মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দুর্লভ পাখির আবাসস্থল, রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ

প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দুর্লভ পাখির আবাসস্থল, রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ

স্বপন দেব, নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় একটি বাগানের ছনখোলায় বাসা বেধেছে দুর্লভ প্রজাতির পাখিরা। সেখানে ১৮ প্রজাতির দুর্লভ পাখি, বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখি, বনো খরগোশ আর শিয়ালসহ স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। সম্প্রতি বন বিভাগ ওই জায়গাটি বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে।

জানা গেছে, ন্যাশনাল টি কোম্পানির কুরমা চা বাগানের ৮ নম্বর সেকশনের একটি অংশ ছনখোলা। ১০ একরজুড়ে এই জায়গাটি ঘাস ও ছন আচ্ছাদিত একটি গো-চারণভূমি। গত ৩ মার্চ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সিলেট বিভাগ থেকে কুরমা ও পাত্রখোলা চা বাগানের ম্যানেজারকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, এই জায়গা পরিদর্শনে গিয়ে দুর্লভ প্রজাতির পাখি মুনিয়া, লাল মুনিয়া, সাইবেরিয়ান স্টোনচাট, বাটন কোয়েল, কয়েক প্রজাতির পেঁচা, স্তন্যপায়ী খরগোশ ও শিয়াল দেখা যায়।

পুরো জায়গাটিতে বন্যপ্রাণীর প্রাচুর্য এত বেশি যে, কয়েক মিনেটে যে কেউ হরেক রকমের পাখি ও তাদের বাসা সহজেই দেখতে পাবেন। বন বিভাগ মনে করে, এই জায়গার ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন না করে সংরক্ষণ করলে কয়েক প্রজাতির বিরল পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী স্থানীয়ভাবে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

সম্প্রতি ছনখোলায় সরেজমিনে দেখা যায়, মাটিতে প্রাণীদের বড় বড় গর্ত। ঝোপের আড়ালে পাখির বাসা। জমিতে বিচরণ করছে গবাদি পশু। কুড়ানো হচ্ছে শুকনো লাকড়ি। মানুষ আর পশুর বিচরণে ঝোপ থেকে উড়াল দিচ্ছে নানা পাখি। ছানারা দৌড়াচ্ছে দিগি¦দিক। ছোটাছুটি করছে বনো খরগোশ। স্থানীয় বাসিন্দা অসিত দাস, রুপক দাশ জানান, এখানে আগে অনেক পাখি দেখা যেত। বাগান পার্শ্ববর্তী এলাকার শিকারিরা জাল ও বিষটোপ দিয়ে পাখি মেরে নিয়ে যায়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মুনিয়াসহ দুর্লভ কিছু পাখির জন্য এই জায়গাটি খুবই উৎকৃষ্ট।

কুরমা চা বাগানের ম্যানেজার মো. আক্তার শহীদ বলেন, ‘আমরা বন বিভাগের চিঠি পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। এই জায়গায় নতুন প্লেন্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। মানুষের যাতায়াত ও গবাদি পশুর বিচরণ বন্ধে এই ১০ একর জায়গায় নেটিং করার চিন্তা করছি। যাতে বাইরের মানুষ এসে এখানে দূর্লভ পাখিদের কোন ক্ষতি করতে না পারে। এ ছাড়া দুর্লভ পাখি ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় যা যা করা প্রয়োজন সবই চা বাগানের পক্ষ থেকে তা করা হবে।’

আমাদের ফেইসবুক পেইজ