শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জিডি-পাল্টা জিডি

প্রকাশিত: ১০:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২১

শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জিডি-পাল্টা জিডি

অনলাইন ডেস্ক
সিলেট শিক্ষা বোর্ড এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের বিতর্কিত নির্বাচনের বৈধতা চ্যাল্যেঞ্জ করে আদালতে মামলা করায় হেনস্থা ও হয়রানীর শিকার মামলার বাদী সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সেকশন অফিসার (স্টোর) মো. সাইফুল ইসলাম। গত ২৯ অক্টোবর মোগলাবাজার থানায় এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন সাইফুল। তাঁর জিডি’র খবর পেয়ে গত ২ নভেম্বর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের পক্ষে পাল্টা জিডি করেন বোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. কবীর আহমদ। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট শিক্ষা বোর্ড এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নির্বাচন-২১ এ নিজেদের পছন্দসই প্যানেল বিজয়ী করতে ভোটার হওয়ার যোগ্য নয় এমন সদস্যদের ভোটার করা হয়েছে। এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নির্বাচন-২১ এর তফসীল গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হয় এবং ১৬ সেপ্টেম্বর একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। যার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি ও অর্থআত্মসাতের তদন্তাধীন মামলার ১৩ জন আসামী রয়েছেন। তালিকা সংশোধনের জন্য আবেদন করা হলে তা না করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নিবার্চন আয়োজন করা হয়। যা শ্রম আইনের লঙ্ঘন। পরবর্তীতে উক্ত ভোটার তালিকা এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্বাচন স্থগিত চেয়ে সিলেটের শ্রম আদালতে মামলা করা হয়। কোনো স্থগিতাদেশ না দিয়ে আদালত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ‘কেন নির্বাচন অবৈধ হবে না’ কারণ জানানোর জন্য নোটিশ জারি করে দপ্তরটি। স্থগিতাদেশ না থাকায় কর্তৃপক্ষ ৩০ সেপ্টেম্বর নিবার্চন আয়োজন করে পছন্দ সই প্যানেলকে বিজয়ী ঘোষনা করে। তবে শ্রম অধিদপ্তর বিষয়টি জানার পর গত ১৭ অক্টোবর হয়ে যাওয়া নিবার্চনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের আদেশ দেয়। সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্বাচিত কমিটির অভিষেকও আয়োজন করা হয়। বিষয়গুলো নিয়ে সাইফুল ইসলামকে নাজেহাল করা হচ্ছে।

জিডিতে সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নির্বাচনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে ভোটার তালিকা করা হয়। সংশোধনের আবেদন করলে তা সংশোধন না করেই নিবার্চন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে নির্বাচনের পর শিক্ষাবোর্ডে চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রমা বিজয় সরকার ও সচিব প্রফেসর মো. কবীর আহমদ মামলার বাদী মো. সাইফুল ইসলামকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করতে থাকেন। পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করলে মো. সাইফুল ইসলাম গত ২৯ অক্টোবর মোগলাবাজার থানায় জিডি করেন।

শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. কবীর আহমদের জিডি সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের সেকশন অফিসার (স্টোর) মো. সাইফুল ইসলাম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গত ২৬ অক্টোবর কর্মঘন্টার মধ্যে বিভিন্ন অজুহাতে অফিস ত্যাগ করেন। যার কারণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করলে তিনি তর্কে জড়িয়ে যান এবং কর্তৃপক্ষের নামে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্ভট, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও অবমাননাকর বিভিন্ন বিষয় উত্থাপিত করে মোগলা বাজার থানায় জিডি করেন। উক্ত কর্মচারী এর আগেও বোর্ডের প্রাক্তণ দুই চেয়ারম্যান ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী তার দায়িত্বে রক্ষিত রয়েছে। আমরা সন্দিহান তার এই অন্তর্ঘাতমূলক আচরণের কারণে যেকোনো সময় নাশকতামূলক কর্মকা- ঘটাতে পারে। তার এই কার্যকলাপ বোর্ডের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী।

সেকশন অফিসার (স্টোর) মো. সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. কবীর আহমদ বলেন, আমাদের একজন এমপ্লয়ী নিয়ম বর্হিভূতভাবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন। যেহেতু তার আচরণ বিধি সন্দেহ জনক তাই ভবিষ্যতে বড় ধরনের অঘটন ঠেকাতে আমরা একটি জিডি করে রেখেছি।

জিডি’র বিষয়টি নিশ্চিত করে মোগলা বাজার থানার ওসি মো. শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, দুইপক্ষের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

সুত্র : দৈনিক জালালাবাদ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ