মেয়েকে আটকে রেখে বছরের পর বছর নির্যাতন সাবেক কংগ্রেস মন্ত্রীর!

প্রকাশিত: ১:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০২০

মেয়েকে আটকে রেখে বছরের পর বছর নির্যাতন সাবেক কংগ্রেস মন্ত্রীর!

অনলাইন ডেস্ক

নিজ মেয়েকে ঘরে আটকে রেখে বছরের পর বছর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কংগ্রেসের সাবেক মন্ত্রী রাজকুমার চৌহানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েটিকে উদ্ধার করেছে দিল্লি মহিলা কমিশন।

সোমবার রাতে চৌহানের মেয়েকে দিল্লির পশ্চিম বিহারের বাড়ি থেকে ‘উদ্ধার’ করে একটি আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে মহিলা কমিশন। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশ সাবেক এ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করে একটি নিয়মিত ডায়েরি (ডিডি) করেছে।

খবরে বলা হয়, কংগ্রেসের চার বারের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী রাজকুমার চৌহান বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন তার মেয়ে। তিনি এতটাই ভীত যে, বাবার বাড়িতে আর ফিরে যেতে চাইছেন না। দিল্লি মহিলা কমিশনের কাছে আশ্রয় ও নিরাপত্তা চেয়েছেন।

মহিলা কমিশন জানিয়েছে, শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পেয়ে সোমবার রাতে তারা রাজকুমার চৌহানের বাড়িতে পুলিশ নিয়ে অভিযান চালায়।

এর আগে চৌহানের মেয়ে মহিলা কমিশনকে চিঠি দিয়ে তাকে দিল্লির পশ্চিম বিহারের বাড়ি থেকে উদ্ধার করার আবেদন জানিয়েছিলেন।

ওই চিঠিতে তিনি বাবার পাশাপাশি ভাইয়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন।

দুই সন্তানের জননী ওই নারী চিঠিতে লেখেন, তাকে বাড়িতে একরকম বন্দি করে রাখা হয়েছে। বাড়ির বাইরে যেতে দেয়া হয় না। দুজন মিলে মাঝেমধ্যেই তাকে মারধর করে।

ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলে কমিশন জানিয়েছে, ১৯৯৯ সালে মেয়েটির বিয়ে হয়েছিল। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় গত ১০ বছর ধরে দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে রয়েছেন। চণ্ডীগড়ের আদালতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে। মামলাটি এখনও আদালতে ঝুলে রয়েছে।

নির্যাতিতার ভাষ্য, তার স্বামী আবার বিয়ে করুক বা এই মামলা নিষ্পত্তি হোক, বাবা সেটা চান না। এছাড়া তিনি নিজেও নতুন করে জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, পরিবারের ‘সম্মানের’ কথা ভেবে তা করেননি।

মেয়েটি কমিশনকে জানিয়েছে, বাবা বেআইনিভাবে তাকে ঘরে আটকে রেখেছেন। বাড়ির বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। তাই বছরের পর বছর ধরে ঘরেই একরকম বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

নির্যাতিতার ছোট মেয়ের সঙ্গে কথা বলেও মহিলা কমিশন অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।

কমিশনকে তিনি আরও জানিয়েছেন, তিনি আর বাবা বাড়িতে থাকতে চান না। তার সঙ্গে বাবা-ভাই যে হিংসাত্মক আচরণ করেছে, তার জন্য শাস্তিও দাবি করেন তিনি।

এদিকে এ ঘটনায় মামলা না করে শুধু ডিডি করায় দিল্লি পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ দিল্লি মহিলা কমিশন। এক চিঠি লিখে কমিশন জানতে চেয়েছে, অভিযুক্তের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড শক্তিশালী হওয়ার কারণেই কি পুলিশ এফআইআর করতে ভয় পেয়েছে?

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ