কে ঘিরেই তৈরি হয়। সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অপরাধ দমনে ঠুনকো চিকিৎসায় কাজ হবে না। কাজ করতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে। সেই পরিকল্পনার মূলভিত্তি হওয়া দরকার আইনের শাসন। সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলায় স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে পারে আইনের শাসনের বাস্তবায়ন, অন্য কিছু নয়। বিশ্লেষকরা অনেক কিছু বলবেন। কিন্তু বাস্তবতাকে অস্বীকার বা পাশ কাটানোর সুযোগ নেই।

লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ