রমজান এল, আমার প্রার্থনা কবুল হল

প্রকাশিত: ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১

রমজান এল, আমার প্রার্থনা কবুল হল

আদিল মাহমুদ

‘হে আল্লাহ, রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং রমজান আমাদের নসিব করুন’- আমার এই প্রার্থনা কবুল হল। সুস্বাগত জানাচ্ছি মহিমান্বিত পবিত্র মাহে রমজানকে।

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সুসংবাদ নিয়ে এসেছে রমজান। নবীজী মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, রমজানের প্রথম অংশ রহমত বা দয়া, করুণা; মাঝের অংশ মাগফিরাত বা ক্ষমা; শেষাংশ নাজাত বা মুক্তি। (বায়হাকি শরিফ)

এজন্য রহমতের বারিতে সিঞ্চিত হয়ে, ক্ষমার মহিমায় উদ্বেলিত নবজীবন লাভ করে, নাজাত তথা অনন্ত মুক্তির নবদিগন্তের জান্নাতি আহ্বানে অফুরান কল্যাণের পথে অভিযাত্রার সুবর্ণ সুযোগ মাহে রমজান।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারি এবং সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে, তারা যেন এই মাসে রোজা পালন করে।’

‘হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য রোজার বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫ ও ১৮৩)

নবীজী মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের নিয়তে রমজানে রোজা পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’

‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানে রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে জেগে ইবাদত করবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, প্রথম খণ্ড, হাদিস: ৩৭, ৩৬ ও ৩৪)

প্রত্যেক সক্ষম মুসলমান নারী-পুরুষের জন্য রমজানে পূর্ণ মাস রোজা পালন করা ফরজ ইবাদত। ঋতুমতী নারী, সন্তান প্রসবকারী মা, অসুস্থ ব্যক্তিরা এই রোজা পরবর্তী সময়ে কাজা আদায় করবেন।

এমন অক্ষম ব্যক্তি, যাদের আবার সুস্থ হয়ে রোজা পালনের সামর্থ্য লাভের সম্ভাবনা নেই, তারা রোজার জন্য ফিদিয়া প্রদান করবেন। অর্থাৎ প্রতিটি রোজার জন্য একটি সদকাতুল ফিতরের সমান দান করবেন। জাকাত গ্রহণের উপযুক্তদেরই এই ফিদিয়া প্রদান করা যাবে।

রমজানে সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে দুটি ওয়াজিব। তা হলো, সামর্থ্যবানের সদকাতুল ফিতর আদায় করা এবং ঈদের সালাত কায়েম করা। এ ছাড়া রমজান মাসে আছে বিশেষ পাঁচটি সুন্নত।

১. সেহরি খাওয়া। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজী মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, ‘তোমরা সেহরি খাও, কেননা সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (বুখারি শরিফ)

হজরত আমর ইবনে আস (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজী মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, ‘আহলে কিতাবদের রোজা এবং আমাদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া (ও না খাওয়া)।’ (মুসলিম শরিফ)

২. ইফতার করা, হজরত সাহল ইবনে সাআদ (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজী মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, ‘যত দিন যাবৎ লোকেরা ওয়াক্ত হওয়ামাত্র ইফতার করবে, তত দিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে।’ (বুখারি শরিফ)

৩. তারাবির নামাজ আদায় করা। পুরুষদের তারাবির নামাজ মসজিদে জামাতে আদায় করা সুন্নাত। ওজরের কারণে মসজিদে যাওয়া সম্ভবপর না হলে এবং জামাত করা না গেলে তখন একা পড়লেও পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে।

৪. পবিত্র কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারি এবং সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

৫. ইতিকাফ করা। নবীজী মুহাম্মাদ (সা.) রমজান মাসের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ করতেন। ইতিকাফ করা সুন্নতে কেফায়া। সবার পক্ষ থেকে একজন আদায় করলে সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। আর একজনও না করলে মহল্লার সবাই গোনাহগার হবে। রমজান মাসের ২০ তারিখ আসরের নামাজের পর হতে ইতিকাফে বসতে হয়।

প্রত্যেক মুসলমানের উচিত রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা। রমজানে ইবাদতের পরিবেশ বজায় রাখা। করোনা মহমারির এই সময়ে যত দূর সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ, রোজাসহ সব ইবাদত সতর্কতার সঙ্গে পালন করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের তওফিক দান করুন। আমিন।
সুত্র : যুগান্তর

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ