মৌলভীবাজারে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৬

প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২১

মৌলভীবাজারে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৬

স্বপন দেব, নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজার জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪ জন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে ৬ জন সহ ১০ জনের মূত্যু হয়েছে। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১ জনের ও করোনা উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কমলগঞ্জে করোনা শনাক্ত হয়ে ২ জন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। কুলাউড়ায় এক পল্লী চিকিৎসক করোনায় মারা গেছেন।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা পজেটিভে নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পূর্বাশা আবাসিক এলাকার নাট্যব্যক্তি মৌসুমী বৈদ্য (৩০) মারা যান। করোনা উপসর্গ নিয়ে শ্রীমঙ্গলের মাইজদি এলাকার দিলারা বেগম (৬০), সিলেটের বালাগঞ্জের পৈলনপুর এলাকার আশিকুর রহমান (৭৫) ও একই এলাকার রফিক মিয়া (৮৫) মারা যান। এই ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন শ্রীমঙ্গল হাসপাতালের আরএমও ডাঃ ফয়ছল জামান।
করোনা শনাক্তের পর কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জালালপুর গ্রামের হারুন-অর রশীদ (৪৫) ও আলীনগর ইউনিয়নের যোগিবিল গ্রামের আমেনা বেগম (৬৫) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেছেন। করোনার উপসর্গ নিয়ে ছোট বোন মৃত্যুবরণকারী আমেনা বেগমকে দেখতে এসে সোমবার সকালে বড় বোন সবজান বিবি (৭০) মারা গেছেন।
এ বিষয়ে আলীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশা বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে আমেনা বেগম মারা যান। করোনার উপসর্গ নিয়ে তাকে দেখতে এসে তারই বড় বোনও মারা গেছেন। সোমবার বিকেলে দুই বোনের নামাজে জানাজা এক সাথে অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আলাউদ্দীন (৪৫) ও একই ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের ব্যবসায়ী শওকত আলী (৬২) করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এম. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, করোনা শনাক্ত ও উপসর্গ নিয়ে ৫ জন মারা যাওয়ার কথা শুনেছি। তবে এদের মধ্যে ২ জন এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়ে কারেনা শনাক্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাকি ৩ জন করোনার নমুনা এখানে দেননি।

কুলাউড়া উপজেলার উত্তর কুলাউড়া এলাকার জনপ্রিয় পল্লী চিকিৎসক জালাল উদ্দিন করোনা আক্রান্ত হয়ে সিলেট নর্থইস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ৭০টি নমুনা পরীক্ষায় পাঠালে ২৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা অনুযায়ী আক্রান্তের হার ৩৭.১ শতাংশ। এ পর্যন্ত জেলায় ৪ হাজার ৪শ’ ৩৫ জনের শরিরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ১ শত ২০ জন। হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৬৮ জন।
সরকারী হিসেবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় মৃত্যুবরণ করেন ৪৭ জন। তবে করোনায় আক্রান্ত মৃত্যুবরণকারী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে পাওয়া তথ্যে বে-সরকাররি হিসেবে জেলার বাহিরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৯ জন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ