রায়হানের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২০

রায়হানের দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ‘নির্মমভাবে’ নিহত হওয়া সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নেহারিপাড়ার রায়হান আহমদ (৩৪)-এর দাফন সম্প্ন্ন হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) এশার নামাজের পর তাকে আখালিয়া জামে মসজিদের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে আখালিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় কাউন্সিলর ও প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যটি জানিয়েছেন নিহত রায়হান আহমদের চাচাতো ভাই তানভির আহমদ।

রোববার সকালে মারা যান রায়হান আহমদ। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়- ছিনতাইয়কালে জনতার পিটুনিতে গুরুতর আহত হওয়া রায়হানকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে সেখানেই সকাল ৭টার দিকে তিনি মৃত্যুরবণ করেন।

তবে রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এক পুলিশের মোবাইল ফোন থেকে কল করে রায়হানের মাধ্যমে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ করেন, রায়হান আহমদ শনিবার রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরেননি। ভোর রাত ৪টা ২৩ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে কল দিয়ে রায়হান জানায়, পুলিশ তাকে ধরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে এসেছে। এখন তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করছে।

পরে রায়হানের চাচাকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যান। এসময় এক পুলিশ সদস্য ১০ হাজার টাকা নিয়ে সকালে ফাঁড়িতে যাওয়ার কথা বলেন।

পরে সকাল ৯টার দিকে টাকা নিয়ে ফের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যান চাচা হাবিবুল্লাহ। এসময় পুলিশ সদস্যরা জানান, অসুস্থ হয়ে পড়ায় সকাল ৭টার দিকে রায়হানকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাবিবুল্লাহ তৎক্ষণাৎ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন রায়হান মারা গেছেন এবং লাশ মর্গে রাখা। ময়না তদন্ত শেষে বিকেল ৩টার দিকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

এ বিষয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূঁইয়া (এস.আই) বলেন, শনিবার দিবাগত রাতে নগরীর কাষ্টঘর এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে স্থানীয়রা রায়হানকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে রায়হানকে উদ্ধার করে এবং ভোর ৬টার দিকে তাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক পর রায়হান মৃত্যুরবণ করেন।

তিনি বলেন, রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসাই হয়নি। ফাঁড়িতে নিয়ে আসার বিষয়টি সত্যি নয়।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ