যে কোন পরিস্থিতি সামাল দিতে ইকবাল সোবহান চৌধুরী’র উপদেশ কার্য্কর ভূমিকা রাখেন :-মিয়া মনসফ

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

যে কোন পরিস্থিতি সামাল দিতে ইকবাল সোবহান চৌধুরী’র উপদেশ কার্য্কর ভূমিকা রাখেন :-মিয়া মনসফ

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার চতুর্থ প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। তিনি (২০০১-২০০৩) মেয়াদে এই দায়িত্ব গ্রহন করেন। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে দায়িত্ব পালন করছেন আজ অবধি।শুধু পালন নয়, তিনি যেন বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’কে আগলে রেখেছেন প্রায় দেড় যুগ ধরে। অনেকেই একটু ভ্রু কুচঁকে প্রশ্ন করেন, কেন দীর্ঘ্ দিন একই দায়িত্বে! তখন তার ভূমিকার কথা তুলে ধরা হলেই প্রশ্নকর্তাকে আর বেশী কিছু বলার প্রয়োজন হয়না, তাঁর ভূমিকাই তাঁকে দীর্ঘ্ দিন একই দায়িত্বে আটকে রেখেছে। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী দায়িত্ব পালন করছেন ১৯ বছর ধরে। শুধু তিনি নন, তাঁর সাথে নির্বাচিত প্রধান পৃষ্ঠপোষক মীর মোশাররেফ হোসেনও দীর্ঘ্ সময় একই পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।এই দীর্ঘ্ সময় কেন কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তা দু’জনের দায়িত্ব পালনের আমার স্মৃতিকথায় তুলে ধরার চেষ্টা করবো। ইকবাল সোবহান চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা। তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন ১৯ বছর ধরে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা তিনি।তাঁকে মেলার উপদেষ্টা করার প্রস্তাব করেছিলেন মেলার আরেক প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা প্রয়াত আলহাজ্ব মোহাম্মদ জহিরুল হক। জহির ভাইয়ের পরামর্শ্ মোতাবেক একদিন সন্ধ্যায় অবজারভার ভবনে(দৈনিক বাংলার মোড়) আমি এবং মানু একটি উপদেষ্টা ফরম নিয়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সাথে দেখা করি। জহির ভাই পাঠিয়েছেন একথা বলেই উপদেষ্টা ফরমটি এগিয়ে দেই। ফরমটি দেখে তিনি সম্মতি স্বাক্ষর দিয়ে আমাদের হাতে তুলে দেন। আমি তখন ইকবাল ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বললাম- ভাইয়া দোয়া করবেন। এভাবেই তাঁর সাথে পথ চলা শুরু হয়। তবে অবজারভার হাউজে আমার যাতায়াত ১৯৮৩ সাল থেকে। তিন তলায় ছিল ‘কিশোর বাংলা’ অফিস। সেখানে চাঁদেরহাটের সাহিত্যসভায় প্রতি সপ্তাহে যেতাম। কোন কোন দিন ইকবাল ভাইয়ের সাথে সিড়িতে বা অফিসে দেখা হয়ে যেতো।কিন্তু কোন দিন কথা হয়নি।পরিচয়ও হয়নি। উপদেষ্টা হবার পর বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার একজন কর্মী হিসেবে তাঁর সাথে কথা হতো, দেখা হতো।সব সময় অনুষ্ঠানে আসতেন। অত্যন্ত স্বল্পভাষী ও মিষ্টি ব্যবহারের জন্য অন্তত আমার কাছে তিনি খ্যাত। তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ, তিনি কারো সাথে আলাপচারিতায় আগে অন্যের কথা শোনেন তারপর প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। তার বিচক্ষণ পরামর্শ্ সিদ্ধান্তের অনেক নমুনা আমার কাছে প্রমাণিত। ১৯৮৪ সালের কথা। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার চট্টগ্রাম জেলার সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মতি দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা। প্রস্তুতি চলছে জোরেসোরে।বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে যাবেন বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার অনুষ্ঠানে। সাজসাজ রব চট্গ্রামে। হঠাৎ চট্টগ্রামের সভাপতি সুসান আনোয়ার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাত্তার রুবেল ফোন করলেন আমাকে।অত্যন্ত দুর্বল কন্ঠে আমাকে বলার চেষ্টা করলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা চট্টগ্রাম আসবেন কি? আমি তাদের উপর রেগে গিয়েছিলাম সেদিন। তবুও তারা আমাকে বোঝালেন চট্টগ্রামে সংবাদ রটেছে শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার চট্টগ্রাম অনুষ্ঠানে যাচ্ছেননা।একটি বিশেষ মহল চায় না শেখ রেহানা চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার অনুষ্ঠানে যাক্। আমি বিশেষ মহলের কথা শুনে একটু চিন্তিত হলাম। বিষয়টি আমলে নিয়ে অসুস্থ শরীরে দেখা করলাম ইকবাল ভাইয়ের সাথে অবজারভার অফিসে পরদিন সকালে। তাঁকে বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রের কথাসহ বিস্তারিত তুলে ধরলাম। তিনি আমার সামনেই ফোন করলেন আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে। নেত্রীর সাথে রাজনৈতিক কথা বললেন দীর্ঘক্ষণ। কথার শেষে এসে ছোট বোনের(শেখ রেহানা)চট্টগ্রাম আগমনের কথা বললেন। নেত্রী শেখ রেহানার সাথে কথা বলে চট্টগ্রামে যাবার বিষয়ে চুড়ান্ত করার পরামর্শ্ দিলেন। ইকবাল ভাই এবার ফোন করলেন চট্টগ্রামে মেলার সম্মেলনের প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানাকে। তিনি নিজেই ফোন ধরলেন। চট্টগ্রাম অনুষ্ঠানের কথা বলতেই বঙ্গবন্ধুকন্যা রেহানা ইকবাল ভাইকে জানালেন, তাঁর সফর সঙ্গীসহ সবার বিমানের টিকেট হয়ে গেছে। তিনি যথাসময়ে পৌছে যাবেন। তিনি ওঠবেন বঙ্গবন্ধুকন্যার নিকটাত্মীয় ওমর ফারুকের বাসায়। এই বলে দু’জনের কথোপকথন শেষ হলো। আমি এই সংবাদ চট্টগ্রামে মেলার নেতৃবৃন্দের কাছে পৌছাতেই আনন্দের বন্যা বয়ে যায় চট্টগ্রামে মেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে। সেই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি মহীউদ্দিন মানু বাংলাদেশ বিমানে করে ইকবাল সোবহান চৌধুরী, কবরী্ আপা, আলহাজ্ব মোহাম্মদ জহিরুল হক ও কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করেন।বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানাকে নিয়ে এটি আমাদের দ্বিতীয় অনুষ্ঠান। প্রথম অনুষ্ঠান করি একই বছর। বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে প্রথম জাতীয় শিশু দিবসে উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একজন অভিভাবকের মতো ভূমিকা রাখেন। তিনি যখন প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেননা তখনও সংগঠনের প্রয়োজন মূর্হুতে অভিভাবকের মতো প্রয়োজনীয় উপদেশ পরামর্শ্ দিয়ে সাহায্য করেন। ২০০১ সালে জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের পূর্বে কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকদের সাথে আলোচনা হয় সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক নির্বাচন নিয়ে।এই দুটি পদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। শুধু নির্বাচিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পদ দুটোতে পছন্দের ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে থাকেন। ২০০১ সালে জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের আগে নিজেদের মধ্যে আলোচনা হয় যাতে কেন্দ্রীয় সম্মেলনে পদ দুটিতে পূর্ব্সূরীর নাম ঘোষনা করা যায়। ঐ সম্মেলনের পূর্বে কেন্দ্রীয় সভায় প্রধান উপদেষ্টা করার বিষয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়। আমরা এই বিষয়ে মতামত নিতে তাঁর ধানমন্ডির বাসায় যাই, তাকে প্রস্তাব দিতেই তিনি একটু নড়েচড়ে বসলেন। স্মীত হেসে তিনি আমাদের বললেন, ‘আমি একটি নাম প্রস্তাব করি’। তখন প্রধান বিচারপতি আমাদের দৃঢ়ভাবে তাঁর প্রস্তাব এইভাবে উপস্থাপন করলেন “এই পদের জন্য একজন ব্যক্তি সবচেয়ে উপযুক্ত। তিনি হলেন ‘ইকবাল সোবহান চৌধুরী’। আমাদের বুঝতে বাকি নেই তিনি ‘ইকবাল সোবহান চৌধুরীকেই প্রধান উপদেষ্টা করতে বলছেন।আমরা তাঁর কথায় সায় দিয়ে ২০০১ সালের জাতীয় সম্মেলনে পরবর্তী এক মেয়াদের জন্য কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করি বাংলাদেশের সাংবাদিকদের প্রিয়জন ইকবাল ভাইকে। ২০০১ সালে অক্টোবর নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হেরে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। সেই অত্যাচার শুরু হয় নির্বাচনের পরদিন থেকে। এই জেলার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা অন্য জেলায় গিয়ে লুকিয়ে ছিল জোট সরকারের অত্যাচারে। জোট সরকারের অত্যাচার নির্যাতন ২০০৬ সাল পর্য্ন্ত অব্যাহত ছিল। ফলে ২০০১ সালের প্রতিটি অনুষ্ঠান করতে হয়েছে অত্যন্ত কৌশলের সাথে। (এই পাঁচ বছর কিভাবে সাংগঠনিক কাজ করেছি তার বিস্তারিত বিবরণ প্রধান পৃষ্ঠপোষকের স্মৃতিকথায় লেখার ইচ্ছা রাখি।) যেকোন প্রতিষ্ঠানে যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত দু’জন ব্যক্তি থাকেন তাদের মধ্যে বোঝাপড়া হতে হবে আন্তরিকতার সাথে। পরস্পরের মধ্যে বিশ্বস্থতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক্ বড় বেশী প্রয়োজন। তাহলে যেকোন প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অর্জিত হয়। বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষকের মধ্যে সেই সম্পর্ক আছে বলেই বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র উন্নতি হয়েছে দু’জনের দায়িত্ব পালনকালে। দু’জনকে নিয়ে সারাদেশে সাংগঠনিক সফর সম্ভব হয়েছে। দু’জনের একসাথে সাংগঠনিক সফরের কারণে মেলার জেলা পর্যায়ে শক্ত ভিত্ গড়ে উঠেছে। মেলার সর্বশেষ এই দুই অভিভাবক বর্তমান সময়ে নির্ভরশীল প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক। আমি তাদের সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘ্ জীবন কামনা করি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ