রবীন্দ্র শতবর্ষ ঘিরে বিস্ফোরণমুখ সিলেট : বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার আল্টিমেটাম

প্রকাশিত: ১:০৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

রবীন্দ্র শতবর্ষ ঘিরে বিস্ফোরণমুখ সিলেট : বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে রবীন্দ্র শতবর্ষ স্মরনোৎসব থেকে সিসিক মেয়র আরিফ,লিটনের অপসারণ দাবিতে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সিলেট। এ ঘটনায় আওয়ামী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুঁসে উঠেছেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে সাবেক ছাত্র ও যুব নেতাদের পৃথক পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক থেকে বাঙ্গালী সংস্কৃতির বিপরীতে অবস্থান কারী এবং হত্যা মামলার আসামী আরিফুল হক চৌধুরীসহ বিতর্কিদের পদত্যাগের দাবি করা হয়। এই ব্যাপারে উপস্থিত ছাত্র ও যুবনেতাদের পৃথক বৈঠক থেকে ব্যপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।

সভা থেকে জানানো হয়,আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসারি বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া না হলে যেকোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির দায় উদযাপন পরিষদকেই বহন করতে হবে।

এর আগে একই দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে সিলেটের সংক্ষুব্ধ সংস্কৃতি সমাজ। মঙ্গলবার সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদমিনারে সংস্কৃতিকর্মীদের এই দাবির প্রতি একাত্বতা প্রকাশ করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, শহিদ মিনার বাস্তবায়ন পরিষদ,গীতিকবি ফাউ-েশন, ছড়াপরিষদ, ছড়ামঞ্চ,জয়বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ। তাছাড়া, সভায় সংস্কৃতি কর্মীদের দাবির প্রতি একাত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী ও সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদমিনার বাস্তবায়ন পরিষদের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হ্যারল্ড রশীদ চৌধুরী এর সভাপতিত্বে ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোহাম্মদ বাদশা গাজীর পরিচালনায় মানববন্ধন সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলা ও বাঙালীর সাংস্কৃতিক চেতনার নাম রবীন্দ্রনাথ। সেই চেতনা যারা লালন করেননা,তারা কখনোই নিজেদের বাঙালী বলার যোগ্যতা রাখেননা। সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গণে আজ কাউয়াদের আনাগোনা। সেই জাতীয়তাবাদী শক্তির হাতেই পদদলিত হয় বাঙ্গালীর দেশজ চেতনার মূর্ত প্রতিক আমাদের শহিদমিনার।একই শক্তির মাধ্যমে দেশের প্রধান কবি শামসুর রহমানকে সিলেটে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, সিলেটে কবিগুরুর পদার্পনের শতবর্ষকে সামনে রেখে গঠিত উদযাপন পরিষদেও যুক্ত করা হয় সেইসব বিতর্কিত জাতীয়তাবাদী শক্তির অনুসারিদের।

এ সময় বক্তারা আরো বলেন, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী একটি হত্যা মামলার আসামী। তিনি সিসিকের মেয়র হলেও জাতীয় শোক দিবস পালনে অনুপস্থিত থাকেন। জাতীর পিতার মিলাদ মাহফিলেও আরিফুল হককে দেখা যায়না। অতএব জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভামঞ্চে আরিফুল হক চৌধুরী কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। একই সাথে সিলেটে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগদানের কথা না বলে আমিনুল ইসলাম লিটন খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের বুকে আঘাত করেছেন। বক্তারা অবিলস্বে গঠিত উদযাপন পর্ষদ থেকে এই বিতর্কিদের অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সভায় একাত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন,সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি দেওয়ান কয়েছ গাজী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক গীতিকার আজহার উদ্দিন জাহাঙ্গির, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক গীতিকার প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সভাপতি ছড়াশিল্পী জয়নাল আবেদীন জুয়েল, সহসভাপতি বাউল বিরহী কালা মিয়া, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট সিলেট জেলার সভাপতি ডা. নাজরা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নাট্যকর্মী এনামুল মুনীর, প্রবীন নাট্যকর্মী আশুতোষ ভৌমিক বিমল, বেলাল আহমদ, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আব্দুল লতিফ নুতন, কবি সংগঠক ও সাংবাদিক দেবব্রত রায় দিপন,সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ২ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক নাট্য কর্মী তাজ আহমদ লিটন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক কন্ঠশিল্পী ডি কে জয়ন্ত, সম্পাদক মন্ডলির সদস্য কন্ঠশিল্পী এম এইচ নিজাম, জাতীয় শিশু কিশোর ও যুব কল্যান সংগঠন চাঁদের হাটের সিলেট জেলার আহবায়ক মোহাম্মদ আঙ্গুর মিয়া, সাংবাদিক নাজমুল কবির পাবেল, সাংবাদিক সোয়েব বাসিত, সিলেট জেলা যুব লীগ নেতা সাজলু লস্কর,সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আব্দুর রশিদ, সাবেক ছাত্রনেতা সজল চৌধুরী,ইলিয়াছি চৌধুরী দিনার, রাািশদুল ইসলাম রাশেদ, কামরুল ইসলাম, শিল্পী সজল দেবনাথ সংগঠক তোফায়ের আহমদ, সাহাব উদ্দিন আহমদ সাবু প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ