মৌলভীবাজারে জীবিত গাছে ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন : ঘটতে পারে বড়ধরণের দূঘর্টনা, এ পযর্ন্ত ৬ জনের মৃত্যু !

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২০

মৌলভীবাজারে জীবিত গাছে ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন : ঘটতে পারে বড়ধরণের দূঘর্টনা, এ পযর্ন্ত ৬ জনের মৃত্যু !

স্বপন দেব, নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কুলাউড়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন জেলার বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ লাইনে ঘটছে প্রাণহানীর ঘটনা। প্রায় ু’যুগের বেশি জরাজীর্ণ লাইন সংস্কারে কর্তৃপক্ষ চরম উাসীন। লাইন মেরামত না করেই দেয়া হচ্ছে বেশ ূরে ূরে বাঁশের-কাঠের খুটিতে ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ। পিডিবি’র লাইন মেরামতে কি বরাদ্দ দেয় না? তবে এগুলো যায় কোথায় ? এ প্রশ্ন এলাকাবাসীর। লাইনের ওপর থাকা গাছপালা কাটা ও মেরামত না করায় সামান্য ঝড়-বাতাসে গাছপালা পড়ে তার ছিড়ে ঘটছে ুর্ঘটনা। বিদ্যুৎহীন হয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকরে। ্রুত এসব বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার না করলে ঘটতে পারে বড়ধরণের ূঘর্টনা। এলাকাবাসী বলেন, পিডিবি’র কর্তাব্যক্তিরা বিদ্যুৎ লাইনের সংস্কার কাজ না করে গত ৩-৪ মাসে ভুতুড়ে বিল দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সেবার পরিধি না বাড়িয়েই পিডিবি’র লোকজন গ্রাহক হয়রানি ও পকেট কাটায় ব্যস্ত রয়েছে। তাদের খামখেয়ালীতে কতজনের প্রাণ চলে যাচ্ছে। সামনে না জানি কতবড় বিপদ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
জানা গেছে, পিডিবি’র কুলাউড়া বিভাগের আওতাধীন বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এ বিদ্যুৎ লাইনের বেশির ভাগই ২৫-৩০ বছরের জরাজীর্ণ এবং অপরিকল্পিত। ভুমি থেকে কমপক্ষে ৯ মিটার ওপরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন টানানোর নিয়ম। কিন্তু এর তোয়াক্কা না করে পিডিবি’র অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাঁশের ও কাঠের খুটিঁতে অত্যন্ত কম উচ্চতায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। কোথাও জীবিত বাঁশ ও গাছকে খুটিঁ ব্যবহার করে সংযোগ দেয়ায় প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। বিদ্যুতায়িত হয়ে গত ১৬ আগস্ট ফুলতলা বাজারে আব্দুল ওয়াহিদ নামে এক দিনমজুর ও পাতিলাসাঙ্গনে ইমাম উদ্দিন হোসাইন নামক কিশোরের মৃত্যু ঘটেছে। গত বছরে পিডিবি’র অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান জুড়ী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সুনীল দেবনাথ, জসিম উদ্দীন, শাহপুরের ুই মাছ শিকারীসহ অন্তত ৬ ব্যক্তি। পিডিবি’র কুলাউড়া বিভাগ(কুলাউড়া,জুড়ী ও বড়লেখা) ায়িত্বে থাকা নিবার্হী প্রকৌশলী শামছ ই আরেফিন এর নিয়মিত তদারকি না থাকায় ক্রমেই এসব এলাকার লাইনগুলো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে বলে পিডিবি’র একটি সূত্র অভিযোগ করেন।
বড়লেখার কাশেমনগর, হাকাইতি, জুড়ীর চম্পকলতা, ভজিটিলা, মনতৈল, ভোগতেরা ও কালিনগর গ্রামে হালকা ঝড়ে ভেঙ্গে যাবে এমন কাঠের-বাঁশের অত্যন্ত ুর্বল অসংখ্য খুটিঁতে ৪৪০ ভল্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ এলটি লাইন থাকতে খো গেছে। রাস্তার ওপর থাকা বিদ্যুৎ সঞ্চালনকৃত তারের ুরত্ব ভুমি থেকে ২/৩ মিটারেরও কম। অনেক স্থানে বিদ্যুতের তার ও খুঁটি ঝুলে রয়েছে। অসাবধান হয়ে চলাফেরা করলেই ঘটবে ুর্ঘটনা। জীবন্ত গাছের সাথে গাছ ও তারের মাঝখানে বাঁেশর চটি রেখে গাছের সাথে বেধে ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন টানানো হয়েছে। এতে যেকোন সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে বড়ধরনের ুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। চম্পকলতা গ্রামের সত্তার আলী জানান, চম্পকলতা প্রাইমারী স্কুলের উত্তর পাশে ও জামে মসজিরে মধ্যস্থানে ীর্ঘনি ধরে অত্যন্ত নিচ দিয়ে মেইন লাইন ফেলা ও নড়বড়ে কাঠের খুঁিট ভেঙ্গে পথচারীরা বিদ্যুতায়িত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
বড়লেখা ও জুড়ীর ায়িত্বে থাকা পিডিবি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনছারুল কবীর শামীম মঙ্গলবার(২৫ আগস্ট) বিকেলে বলেন, এলাকায় কিছু জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ লাইন রয়েছে। আমি মুলত পিডিবি’র বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের ায়িত্বে রয়েছি। তারপরও সাধ্যমত রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করছি। ওই এলাকায় প্রজেক্টের মাধ্যমে নতুন লাইন নির্মাণের কাজ চলছে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ