যুক্তরাজ্যের পপলার এণ্ড লাইম হাউজে প্রার্থী নির্বাচন রোববার: বাঙালী প্রার্থী আপসানা বেগম

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৯

যুক্তরাজ্যের পপলার এণ্ড লাইম হাউজে প্রার্থী নির্বাচন রোববার: বাঙালী প্রার্থী আপসানা বেগম

সিলনিউজবিডি ডেস্ক: বাংলাদেশী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের রাজনীতি সচেতন মানুষের দৃষ্টি এখন পপলার এণ্ড লাইম হাউজ নির্বাচনী আসনের দিকে। কারণ এই আসনের পরবর্তী এমপি কে হবেন তার ফায়সালা হবে আগামী ২৭ অক্টোবর রোববার। ওইদিন পপলার এণ্ড লাইম হাউজের ১৫০০ লেবার সদস্য গোপন ব্যালটের মাধ্যমে পরবর্তী এমপি প্রার্থী নির্বাচিত করবেন। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লেবার পার্টির শর্ট লিস্টে থাকা প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচারণা জমে ওঠেছে।

প্রায় ১৬ জন প্রার্থী আবেদন করলে লেবার পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটি (এনইসি) সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে ৩ জনের নাম শর্ট লিস্ট করে তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তিনজন হলেন, লেবার পার্টির লন্ডন রিজিয়নের বোর্ড মেম্বার বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত আপসানা বেগম, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কেবিনেট মেম্বার, বো ওয়েস্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সোমালী বংশোদ্ভুত আমিনা আলী ও বৃটিশ বংশোদ্ভুত হিদার পিটো। তিন প্রার্থী এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই লেবার পার্টির সদস্যদের ঘরে ঘরে দরজায় নক করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে ব্যস্ত। তাছাড়া ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপেও চলছে জোর প্রচারণা। যেহেতু পপলার এণ্ড লাইম হাউজ হচ্ছে লেবার পার্টির শতভাগ নিরাপদ আসন তাই রোববারের ভোটাভুটিতে যিনি নির্বাচিত হবেন তিনিই পরবর্তীতে লেবারের পার্টির এমপি হবেন। আর তাই প্রার্থীরা ২৭ তারিখের প্রার্থী নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্ব দিয়ে ক্যাম্পেইন অব্যাহত রেখেছেন।

স্থানীয় লেবার পার্টি সূত্রে জানা গেছে, ২৭ অক্টোবর রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় পূর্ব লন্ডনের বো কমন এলাকার সেন্ট পলস চার্চে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ৪টায় হলের দরজা খুলে দেয়া হবে। নির্বাচনে ভোট দিতে যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে (সাড়ে ৪ টার আগে) সদস্যদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। লেবার পার্টির এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রার্থীদের বক্তব্য শুরু হওয়ার আগে সকল সদস্যকে হলে পৌঁছতে হবে। কেউ প্রথম প্রার্থীর বক্তব্য শুরু হওয়ার পরে হলে প্রবেশ করলে ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তাছাড়া ভোটে অংশগ্রহণ করতে হলে সভা চলাকালে পূর্ণ সময় হলে উপস্থিত থাকতে হবে। লেবার সদস্যদেরকে হলে প্রবেশের সময় ক্রেডেনশিয়াল ছাড়াও মেম্বারশীপ কার্ড অথবা প্রুফ অব আইডি নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ওইদিনই ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

তিন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশী বাংশোদ্ভুত আপসানা বেগম হচ্ছে নতুন প্রজন্মের প্রার্থী। তিনি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা মরহুম মনির উদ্দিন আহমদ ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সিরিমনিয়াল মেয়র। বাবার রাজনৈতিক জীবন তাঁকে রাজনীতিতে আসতে উদ্ধুদ্ধ করে। তিনি লেবার পার্টির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার পর খুব কম সময়ের মধ্যে সাফল্য লাভ করেন। টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পার্টির সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি পপলার এণ্ড লাইম হাউজ আসন লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান, মোমেন্টামের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটিং গ্রপের সদস্য ও লন্ডন লেবার পার্টির লন্ডন রিজিয়নের বোর্ড মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কমিউনিটির বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল কমিউনিটি ল্যাগুয়েজ সার্ভিসের বাজেট সম্পুর্ণভাবে কেটে ফেলতে চাইলে একটি জোরালো ক্যাম্পেইন গড়ে ওঠে। এতে আপসানা বেগম গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেন। এরআগে তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসের তিনটি ডে নার্সিারী বন্ধের ঘোষণা দিলে এ ব্যাপারেও তিনি সোচ্চার ভুমিকা পালন করেন। মূলত এসব ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি কমিউনিটির মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ২৭ তারিখের প্রার্থী নির্বাচনে তিনি সদস্যদের কাছে ভোট চেয়েছেন।

লেবার শর্টলিস্টেড প্রার্থী আপসানা বেগম স্থানীয় বাংলা মিডিয়াকে বলেছেন, আমি আপনাদের সমর্থন চাই। আপনাদের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে পরবর্তীতে এমপি নির্বাচিত হলে আমাকে সবসময় আপনাদের পাশে পাবেন। তিনি বলেন, তৃণমুলের মানুষের সাথে আমার সম্পর্ক। আমি তৃণমুলের মানুষের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি। টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছি। আপনাদের ভালোবাসায় নির্বাচিত হয়ে আপনাদেরই সেবা করতে চাই।

নির্বাচিত হলে পপলার এন্ড লাইম হাউজের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কী কী করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আপসানা বেগম বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসে শিশু দারিদ্রের হার সারাদেশের চেয়ে বেশি। তাই শিশু দারিদ্র দূরীকরণ হবে আমার অন্যতম প্রধান টার্গেট। বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট তৈরি করে দারিদ্র দূর করতে কাজ করবো। তাছাড়া টাওয়ার হ্যামলেটসে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। এখানকার মানুষ নিম্ন বেতনে চাকরি করে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে হিমশিম খান। তাই দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হবে মানুষের দৈনন্দিন উপার্জন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, বৃটেনের ফাইন্যানশিয়াল ক্যাপিটাল খ্যাত ক্যানারী ওয়ার্ফের অবস্থান আমার নির্বাচনী এলাকায়। এই এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ক্যানারী ওয়ার্ফের সাথে ভালো যোগাযোগের মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস। এটা আমার একটি বাড়তি সুযোগ।

এদিকে সোমালী বংশোদ্ভুত আমিনা আলীও একজন অভিজ্ঞ লেবার রাজনীতিক। তিনি বো ওয়েস্ট থেকে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত কাউন্সিলার এবং মেয়র জন বিগসের কেবিনেটে আডলট, হেলথ এন্ড ওয়েলবিং বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার। তিনি বৃটিশ-বাংলাদেশী এমপি রূপা হকের কেস ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি তাঁকে যোগ্য প্রার্থী দাবী করে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়া হিদার পেটো হচ্ছেন লেবার পার্টির এলজিবিটি কো-চেয়ারম্যান। তিনি ইতোপুর্বে লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য নির্বাচন লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি পপলার এন্ড লাইম হাউজের সর্বস্তরের মানুষের সেবার জন্য লড়বেন দাবী করে সকলের ভোট চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, পপলার এণ্ড লাইম হাউজের বর্তমান এমপি জিম ফিটজপ্যাট্রিক দীর্ঘ ২২ বছর পর গত ২৫ জুন ‘রি-সিলেকশন অব এমপিজ প্রো-ফরমা’তে স্বাক্ষর করে আগামী নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী না হওয়ার বিষয়টি লেবার পার্টির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন। তাঁর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাঙালি অধ্যুষিত পপলার এণ্ড লাইম হাউজ আসনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। জিম ফিটজপ্যাট্রিক ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পপলার এন্ড ক্যানিং টাউন আসনের এমপি ছিলেন। পরবর্তীতে নির্বাচনী আসনগুলোর সীমানা পরিবর্তনের পর ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পপলার এণ্ড লাইম হাউজ আসনের এমপি দায়িত্ব পলন করছেন। তিনি সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বৃটিশ পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। লেবার পার্টি এই আসনে শুধু মহিলা প্রার্থীদের নির্বাচন করছে।( সূত্র: দেশ পত্রিকা)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ