যে কারণে সিঙ্গাপুর নেয়া হচ্ছে না নাসিমকে

প্রকাশিত: ৬:৪১ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০

যে কারণে সিঙ্গাপুর নেয়া হচ্ছে না নাসিমকে

অনলাইন ডেস্ক :; কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর ব্রেন স্ট্রোক করা সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এই মুহূর্তে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।গত ৮ দিন ধরে তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।বরং বৃহস্পতিবার তার অবস্থার আরও অবনতি হয়।

ডিপ কোমায় থাকা নাসিমকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়েছে।তার সেরে উঠা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে রয়েছেন ডাক্তাররা।

তিন তিনটি নমুনা পরীক্ষায় নাসিমের দেহে করোনার জীবানু ধরা পড়েনি।তিনি এখন পুরোপুরি করোনামুক্ত নাসিম।করোনা নেগেটিভ হওয়ায় নাসিমকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে ট্রিটমেন্ট দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরিবার।কিন্তু এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে অনেকটাই সরে এসেছে পরিবার।

করোনামুক্ত হলেও নাসিমের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।অস্ত্রোপচারের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে নাসিমের জ্ঞান ফেরেনি। পরে তাকে আরও ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তাররা। তবুও তার স্বাস্থ্যের ন্যূনতম উন্নতি হয়নি।৮ দিন ধরে অচেতন নাসিম, কোনো সাড়া নেই।

জানা গেছে ম্যাসিভ ব্রেন স্টোকের পর সফল অস্ত্রোপচার হলেও এখনও তার মাথার ভেতরে বেশ কিছু রক্ত জমাট বেঁধে আছে।স্ট্রোকের পর থেকেই তিনি অচেতন অবস্থায় আছেন।

সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশে সর্বোচ্চ ট্রিটমেন্ট দেয়া হচ্ছে।দুই দফায় গঠন করা হয়েছে মেডিকেল বোর্ড। সেখানে রয়েছেন দেশসেরা ডাক্তাররা।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত তার স্বাস্থ্যের খোজ নিচ্ছেন।আইসিইউতে তাকে সবচেয়ে নিরাপদ সেবা দেয়া হচ্ছে।

নাসিমের চিকিৎসায় গঠিত ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া বৃহস্পতিবার জানান, নাসিমের অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। কনক কান্তির ভাষ্য,’উনার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন, অবস্থার উন্নতি হয়নি, বরং অবনতির দিকে।’

অস্ত্রোপচারের পর কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর বৃহস্পতিবার ‍সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থার বেশ অবনতি হয়।রক্তচাপ ওঠানামা করতে থাকে।এরপর রাতের দিকে রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে আসে।তবে শুক্রবারও অবস্থার কোনো উন্নতি নেই নাসিমের।

এমতাবস্থায় তাকে নিয়ে স্থানান্তরের ঝুঁকি নিতে চাইছে না পরিবার।বিদেশ নিয়ে গিয়ে উন্নত ট্রিটমেন্ট দেয়ার মত অবস্থায় নেই নাসিম।তাই মেডিকেল বোর্ডও স্থানান্তরের বিষয়ে নিরুতসাহিত করছে।

এর আগে অবস্থার অবনতি না হওয়ায় সিঙ্গাপুরে নিতে প্রস্তুতি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার অবস্থার অবনতি হওয়ায় এখনই স্থানান্তরের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না তারা। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ মেনেই এগোতে চাইছে পরিবার। তার পরিবারের একটি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

মোহাম্মদ নাসিমের তানভীর শাকিল জয় এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেছিলেন, আব্বার অবস্থা এখনও অপরিবর্তিতই আছে। মেডিকেল বোর্ড আরও ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখবে। সেই সময় পরশু (শুক্রবার) শেষ হবে। এরপর হয়তো আবার বোর্ড মিটিং করবে। সব কিছু দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের বাইরে নেয়ার একটা চিন্তা তো আছেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও ছিল।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। কিন্তু এটার এখনও কোনো ফলাফল আসেনি বলেও জানান তিনি।

দেশের চিকিৎসায় সন্তোষ প্রকাশ করে জয় আরও বলেন, এখানে যে চিকিৎসা হচ্ছে, তা আব্বাকে স্থিতিশীল রাখতে পেরেছে। তাই চিকিৎকরা যদি ছাড়পত্র দেন, আর তারা যদি মনে করেন দেশের বাইরে নেয়া যাবে তাহলে আমরা সেটা চিন্তা করব। তার আগে সেই চিন্তা করছি না। কারণ আব্বার যে অবস্থা, এর মধ্যে আম্বুলেন্সে তুলতে হবে, সেখান থেকে এয়ার আম্বুলেন্সে তুলতে হবে। আবার সাড়ে ৪ ঘণ্টার ফ্লাইট। তাছাড়া এখানকার চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।

তবে বৃহস্পতিবার নাসিমের অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিদেশ নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে অনেকটাই সরে আসেন জয়।

বৃহস্পতিবার রাতে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,অস্ত্রোপচারের পর কয়েক দিন বাবার স্বাস্থ্যের উন্নতি না হলেও অবনতি হয়নি।কিন্তু হুট করে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে।

জানা গেছে, স্থিতিশীল থাকা অবস্থায় নাসিমকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বিদেশে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে এখন বিদেশে নেওয়ার অবস্থা নেই।

উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবার নাসিমকে সিঙ্গাপুরে নিতে চাইলেও তার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় সেটা সম্ভব নয় বলে মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্রের বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাজিউল হক।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুনেছি তাকে বিদেশে নেয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু, এই অবস্থায় তাকে বিদেশে নেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। মোহাম্মদ নাসিমের বর্তমান শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত দুই থেকে তিন দিন মোহাম্মদ নাসিমের ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিক ছিল। তবে, বৃহস্পতিবার উঠানামা করছে। তার রক্তের একটা পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, রক্ত জমাট বাঁধতে অসুবিধা হচ্ছে। এখনও তিনি নিজে থেকে শ্বাস নিতে পারছেন না। সব মিলিয়ে অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে’।

ডা. রাজিউল হক বলেন, তার শারীরিক অবস্থার আরও কিছুটা অবনতি হয়েছে। গত দুই দিন তার ব্লাড পেশার স্বাভাবিক থাকলেও বৃহস্পতিবার তা উঠানামা করেছে। তিনি আগের মতোই অচেতন অবস্থায় আছেন এবং তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ভেন্টিলেশন সাপোর্টেই রেখা হয়েছে। চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা সার্বক্ষণিক তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। এদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়য়ের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

এমতাবস্থায় রাজধানীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ নাসিমকে লাইফ সাপোর্টে রেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে পরপর তিনবার নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি তার।

রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে ১ জুন রাজধানীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। ওই দিনই তাঁর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ৪ জুন তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ৫ জুন ভোরে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের সমস্যার কারণে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়।

গত সোম, মঙ্গল ও বুধবার নমুনা নিয়ে পররীক্ষা করা হলে মোহাম্মদ নাসিমের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তৃতীয় পরীক্ষায়ও তার করোনা নেগেটিভ ধরা পড়ে।

এতে ডাক্তাররা আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন।কিন্তু আচমকা অবস্থার অবনতি হওয়ায় ডাক্তাররা বিদেশ নিতে নিরুতসাহিত করছেন।গত ৮ দিন ধরে তিনি লাইফ সাপোর্টে।তার চেতনা নেই।

মোহাম্মদ নাসিম আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্রও তিনি। বর্তমান সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি তিনি।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ