মৌলভীবাজার যে এলাকাগুলো রেড, ইয়েলো, গ্রীন জোন ঘোষণা করা হলো

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২০

মৌলভীবাজার যে এলাকাগুলো রেড, ইয়েলো, গ্রীন জোন ঘোষণা করা হলো

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ঃ করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বিবেচনায় বিভিন্ন এলাকাকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করা হচ্ছে। জেলায় সংক্রমণ হার বিবেচেনা করে দেখা গেছে অধিকাংশ এলাকাই পড়েছে ইয়েলো ও গ্রিনজোনে। কিছু অংশ পড়েছে রেড জোনে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে-

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা:
ইয়েলো জোন : খলিলপুর, আখাইলকুড়া, কনকপুর ও গিয়াসনগর ইউনিয়ন এবং মৌলভীবাজার পৌরসভা পড়েছে ইয়েলো জোনে।

গ্রিন জোন : আপার কাগাবলা, মনুমুখ, কামালপুর, মোস্তফাপুর, নাজিরবাদ, চাঁদনীঘাট, একাটুনা ও আমতৈল ইউনিয়ন পড়েছে গ্রিন জোনে। সদর উপজেলায় রেড জোন এখনও নাই।

কুলাউড়া উপজেলা:
রেড জোন : পৌর এলাকার মাগুরা ও মনসুর এলাকা এবং বরমচাল ইউনিয়নের নন্দনগর পড়েছে রেড জোনে।
ইয়েলো জোন : জয়চন্ডী, ব্রাহ্মণবাজার, কাদিপুর (মনসুর এলাকা) ও হাজীপুর ইউনিয়ন পড়েছে ইয়েলো জোনে।
গ্রিন জোন : ভুকশিমইল, ভাটেরা, কুলাউড়া সদর, রাতগাঁও, টিলাগাঁও, কর্মধা, পৃথিমপাশা ও শরীফপুর ইউনিয়ন পড়েছে গ্রিন জোনে।

রাজনগর উপজেলা:
ইয়েলো জোন : মনসুরনগর, পাঁচগাঁও ও রাজনগর সদর ইউনিয়ন পড়েছে ইয়েলো জোনে।
গ্রিন জোন : ফতেহপুর, উত্তরবাগ, কামারচাক, টেংরা ও মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পড়েছে গ্রিন জোনে।
রাজনগরে উপজেলায় রেড জোন এখনও নাই।

জুড়ী উপজেলা:
ইয়েলো জোন : জায়ফরনগর ও গোয়ালবাড়ি ইউনিয়ন পড়েছে ইয়েলো জোনে।
গ্রিন জোন : পশ্চিম জুড়ী, পূর্ব জুড়ী, সাগরনাল ও ফুলতলা ইউনিয়ন পড়েছে গ্রিন জোনে। জুড়ী উপজেলায় রেড জোন এখনও নাই।

কমলগঞ্জ উপজেলা:

ইয়েলো জোন : আলীনগর, মাধবপুর ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন এবং কজমলগঞ্জ পৌরসভা পড়েছে ইয়েলো জোনে।
গ্রিন জোন : রহিমপুর, পতনউষার, মুন্সীবাজার, শমসেরনগর, আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়ন পড়েছে গ্রিণ জোনে। কমলগঞ্জ উপজেলায় রেড জোন এখনও নাই।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা:
রেড জোন : পৌর এলাকার কালিঘাট রোড, শ্যামলী, ক্যাথলিক মিশন রোড, সদর ইউনিয়নের রুপসপুর, সবুজভাগ, মুসলিমবাগ, লালবাগ এবং বিরাইমপুর রেড জোনে পড়েছে।
ইয়েলো জোন : কালাপুর, আশিদ্রোন ও কালিঘাট ইউনিয়ন ইয়েলো জোনে পড়েছে।
গ্রিন জোন : মির্জাপুর, ভুনবীর, সিন্দুরখান, রাজঘাট ও সাতগাঁও ইউনিয়ন গ্রিন জোনে পড়েছে।

বড়লেখা উপজেলা:
ইয়েলো জোন : নিজ বাহাদুরপুর,বড়লেখা সদর ও সুজানগর ইউনিয়ন রয়েছে ইয়েলো জোনে।
গ্রিন জোন : বর্ণি, তালিমপুর, ক্ষিণবাগক্ষিণ, ক্ষিণবাগ উত্তর,াসের বাজার, উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন এবং বড়লেখা পৌরৈসভা পড়েছে গ্রিন জোনে।
বড়লেখা উপজেলায় রেড জোন এখনও নাই।

রেড জোনে মৌলভীবাজারের যেসব এলাকা
মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে- শ্রীমঙ্গল পৌরসভা এবং সদর ইউনিয়নের কিছু অংশ রেড জোনে পড়েছে। এছাড়া কুলাউড়া পৌরসভা এবং পৌর শহর সংলগ্ন কিছু এলাকা রেড জোনে পড়েছে।

শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট রোড, শ্যামলী, ক্যাথলিক মিশন রোড, রুপসপুর, সবুজভাগ, মুসলিমবাগ, লালবাগ এবং বিরাইমপুর, কুলাউড়ার মাগুরা-মনসুর, নন্দনগর রেড জোনে পড়েছে।
জেলার বাকি সব এলাকা ইয়েলো এবং গ্রিনজোনে পড়েছে।

সির্ভিল সার্জন বলেন, সংক্রমেণর হার বিশ্লেষণ করে মৌলভীবাজারের প্রত্যেক উপজেলা ও ইউনিয়নের রেড, গ্রিন ও ইয়েলো জোনে ভাগ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) মন্ত্রণালয়ে সেটা প্রেরণ করা হয়েছে। এটি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা হবে।

কিভাবে জোন ভাগ হয়:
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো এলাকায় ১ লাখের মধ্যে ১০ জন করোনা আক্রান্ত হলে রেড জোন। ৩ থেকে ৯.৯ শতাংশ আক্রাšত হলে ইয়েলো জোন। আর ০ থেকে ২.৯ শতাংশ আক্রান্ত হলে গ্রিন জোন।

জানা যায়, রেড জোন চিহ্নিত এলাকায় পুরো লকডাউন করে দেওয়া হবে। এ জোনের কেউ বাইরে যেতে বা বাইরে থেকে কেউ এ জোনের ভেতরে যেতে পারবে না। এ জোনের দোকানপাট, বিপণিবিতান, সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় সব বন্ধ থাকবে। এমনকি এ জোনে ঘরে বসে নামাজ আদায় করতে নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা জোন ভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৯১ জন, সুস্থ হয়েছে ৬৯ জন, মারা গেছেন ৪ জন। তবে ৬ শতাধিক রিপোর্ট অপেক্ষমান আছে।

সিভিল সার্জন ডা. তওহীদ আহমদ মঙ্গলবার বলেন, অন্য জেলার তুলনায় মৌলভীবাজারে আক্রান্তের হার এখনও কম। যে কারণে জেলার অধিকাংশ এলাকা পড়েছে ইয়েলো ও গ্রিন জোনে।
করোন সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে সচেতন হতেই হবে। এর কোন বিকল্প নাই। আগামী ২ মাস আমাদের জন্য বিপদ হতে পারে। সাবধনতাই পারে এ বিপদ থেকে রক্ষা করতে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ