রায়হান হত্যা : পিবিআইকে একমাস সময় দিয়েছেন আদালত

প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১

রায়হান হত্যা : পিবিআইকে একমাস সময় দিয়েছেন আদালত

অনলাইন ডেস্ক : সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলার তদন্তের জন্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আরও ৩০ কার্য দিবস সময় দিয়েছেন আদালত। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্টকারী কোম্পানীগঞ্জের আব্দুল্লাহ আল নোমানের সংশ্লিষ্টতা এখনো খোঁজা হচ্ছে। রায়হান হত্যা মামলার তদন্তের জন্যে সময় বর্ধিত করার জন্যে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল মুমিনের আদালতে আবেদন করা হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি শুনানী শেষে আদালত ৩০ কার্য দিবস বর্ধিত করেন। এই সময়ের মধ্যেই রায়হান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দিতে হবে।

সূত্র জানায়, রায়হান হত্যার আলামত হার্ডডিস্ক নষ্ট করার মূলহোতা এসআই হাসান আলীকে গ্রেফতার করা হলেও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানের কোন খোঁজ এখনো মিলেনি। এই দু’জন মিলেই আলামত নষ্ট করে বলে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে আসে। সাংবাদিক নোমানকে আভিযোগপত্রে আসামী করা হবে কি-না তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে, রায়হান হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

পিবিআই সিলেট’র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খালেদ উজ্জামান বলেন, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। বর্ধিত ৩০ দিনের মধ্যেই অভিযোগপত্র দেয়া হবে। তবে, কবে দেয়া হবে তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ত্রুটিমুক্ত অভিযোগপত্র দিতে পিবিআই কাজ করছে।

সূত্র জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি এসআই হাসান আলীকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এরপর তাকে একদিনের রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে চাঞ্চল্যকর বেশকিছু তথ্য দিয়েছে। ঘটনার পর দ্রুত নগরীর জল্লারপারের গ্যালারিয়া শপিং সিটির একটি দোকান থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার ৫০০ গিগাবাইটের হার্ডডিস্ক কিনে এনে বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুরনো হার্ডডিস্কটি বদলে দেয় হাসান ও নোমান। ঘটনার পর সাময়িক বরখাস্ত আকবর তার অস্ত্র টুআইসি হিসেবে হাসানের নিকট জমা দেয়।

এরপর আকবরকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন হাসান। ঘটনার আগে ও পরে ২৪ ঘণ্টায় হাসান ও নোমানের মাঝে অন্ততঃ ৫৯ বার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। হাসান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আকবর পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও প্রথমে গোপন করেন। রিমান্ডে এ সকল তথ্য দেয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু তথ্য দিলেও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে রাজি হয়নি হাসান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ও পিবিআই সিলেটের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন জানান, হাসানকে গ্রেফতারের পর একদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ