যে কারণে ইয়েমেনকে অস্ত্র বিরতির প্রস্তাব সৌদির

প্রকাশিত: ১:২৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২১

যে কারণে ইয়েমেনকে অস্ত্র বিরতির প্রস্তাব সৌদির

অনলাইন ডেস্ক

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটিতে ছয় বছরের সর্বনাশা যুদ্ধের অবসানে নতুন করে কয়েক দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রাজধানী সানায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ফের খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি। পাশাপাশি হুতি বিদ্রোহী ও ইয়েমেনি সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনাও ফের শুরু করার কথা বলা হচ্ছে।

ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে লোহিত সাগরের হুদাইদা বন্দরে তেলবাহী জাহাজ থেকে কর ও শুল্ক জমা রাখার একটি পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সৌদি আরব।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, আমরা চাই বন্দুকের আওয়াজ স্তব্ধ হয়ে যাক। হুতিরা সম্মতি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়ে যাবে।

তবে সৌদির এমন প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।

বিদ্রোহীদের আল-মাসিরাহ টেলিভিশন জানিয়েছে, সৌদিকে অবশ্যই আগ্রাসন বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে এবং অবরোধ সম্পূর্ণভাবে উঠিয়ে নিতে হবে।

ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রও উদ্যোগ নিয়েছে। এই যুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।

মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের দেশজুড়ে অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা।

বিবিসি জানিয়েছে, প্রস্তাব দিলেও হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের রাজধানী সানায়ও নতুন করে বোমাবর্ষণ শুরু করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী।

সৌদি আরবের গত বছরের অস্ত্রবিরতিসহ ইয়েমেনের জন্য করা বেশ কয়েকটি শান্তি পরিকল্পনা এর আগে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সৌদি আরব এখন হুতিদের দীর্ঘদিনের কয়েকটি দাবিতে ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে। এরমধ্যে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর খুলে দেওয়ার দাবি অন্যতম, এই বিমানবন্দরটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ইয়েমেনের আকাশপথ সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে বিমান হামলা শুরু করলে দেশটিতে হাজার হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। এর পর থেকে আরব উপদ্বীপ দুর্ভিক্ষের কিনারে গিয়ে ঠেকেছে।

এদিকে সৌদির এমন প্রস্তাবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ছয় বছর ধরে যুদ্ধ করে সৌদি সরকার হয়তো অনুধাবন করছে, ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের এভাবে দমন করা সহজ নয়। পাশাপাশি সৌদি তেল স্থাপনাসহ দেশটিতে হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে হুতিরা। এ ছাড়া ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারের সর্বশেষ ঘাঁটি দখলে নিতে জোরালো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে হুতি বাহিনী। এতে অনেকটা চাপে পড়েছে সৌদি জোট।

কেউ কেউ মনে করছেন, সৌদি আরব তাদের সবচেয়ে বড় মিত্র সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আর পাশে না পেয়ে চাপে পড়েছে। বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় এসেই সৌদির কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করেছে।

এ ছাড়া ইয়েমেনে মানবিক সংকট তৈরির অভিযোগে সৌদি আরবে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে ইতালি, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোও। ফলে বহির্বিশ্বে শক্ত সমর্থন ছাড়া সৌদির পক্ষে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া একপ্রকার অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মত, এ ধরনের প্রস্তাব দিয়ে সৌদি সরকার আসলে তাদের ওপর যে রাজনৈতিক চাপ রয়েছে, সেটাকে ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের দিকে ঘুরিয়ে দিতে চাচ্ছে।

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার রিয়াদের এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে হুতি বিদ্রোহীরা বলছে, এতে ‘নতুন কিছুই নেই’।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
17181920212223
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ