ম্যাক্সওয়েল-ক্যারির রেকর্ড জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার অবিশ্বাস্য জয়

প্রকাশিত: ১:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

ম্যাক্সওয়েল-ক্যারির রেকর্ড জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার অবিশ্বাস্য জয়

স্পোর্টস ডেস্ক :
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও অ্যালেক্স ক্যারির রেকর্ড জুটিতে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ৩ উইকেটের জয়ে ট্রফি নিশ্চিত করেই বাড়ি ফিরল অ্যারন ফিঞ্চের নেতৃত্বাধীন দলটি।

ম্যাক্সওয়েল-অ্যালেক্স ক্যারি ষষ্ঠ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ২১২ রানের জুটি গড়েছেন। আর এ জুটির পথেই তারা তুলে নিয়েছেন জোড়া সেঞ্চুরি।

তবে ম্যাক্সওয়েল-ক্যারির চেয়েও ম্যাচ জয়ে অনন্য ভূমিকা রাখেন পেস বোলার মিসেল স্টার্ক। ম্যাচের শুরু ও শেষটা দুর্দান্তভাবে শেষ করেছেন এ অভিজ্ঞ পেসার।

ইংল্যান্ডের ইনিংস শুরুর প্রথম দুই বলেই সেরা দুই ব্যাটসম্যান জেসন রয় এবং জো রুটের উইকেট তুলে নেন মিসেল স্টার্ক। শুরুর মতো শেষটাও দুর্দান্তভাবে করেন তিনি। জয়ের জন্য শেষ তিন ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ২১ রান।

১৮ বলে ২১ রান খুবই সহজ ব্যাপার। উইকেটে ছিলেন দুই সেঞ্চুরিয়ান ম্যাক্সওয়েল ও ক্যারি। ৪৮তম ওভারের তৃতীয় বলে আদিল রশিদের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন ৯০ বলে চারটি চার ও দৃষ্টিনন্দন সাত ছক্কায় ১০৮ রান করা ম্যাক্সওয়েল। সেই ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭ রান তুলতে সক্ষম হয় অস্ট্রেলিয়া।

শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। উইকেটে ছিলেন সেঞ্চুরিয়ান অ্যালেক্স ক্যারি, তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন পেট কামিন্স। ৪৯তম ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে ক্যারির উইকেট তুলে নিলে কঠিন বিপদে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ১১৪ বলে সাতটি চার ও দুই ছক্কায় ১০৬ রানে ফেরেন ক্যারি।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রান। কিন্তু উইকেটে কোনো সেট ব্যাটসম্যান না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যান অসিরা। নিশ্চিত জয়ের ম্যাচেও তারা পরাজয়ের শঙ্কায় ছিল।

৫০তম ওভারে আদিল রশিদের করা প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেন মিসেল স্টার্ক। পরের দুই বলে দুই সিঙ্গেল রান নেন স্টার্ক ও কামিন্স। শেষ তিন বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। ওভারের চতুর্থ বলে সুইফ শটে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মেতে ওঠেন সেই মিসেল স্টার্ক। যে স্টার্কের ইংল্যান্ড ইনিংসের শুরুর দুই বলেই দুই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়ে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন।

শূন্য রানে ২ উইকেট হারানো ইংল্যান্ডের একপর্যায়ে স্কোর ছিল ৯৬/৪। সেই অবস্থায় স্যাম বিলিংসকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার জনি বেয়ারস্ট্রো। পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েন ১১৪ রানের জুটি। এর পর মাত্র ১০ রানের ব্যবধানে ফেরেন তারা। ৫৭ রানে ফেরেন বিলিংস আর ক্যারিয়ারের দশক সেঞ্চুরি করে আউট হন বেয়ারস্ট্রো। শেষ দিকে ক্রিস ওকসের ৩৯ বলের ৫৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটে ৩০২ রান করে ইংল্যান্ড।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিতে এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া হেরে যায় দ্বিতীয় ম্যাচে। ট্রফি নিশ্চিত করতে হলে বুধবার করতে হতো ৩০৩ রান। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বেকায়দায় পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

খেলার এমন ক্লান্তিলগ্নে হাল ধরেন ম্যাক্সওয়েল ও ক্যারি। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েই নিশ্চিত পরাজয়ের ম্যাচে জয়ের স্বপ্ন দেখে অস্ট্রেলিয়া। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন ৩ বলে এক চার ও এক ছক্কায় অপরাজিত ১১ রান করা মিসেল স্টার্ক।

ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩০২/৭ (বেয়ারস্ট্রো ১১২,বিলিংস ৫৭, ক্রিস ওকস ৫৩*; অ্যাডাম জাম্পা ৩/৫১, মিসেল স্টার্ক ৭৪/৩)।

অস্ট্রেলিয়া: ৪৯.৪ ওভারে ৩০৫/৭ (ম্যাক্সওয়েল ১০৮, ক্যারি ১০৬, ওয়ার্নার ২৪)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (অস্ট্রেলিয়া)।

তিন ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ২-১ ব্যবধানে জয়ী।

সিরিজসেরা: গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (অস্ট্রেলিয়া)।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ