শাটডাউন কী ‘কারফিউ’র মতো?

প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২১

শাটডাউন কী ‘কারফিউ’র মতো?

নিজস্ব প্রতিবেদক :: দেশে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। দেশের ৪০টি জেলায় ভয়াবহ অবস্থা। সিলেটেও অবস্থা ভালো নেই। গত দুদিনে মারা গেছেন ৭ জন। এ অবস্থায় এবার আর লকডাউন নয়, শাটডাউন করা হবে দেশ- এমনটাই ভাবছে সরকার।

তবে জনসাধরণের মধ্যে শাটডাউন বিষয়টি পরিচিত নয়। এটা কী, কীভাবে, কবে থেকে শুরু হবে, লকডাউন আর শাটডাউনের মধ্যে পার্থক্য কী এসব প্রশ্ন এখন প্রায় সব মানুষের মুখে।

বিভিন্ন স্থানে দিনমজুর থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শাটডাউন নিয়ে আলোচনা চলছে। এটা এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। লকডাউন শব্দটি এবং এর প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা থাকলেও শাটডাউন সম্পর্কে কারো ধারণা না থাকায় এত আলোচনা।

শাটডাউন শব্দের অর্থ বন্ধ। করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ও মৃত্যু ঠেকাতে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দুই সপ্তাহের শাটডাউন শুরু হলে দেশের সবকিছু বন্ধ থাকবে নাকি অন্য কোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রিত হবে, সবার মনে এখন সেই প্রশ্ন।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন কমিটির বৈঠককালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু প্রতিরোধে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সারাদেশে ‘কারফিউ’ জারি করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। তবে গতকাল কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সারাদেশে ১৪ দিনের শাটডাউনের পরামর্শ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সার্বিক দিক বিবেচনা করে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ও জনগণের জীবনের ঝুঁকি ঠেকাতে কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সারাদেশে কমপক্ষে ১৪ দিন শাটডাউনের সুপারিশ করছে। এ সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে না পারলে, আমাদের যতই প্রস্তুত থাকুক না কেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লকডাউন শব্দটি এখন হেলাফেলার হয়ে গেছে। লকডাউনের মধ্যেও গণপরিবহন চলছে, মার্কেট শপিংমলসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। এ কারণে তারা ‘কারফিউ’ শব্দটি প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারফিউ হোক আর শাটডাউন হোক, সারাদেশে আগামী ১৪ দিনের জন্য যানবাহন ও মানুষের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিস্থিতির ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। এমনকি চিকিৎসাসেবা বন্ধের উপক্রমও হতে পারে হাসপাতালে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটির শাটডাউনের সুপারিশ প্রসঙ্গে গতকাল জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, ‘কমিটির সুপারিশ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। সংক্রমণ যেহেতু বেড়ে যাচ্ছে, আমরা বিভিন্নভাবে তা কমানোর চেষ্টা করছি। স্থানীয়ভাবে বিধিনিষেধ দিচ্ছি, দিয়ে এটাকে কন্ট্রোল (নিয়ন্ত্রণ) করার চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেটা প্রয়োজন হবে সেটাই আমরা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু সংক্রমণটা ঊর্ধ্বমুখী, দৈনিক সংক্রমণ ৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সরকার পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সেক্ষেত্রে যেটি উপযুক্ত হবে, সেই সিদ্ধান্তই আমরা নেব।’

সরকার কতদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

কী সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে—এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আগে আমাদের সংক্রমণ ৭ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখনো অনেক জায়গা আছে যেখানে সংক্রমণ ১০ শতাংশের নিচে। আমরা চাইছি…ইতোমধ্যে ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে কঠোর বিধিনিষিধে দিয়েছি। তারপরও ঢাকার মধ্যে লোকজন এসে যাচ্ছে। এই যোগাযোগগুলো…। ইতোমধ্যে বাস, ট্রেন, যাত্রীবাহী নৌযান বন্ধ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ করেই কিন্তু আমরা এ সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংক্রমণ কমাতে পদক্ষেপ নিতে আমাদের বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। সেই অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত নেয়া উপযুক্ত এবং সঠিক হবে, সেটা আমরা নেব।’

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ