রায়ের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা

প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা

ডেস্ক:  জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে জামিন না হলেও মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী বেগম জিয়াকে আরও উন্নত চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিন সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বেগম জিয়ার জামিন আবেদন বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। এরপর আদালত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করেন।

জামিন খারিজের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমরা শকড (আশাহত) হয়েছি। সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই মেরে ফেলতে চায়। চিকিৎসাও তো হচ্ছে না। আমরা তো তাঁর জামিনের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। পেলাম না।

বেগম জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছে। সে (খালেদা জিয়া) পঙ্গু অবস্থায় আছে। তাঁর অ্যাডভান্স ট্রিপমেন্টের দরকার। দীর্ঘদিন যাবত তিনি অসুস্থ। ৭ বছরের সাজা, দেড় বছর অতিক্রম হয়ে গেছে। তাঁর উন্নত চিকিৎসা দরকার। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোট তার জামিন বাতিল করবে এটা নজিরবিহীন ঘটনা। আমাদের দেশে কেন, প্রতিবেশী দেশের এমন নজির নাই।

আদালতে উপস্থিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, যথার্থ রায় হয়েছে। মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন। কাজেই এখানে কারও কোনও কিছু বলার আছে বলে আমি মনে করি না। আর বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে যে নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে সেটাও যথার্থ বলেই আমরা মনে করি।

খালেদা জিয়ার অন্যতম প্রধান আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কয়েকদিন ধরে সরকারের প্রস্তুতি দেখছিলাম। ইতোমধ্যে এজলাসে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আমরা নানাভাবে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। রিপোর্ট আসলো, আদালতকে পড়ে শোনালাম। আদালতকে বলেছি, এরচেয়েও বড় মামলায় আদালত বেল দিয়ে থাকেন। আমরা ১০টা ডিশিসন আদালতকে শোনালাম। আদালত আমাদের কথা শুনলেন। আমরা বলেছিলাম, মানবিক কারণে বেগম জিয়ার বেল চাই। আদালত খারিজ করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এদেশের গণতন্ত্রের নেত্রী। তিনি রাজনৈতিকভাবে নিষ্পেষিত। সরকারের রোষানলে সর্বোচ্চ আদালত থেকেও তিনি বেল পেলেন না। মেডিকেল রিপোর্টে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, তার শরীরের অবস্থা ভালো না। তার অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট দরকার। প্রপার ট্রিটমেন্ট নেই বলেই অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্টের কথা বলা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রপার ট্রিটমেন্ট হলে ওবায়দুল কাদের কিংবা মাননীয় রাষ্ট্রপতি কেন বাইরে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন? সরকার চাচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রেখে তার জীবনকে সংটাপন্ন করতে।

এর আগে বেগম জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আপিল বিভাগের এজলাসে বসানো হয় ৮টি সিসি ক্যামেরা। পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যানুসারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয় আদালতের।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়ে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। আপিলের পর হাইকোর্টে যা বেড়ে ১০ বছর হয়। পরে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে খালেদা জিয়া জামিন আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন এখনো আদালতে উপস্থাপন করেননি তার আইনজীবীরা।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সাজা হয়েছে মামলার অপর তিন আসামিরও।

দণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে ২০১২ সালে খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হলে দুদকের পক্ষে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ