শাবিতে ভিসি ভবনে যেতে ফের শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে শিক্ষকরা!

প্রকাশিত: ২:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২২

শাবিতে ভিসি ভবনে যেতে ফের শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে শিক্ষকরা!

সিলনিউজ বিডি ডেস্ক :: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁর বাসভবন অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। সাংবাদিক ও পুলিশ ছাড়া আর কাউকেই তাঁর বাসভবনে ঢুকতে দিচ্ছেন না তারা।

ভিসির জন্য খাবার নিয়ে তাঁর বাসভবনে প্রবেশ করতে আজ আবারও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েছেন শিক্ষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১টার দিকে শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসি কুমার দাশ, সাধারণ সম্পাদক মহিবুল আলম, সহসভাপতি ড. আশরাফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য নিয়ে ভিসির বাসভবনে প্রবেশ করতে যান। তখন বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা বাধা দেন শিক্ষকদের।

তখন নিজেদের দাবিদাওয়া আলোচনার টেবিলে বসে জানাতে শিক্ষার্থীদের আহবান জানান শিক্ষকবৃন্দ। তবে শিক্ষকদের কোনো কথাই শুনতে রাজি হননি শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শাবির বেশ কয়েকজন শিক্ষক খাবার নিয়ে ভিসির বাসভবনে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন। তখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

গত রোববার রাতে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ নিয়ে সর্বত্র তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রেক্ষিতে গতকাল রাতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়।

শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্টের অসদাচরণের প্রতিবাদে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে ওই হলের ছাত্রীদের মাধ্যমে সূচিত হয় আন্দোলন। গত ১৫ জানুয়ারি আন্দোলনরতদের ওপর ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে নতুন মাত্রা পায় আন্দোলন। হলের প্রভোস্টের অপসারণ, অব্যবস্থপনা দূর, ছাত্রলীগের হামলার বিচার চেয়ে পরদিন সকল শিক্ষার্থী আন্দোলনে সামিল হন। সেদিন উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাকে মুক্ত করতে গেলে পুলিশকে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। এতে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হন।

এদিকে, গত ১৬ জানুয়ারির পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনায় দুই থেকে তিনশ’ অজ্ঞাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরদিন (১৭ জানুয়ারি) রাতে মামলা করে পুলিশ। মামলার এজাহারে পুলিশ লিখেছে, সেদিন শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর গুলিও ছুঁড়েছিল। এ মামলা প্রত্যাহারে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১০টা পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে মামলা প্রত্যাহার হয়নি।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) উত্তপ্ত ছিল শাবি ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের অপসারণ, প্রক্টর ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগানে মুখর ছিল ক্যাম্পাস। এ সময় কিছুসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে যান আওয়ামী লীগ নেতারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেলের সাথে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশফাক আহমদ, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক বিধান কুমার সাহা ও সিসিক কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান।

ক্যাম্পাসের গোলচত্বরে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতারা। শিক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা ক্যাম্পাসে যান। তাঁরা উপাচার্য ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে দাবি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য না পেয়ে আন্দোলন থেকে সরার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তারা উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে গণসাক্ষর সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বরাবরে চিঠি পাঠান।

এদিকে, মঙ্গলবার রাত ১০টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা অবধি সময় বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করায় পূর্বঘোষণা অনুসারে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে একজনের বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ জনের সাথে গতকাল আরও ৫ শিক্ষার্থী যোগ দেন।

গত শুক্রবার দুই দফায় শাবি ক্যাম্পাসে যান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাদেল। তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলিয়ে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে। শিক্ষামন্ত্রী অনশন ভাঙতে ও আলোচনায় বসতে আহবান জানান শিক্ষার্থীদের। আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানান। প্রথমে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও পরে শিক্ষার্থীরা মত বদলে ফেলেন।

গত শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) রাতে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় যায়। গত শনিবার (২২ জানুয়ারি) তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বাসায় বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী ফের আলোচনায় বসতে শিক্ষার্থীদের আহবান জানান।

শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে শাবির আন্দোলনরতদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আন্দোলন থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে জোর দেন। কিন্তু কোনো ফলাফল আসেনি।

গত রোববার (২৪ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এর আগে বিকাল থেকে তাঁর বাসা ঘেরাও করেন তারা। গতকাল সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় প্রদান করা হয়।

সাকিব আহমেদ / ২৫ জানুয়ারি

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ