যেভাবে খুন করা হয় রাহাতকে

প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২১

যেভাবে খুন করা হয় রাহাতকে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বামে ছুরিকাঘাতকারী অভিযুক্ত সাদি ও ডানে ছুরিকাঘাতে নিহত রাহাত

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজে আরিফুল ইসলাম রাহাত (১৮) নামের এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সামসুদ্দোহা সাদি (২০) নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীর নাম ওঠে এসেছে। তিনি সিলেটের কাশ্মির গ্রুপ করে বলে জানা গেছে।

সাদি ও তার সহযোগী তানভীর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের মূল ফটকের অদূরে (কলেজের ভেতরের) রাস্তায় রাহাতকে ছুরিকাঘাত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান রাহাত।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী সাদির বাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজর থানাধীন সামসুদ্দোহা সিলাম এলাকার টিকরপাড়া গ্রামে এবং তার সঙ্গে থাকা তানভীর সিলাম পশ্চিম পাড়ার জামাল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে জানা গেছে, রাহাত প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়। এসময় চাচাতো ভাই রাফি তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলেন। যাবার পথে চাচাতো ভাইকে কলেজ গেটে রেখে এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে কলেজের ভেতর যায় রাহাত। কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় কলেজের মূল গেট থেকে ২০-২৫ গজ ভেতরে সাদি ও তানভীর সিলভার রঙ্গের একটি পালসার মোটরসাইকেলযোগে পেছন থেকে এসে রাহাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। ছুরিকাঘাতের পর তারা পালিয়ে যায়। পরে রাহাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাহাতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরাতন তেতলি এলাকার সুরমান আলীর ছেলে ও দক্ষিণ সুরমা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।

এ ঘটনায় কলেজে ৩ দিনের জন্য পাঠদান বন্ধের নোটিশ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে পরীক্ষা চলবে। কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করবে। এছাড়াও ‘খুনিকে’ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম।

এদিকে, রাহাত হত্যার ঘটনায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক আধা ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এসময় রাহাতের ‘হত্যাকারীকে’ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। পরে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদারের আশ্বাসের ভিত্তিতে আধা ঘণ্টা পর বিকেল ৪টায় অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মূল ফটকসহ দক্ষিণ সুরমা কলেজে পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে এবং অভিযুক্ত সাদি ও তানভিরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় বলেন, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনও পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত সাদি ও তানভিরকে দ্রুত গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে বিস্তারিত বলা যাবে।
সিলনিউজবিডি ডট কম / এস:এম:শিবা

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ