শিক্ষণীয় সত্য ঘটনা:একটি বে/সরকারি হাসপাতালিক’ ঘটনা!

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮

শিক্ষণীয় সত্য ঘটনা:একটি বে/সরকারি হাসপাতালিক’ ঘটনা!

 

সালমান ফরিদ:বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আহাদ। বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জে। সম্পর্কে আমার মামা। ২৯ দিন চিকিৎসাধিন ছিলেন বেসরকারি ‘ওয়েমেন্স মেডিকেল কলেজ হাপপাতাল, সিলেট’-এ। এই টেস্ট, ওই টেস্ট। এখন এই ওয়ার্ডে, তখন আইসিইউতে। এখন হার্টের সমস্যা, তখন কিডনির। এখন পিসিইউতে তখন ডায়ালাইসিসে। এক মাসে শুধু হাসপাতালেরই বিলই ১ লাখ ১০,০০০ টাকা। বাকি থাকলো ওষুধ আর টেস্টের হিসাব।

ফল:
যে রোগ নিয়ে, যে কন্ডিশনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, ঠিক সেই একই অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন। বোনাস হিসেবে সারাক্ষণ সঙ্গী হয়ে ভাগ্যে জুটে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার। সেটি রাখা হয় বিছানার কাছে; একদম বালিশের পাশে।

চিকিৎসকের পরামর্শ :
যতদিন বাঁচবেন, উনি এমনই থাকবেন। এই স্টেজ থেকে ফিরবেন না। হাসপাতাল-বাড়ি-চিকিৎসকের ফোলোআপে থাকতে হবে। আর কিছুই করার নেই।

তারপর:
বাড়ি ফেরার ২ দিন পর কন্ডিশন আরও খারাপ। এবার আর বেসরকারি হাসপাতালে নয়। সরাসরি নেয়া হল সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। যথারীতি হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি। পরিবেশ নোংরা। গিজগিজ করছেন রোগিরা। চারদিকে ওষুধ আর ভাত-তরকারির গন্ধ। এখানে-সেখানে থুথু ফেলা। ভর্তির দ্বিতীয়দিনে ডাক্তার এসে বললেন, হার্টের সমস্যা তার সেরকম নেই। কিডনিতেও খুব একটা অসুবিধা নেই। ১ পার্সেন্ট। ওষুধ নিয়মিত পড়লে ভাল হয়ে যাবে। আইসিইউতে ২ দিন রেখে সাধারণ বেডে পাঠিয়ে দেয়া হল। তারপর আরও ৫দিন। সব মিলিয়ে ৭দিন। খরচ সর্বসাকুল্যে সাড়ে ৪ হাজার টাকা! আর টেস্ট? ভর্তির দিন হার্টের ইসিজি, ইউরিন এবং সামান্য রক্ত পরীক্ষা। এই-ই!

ফল:
গিয়েছিলেন হুইল চেয়ারে করে। ফিরেছেন নিজের পায়ে হেঁটে। এখন প্রায় আগের মতোই কন্ডিশন। সুস্থ। শ্বাসকষ্ট নেই। কথা বলতে গিয়ে হাফাচ্ছেন না। ক্লান্তও হচ্ছেন না। বিছানার পাশ থেকে সরিয়ে বেলকনিতে রাখা হয়েছে অক্সিজেনের সিলিন্ডার।

চিকিৎসকের পরামর্শ:
আলহামদুলিল্লাহ ভাল। উনি অনেকটা সুস্থ। তবে সাবধান থাকবেন, নির্দেশ মতো চলতে হবে। নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। তাহলে তাকে আর হাসপাতালে আসতে হবে না।

মন্তব্য: এটি আমাদের দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার ধরণ। সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ হয়তো নোংরা, সবাই গিয়ে থাকতে পারে না। চারদিকে পানের পিক, থুথু। সিট মিলে না। কিন্তু চিকিৎসা অনেক উন্নত। মানতে হবে।

লেখক:বার্তা সম্পাদক,

দৈনিক শুভ প্রতিদিন।

তরুণ লেখক,কবি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ