যুক্তরাজ্যে ফায়ার স্টেশনের প্রথম হিজাবি কর্মী

প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২১

যুক্তরাজ্যে ফায়ার স্টেশনের প্রথম হিজাবি কর্মী

অনলাইন ডেস্ক
হিজাব পরে দুই বছর যাবত যুক্তরাজ্যের পশ্চিম ব্রিজফোর্ড ফায়ার স্টেশনে কাজ করছেন ইউরোসা আরশিদ। প্রথম হিজাবি নারী হিসেবে দেশের নিরাপত্তায় অসামান্য অবদানের জন্য তাঁর নিয়োগের দুই বছর পূর্তি উদযাপন করে নটিংহামশায়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাসপ্লের বাসিন্দা আরশিদ জানান, তাঁর ধারণায় ছিল না যে তিনিই যুক্তরাজের প্রথম হিজাবি দমকলকর্মী হিসেবে হতে যাচ্ছেন।

আরশিদ বলেন, আমি যখন আবেদন করছি তখন আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানতাম না। আমার চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পরই আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারি।

‘শুরুতে জানতে না পারলেও পরবর্তীতে আমি কিছুটা হতাবক হই। তবে আমার মধ্যে সব সময় একজন দমকল কর্মী হওয়ার ইচ্ছা ছিল। ছোটবেলা থেকেই আমি এ স্বপ্ন দেখতাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘সব সময় আমি সব কাজকে সমান ‍দৃষ্টিতে দেখি। আমি অত্যন্ত গর্বিত যে সমাজের অনেক বাধা-বিপত্তি ভেঙে আমি নতুন জগত উম্মোচন করেছি। তবে নিজেকে ব্যতিক্রমী কোনো কিছু মনে করি না। অন্যদের মতোই আমিও একজন সাধারণ লোক।’

‘চাকরিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকে সহকর্মীরা আমাকে নানাভাবে সহায়তা করে। সব সময় আমার একটি স্বপ্ন ছিল। সর্বদা আমি কিছু একটা করতে চাইতাম। প্রতিদিন কাজে গিয়ে উপলব্ধি করতাম যে আমি মানুষের জীবন রক্ষায় সাহায্য করে অবদান রাখছি।’

‘নিয়োগ পাওয়ার পর আমি নিজেকে নতুন করে উপলব্ধি করি। আমি কেবল একজন নারী নই। বরং একজন মুসলিম যিনি নিজের বিশ্বাস চর্চা করেন। এছাড়াও আমি যুক্তরাজ্যের প্রথম হিজাবি নারী যিনি দমকল কর্মী হিসেবে কাজ করছেন।’

প্রথম দিকে আমাকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কারণ প্রথমে আমি নামাজ আদায়ে নিরাপদ কোনো স্থান পাইনি। তাই সমাধানের জন্য বিভিন্ন সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলি। শেষ পর্যন্ত আমি সফল হই। তবে এখন আমরা নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করছি। যেন মানুষ নতুন কাজে যুক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা লাভ করে এবং নিজেদের জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে।

অধিকাংশ ধর্মেই শান্তি ও মানবতার কথা বলা হয়। এজন্য সবাই একসঙ্গে ক একসাথে কাজ করে। যা নটিংহ্যামশায়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের মূল্যবোধের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। আন্ত-সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তৈরিতে অভিন্ন এই সম্পর্কের সর্বোত্তম ব্যবহার জরুরি।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ