শাবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি আহবান; বিড়ম্বনায় ছাত্রীরা

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২১

শাবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি আহবান; বিড়ম্বনায় ছাত্রীরা

শাবি প্রতিনিধি :: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনের নিকট সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সরবরাহের বিষয়টি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হল প্রশাসনকে ওবগত করেন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার ইশফাকুল ইসলাম। বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রেয়ার ইশফাকুল ইসলাম জানান, ‘সম্ভবত করোনার টিকা প্রদান সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য এ জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হচ্ছে।’

এ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এস এম হাসান জাকিরুল ইসলাম জানান, “আমাদের কাছে এনআইডি চাওয়ার চিঠি আসে। আমরা ইমেইল ও হোয়াটসএপের মাধ্যমে ডাটা সংগ্রহ করছি”।

শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খান জানান, ইউজিসি থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি চাওয়া হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদেরকে মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র আগামী ৬ মার্চের মধ্যে (০১৭১৭৯০৮৩০১) হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার অথবা মেইলে পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা চাইলে হল অফিসে সরাসরি জমা দিতে পারবে।

সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ আবু সাঈদ আরফিন খাঁন বলেন, আগামী ৬ মার্চের মধ্যে হল অফিসে সরাসরি অথবা মেইল আইডিতে হল সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষাক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা চাইলে হল অফিসে সরাসরি জমা দিতে পারবে।

প্রথম ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন বলেন, প্রথম ছাত্রী হলের একটা মেসেন্জার গ্রুপ আছে। সেখানে আমরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আমাদেরকে নির্ধারিত পন্থায় পাঠানোর জন্য বলেছি।

তবে একইভাবে আইডি কার্ডের কপি ইমেইলে দেয়ার কথা থাকলেও এখন এটা কুরিয়ারে পাঠাতে বলা হচ্ছে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী(২য় ছাত্রীহল) এর আবাসিক ছাত্রীদের। জানা যায়, প্রথম দিকে শিক্ষার্থীদের থেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি স্ক্যান করে bsch@sust.edu ইমেইলে পাঠাতে বলা হয়। এরই মধ্যে ছাত্রীদের অনেকেই এই পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিচয় পত্র পাঠায়। কিন্তু তারপর আবার ভিন্ন পন্থায় পরিচয় পত্র পাঠাতে নির্দেশ দেয় উক্ত হলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ছাত্রীদের ব্যক্তিগত একটি ফেসবুক গ্রুপে একাধীক ছাত্রী সংশ্লিষ্ট সূত্র উল্লেখ করে পোস্টের মাধ্যমে জানায়, ‘ইমেইলে পরিচয় পত্র দেয়ার সাথে তা আবার কুরিয়ারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় তারা’। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একই গ্রুপে লিখেন, “আমি বুঝলাম না, যেখানে ছেলেদের হলে ইমেইএলের মাধ্যমে এনআই্ডির কপি পাঠাতে বলা হয়েছে সেখানে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হল কর্তৃপক্ষ বলতেছে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এনআইডির কপি পাঠাতে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই নীতি।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উক্ত হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন লিজাকে একাধীক বার ফোনে পাওয়া যায় নি।

তবে ঐ হলের সুপারিন্ডেন্ট লাভলি বেগম জানান, ‘আমি আজকে সবাইকে বলছি তারা যেন কুরিয়ারে না পাঠিয়ে এটা ইমেইএলের মাধ্যমে পাঠায়।’

এদিকে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. জামিনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক জরুরী বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপিসহ (ফটোকপি) প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হল প্রশাসনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপির আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই সে বিষয়ে কিছু বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় নি।

তবে কেন শিক্ষার্থীসহ হল সংশ্লিষ্টদের জাতীয় পরিচয় পত্র নেওয়া হচ্ছে জিজ্ঞাসা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বলেন, ‘সম্ভবত করোনার টিকা প্রদান সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য এ জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হচ্ছে।’

যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাদের বিষয়ে রেজিস্ট্রার বলেন, শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি চাওয়া হয়েছে। তবে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাদের বিষয়ে কিছু জানানো হয় নি। এ বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারি না, এতে সরকারি সিদ্ধান্ত লাগবে।

উল্লেখ্য, আবাসিক হলসমূহসহ ক্যাম্পাসের বাইরে হলের সাথে সংযুক্ত আবাসিক ছাত্রী মেসের সকলকেও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি স্ব স্ব আবাসিক হল প্রশাসনের নিকট সরবরাহের জন্য বলা হয়েছে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ