মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টিলা কেটে সাবাড়, ঘটছে পরিবেশের বিপর্যয়

প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টিলা কেটে সাবাড়, ঘটছে পরিবেশের বিপর্যয়

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্নস্থানে টিলা কেটে বাড়িঘর নির্মাণ, মাটি বিক্রি, কৃষিজমি তৈরি করা হচ্ছে। বনের টিলা ঘেষা ব্যক্তিগত এসব পাহাড়ি টিলা কেটে নিশ্চিহ্ন করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতির তোয়াক্কা না করেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষিক এলাকা সংলগ্ন এসব প্রাকৃতিক টিলা অবাধে কাটা হচ্ছে। ফলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। ঘটনাস্থল সরেজমিন তদন্ত করছেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাদে উবাহাটা, সরইবাড়ি, মধ্য কালাছড়া, বড়চেগ গ্রাম এলাকায় প্রাকৃতিক টিলা কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের যোগসাজষে তারা টিলা কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করছেন। বনের পার্শ্ববর্তী টিলা থাকায় এসব এলাকায় বন্যপ্রাণির চলাচল ও খাবার সংগ্রহে বিচরণ করে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকা থাকায় স্থানীয়রা এসব উঁচু টিলা কেটে বাড়িঘর নির্মাণ, মাটি বিক্রি, কৃষিজমি তৈরি ও মাটি দিয়ে পুকুর ভরাট করছেন।

তবে নিজস্ব সম্পত্তি হলেও টিলাকাটার বিষয়ে প্রশাসন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি গ্রহণের প্রয়োজনবোধ মনে করছেন না স্থানীয় লোকজন। বাদে উবাহাটা গ্রামের দ্বিন ইসলাম, আব্দুল মালিক, ইব্রাহিম মিয়া, মধ্যকালাছড়ার আব্দুর রশীদ ব্যক্তিগত কাজে ও সরইবাড়ি এলাকার কয়েকটি স্থানে টিলা কাটা চলছে। বসতি তৈরির জন্যে অবৈধভাবে টিলা কাটতে গিয়ে কয়েকমাস আসে করিমবাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকায় টিলার মাটি ধ্বসে জলিকা নামে এক মহিলা মারা যান। প্রাণি, উদ্ভিদ ও জীবজগতের জন্যে পাহাড়, টিলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এক শ্রেণির মানুষের আগ্রাসী ভূমিকা পরিবেশকেও বিনষ্ট করছে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানান, এসব এলাকা কিছুটা ুর্গম ও আড়ালে থাকায় প্রশাসনের নজর থাকে না। বাহির থেকে কেউ আসলে টিলা কাটার দৃশ্য খেতে পান। এই টিলাগুলো প্রাকৃতিকভাবে উঁচু মানের রয়েছে। নানা উচ্চতার অসংখ্য টিলা সমতলে পরিণত হয়েছে। টিলাগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকাশ্য দিবালোকে কেটে ফেলা হলেও জনপ্রতিনিধিসহ কারো মাথা ব্যাথা নেই। ফলে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির স্থল হিসাবে পরিণত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সরেজমিন সার্ভেয়ারের মাধ্যমে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পান।

তবে টিলা কাটার সাথে জড়িত স্থানীয়দের াবি, এসব টিলা তারে নিজস্ব সম্পত্তি থাকায় নিজেদের প্রয়োজনে কেটে ফেলছেন। এতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরী বলেন, সরজমিন গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি তবে অনেক দিনের পুরানা টিলাকাটা রয়েছে। ব্যবস্থা গ্রহনে মৌলভীবাজারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ