রমজানের ভাবনা আল্লাহ সব দেখেন

প্রকাশিত: ২:৪৯ পূর্বাহ্ণ, মে ৪, ২০২১

রমজানের ভাবনা আল্লাহ সব দেখেন

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

 

সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘লা আল্লাকুম তাত্তাকুন। অর্থ : আশা করা যায়, তোমরা মুত্তাকি হবে।’ আরবি তাকওয়া অর্থ আল্লাহভীরু হওয়া। অভিধানে তাকওয়া হচ্ছে বেঁচে থাকা, মুক্তি পাওয়া, নিরাপদ হওয়া। জীবনের প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকার আপ্রাণ প্রচেষ্টাকে তাকওয়া বলে। শেষ বিচারের দিন আল্লাহর আজাব থেকে মুক্তি পেয়ে নিরাপদে জান্নাতে বসবাস করার জন্য যিনি চেষ্টা করেন তাকে বলে মুত্তাকি। আল্লাহ বলছেন, ‘হে বিশ্বাসীরা! তোমাদের ওপর সিয়াম সাধনা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। আশা করা যায় তোমরা মুত্তাকি হবে।’ সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩।

সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন বিশ্বাসী বান্দা মুত্তাকির স্তরে পৌঁছে যায়। বান্দা যখন রুহের জগতে প্রভুকে প্রভু বলে স্বীকার করে আবার এ জগতেও প্রভুর প্রভুত্ব মেনে নেয় তখন আর বান্দার নিজের ইচ্ছামতো চলার কোনো সুযোগ নেই। চলতে হবে প্রভুর ইচ্ছামতো। কিন্তু মানবদেহে যে নফস নামে আরেক সত্তা প্রভুত্ব করতে চায়, প্রভুত্ব করতে চায় শয়তানি শক্তি, সে তো বান্দাকে আল্লাহর ইচ্ছামতো চলতে দিচ্ছে না। এভাবেই বান্দা হেরে যায়, নফস জিতে যায়। তখন আর মানবের রুহের জগতে করা ওয়াদা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।
আমাদের স্রষ্টা আল্লাহ কত দয়ালু! কত মেহেরবান! প্রথমে মনে করিয়ে দিলেন রুহের জগতের ওয়াদার কথা। তারপর সে ওয়াদা কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে সে পথও দেখিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন সিয়াম সাধনা করলে তুমি মুত্তাকি হতে পারবে। আল্লাহর আজাব থেকে বেঁচে যাওয়ার কৌশল খুব সহজেই শিখে যাবে। তো বান্দা যখন সিয়াম সাধনা শুরু করে তখন নফস বলে, খুব পিপাসা পেয়েছে। একটু পানি খেয়ে নাও। বান্দা বলে, সাবধান! সমুদ্রের গভীর অন্ধকারের নিচেও আল্লাহ স্পষ্ট দেখতে পান। তাই লুকিয়ে, আড়ালে-আবডালেও পানি খাওয়া সম্ভব নয়। এভাবেই শুরু হয়ে যায় তাকওয়ার প্রশিক্ষণ। নফস বলে, হারাম উপার্জন কর। বান্দা বলে, না। আল্লাহ দেখছেন। এমনিভাবে এক মাসের বিশেষ কোর্স যখন বান্দা সফলভাবে শেষ করে তখন তার চেতনায় গেঁথে যায় আমি যা-ই করছি আল্লাহ সব দেখছেন। এক মাসের ট্রেনিং শেষে বান্দা এমন রুহানি শক্তি অর্জন করে যে তখন আর নফস তাকে পরাজিত করতে পারে না। নফসই তার কাছে পরাজিত হয়। এজন্যই দৃঢ়তার সঙ্গে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমাদের এবং পূর্ববর্তীদের ওপর সিয়াম ফরজ করে দিয়েছি, আশা করা যায় তোমরা মুত্তাকি হবে।’ মুত্তাকিরাই দুনিয়া-আখিরাতের সাধক মানুষ। তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা আল্লাহ রেখেছেন। এক. ‘যারা মুত্তাকি হতে চায় আল্লাহ তাদের মুত্তাকি হওয়ার কঠিন সাধনা সহজ করে দেন। তাদের জন্য এমন জায়গা থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন যা তাদের কল্পনা করাও সম্ভব নয়।’ সুরা তালাক, আয়াত ২-৩। দুই. ‘হে বিশ্বাসীরা! যদি তোমরা মুত্তাকি হও তাহলে তোমাদের প্রজ্ঞা দান করা হবে। তোমরা বুঝতে পারবে দুনিয়া আখিরাতের জন্য কোনটি আসলেই ভালো আর কোনটি ভালো নয়। তোমাদের গুনাগুলো মুছে দেব। ক্ষমার চাদরে তোমাদের জড়িয়ে নেব।’ সুরা আনফাল, আয়াত ২৯। তিন. ‘যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং মুত্তাকি হও তাহলে দুনিয়া-আখিরাতে কেউ তোমাদের কোনো ধরনের ক্ষতি করতে পারবে না।’ সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১২০। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সিয়াম কবুল করে মুত্তাকি বানিয়ে দিন।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

আমাদের ফেইসবুক পেইজ