শুদ্ধি অভিযানে নেতারা টেনশনে: সিলেট আ.লীগে কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ

প্রকাশিত: ১১:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৯

শুদ্ধি অভিযানে নেতারা টেনশনে: সিলেট আ.লীগে কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ

লতিফ নুতন :: আওয়ামী লীগ সভাপতি, জাতির জনকের কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিকভাবে দল গোছাতে কঠোর অবস্থান নেয়ায় নেতারা টেনশনে, কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ, তৃণমূল আওয়ামী লীগে চলছে উল্লাস। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হওয়ায় হাইব্রিড, কাওয়া, অনুপ্রেবশকারীরা খুব টেনশনে। আওয়ামী লীগে গ্রুপ রাজনীতির অবসান হচ্ছে। গ্রুপ রাজনীতির খলনায়করা শুদ্ধি অভিযানে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেছেন।

সিলেট বিভাগজুড়ে চলছে সম্মেলনের উৎসব। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চলছে ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। জানা যায়, সম্মেলন নিয়ে কোথাও কোনো অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি। অনুপ্রেবশকারীরা দলের পদে আসছে না। মন্ত্রী-এমপি’র সহযোগীরা যারা দীর্ঘদিন দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী এবং তৃণমূল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে দূরে ছিলেন তাদের সাত কানন হচ্ছে। অনেকে প্রার্থী হতে ভয় পাচ্ছেন। এমনকি তৃণমূল আওয়ামী লীগের কাছে যেতে পারছেন না। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বলেছেন, দলে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরি পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে। এতে শংকিত অনুপ্রেবশকারীরা।

এবার বলি সিলেটের বর্তমান অবস্থা। নানা মেরুকেরণ চলছে সিলেট আওয়ামী লীগে। নেতাপূজা বন্ধ হয়ে গেছে। নেতারা মুখ খুলতে নারাজ। যারা দীর্ঘদিন ধরে পরিবারতন্ত্র, দলের পদ জুড়ে বসে আছেন তাদের বিদায় হতে হবে। কোণঠাসা তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতারা নতুন মুখ চান। সাবেক ছাত্রনেতা যারা দীর্ঘদিন ধরে দলে কোণঠাসা নেতা পূজা করেননি তারা সরব ভূমিকা পালন করছেন। সবাই খুশী যোগ্যতা বলে এবার রাজনীতিতে স্থান করে নিতে পারেন। এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা রাজাকার পুত্রের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি প্রার্থী হবেন কি না। বলেছিলাম ভয় কিসের। আপনিতো এতদিন মন্ত্রীর লোক ছিলেন। বিগত দশ বছর রাম রাজত্ব কায়েম করলেন, এখন ভয় পাচ্ছেন কেন? তিনি কথা বলতে নারাজ হন।

আগামী ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। বিভিন্ন সংবাদপত্রে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের নাম প্রকাশ হচ্ছে। কিন্তু প্রার্থীরা মুখ খুলতে নারাজ। বন্ধু আওয়ামী লীগ নেতার সাথে কথা হলে বলেন, আমাদের নাম প্রকাশ করে আপনারা সাংবাদিক আমাকে বিপদমুখী করছেন কেন? গোয়েন্দা নজরদারী আমার দিকে ধাবিত করবেন না। তরুণ নেতৃত্বের দিকে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। সাবেক পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতাদেরকে উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা আওয়ামী লীগে দেওয়া হোক তৃণমূল আওয়ামী লীগের দাবী। দলের স্বার্থে ঘরে বসার সময় এখন নেই। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
আগামী ৩০ নভেম্বর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। বিভিন্ন মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ড সম্মেলন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। কর্মীদের মাঝে উল্লাস-আনন্দ থাকলেও নেতাদের মধ্যে নেই আনন্দ। কারণ নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আগামী দিনের নেতৃত্বে কে আসছেন। গোয়ন্দাদের পাশাপাশি, তৃণমূল আওয়ামী লীগ চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। এক সময়ের ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে অনেক নগর আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথা হলে বলেন, আমাদের নিয়ে লেখালেখীর প্রয়োজন নেই। নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা বিগত কমিটি পরিবারতন্ত্র করেছেন। সিসিক নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্য আজও কাঁদে তৃণমূল আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরা। যাদেরকে দায়ী করে শোকজ করা হয়। তাও ফ্রিজে বন্দি। সিসিক নির্বাচনে কর্মীরা পরাজিত হয়নি। গুটিকয়েক নেতা যড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করেছে। পরাজয়ের গ্লানি এখনো যায়নি। ৩০ নভেম্বরের সম্মেলনে তার জবাব দিবে কর্মী বা কাউন্সিলররা।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্বাচনী এলাকা গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক। নুরুল ইসলাম নাহিদ দলের করুণ অবস্থার জন্য সমালোচিত। ২০০৪ সালে গোলাপগঞ্জ ও ২০০৩ সালে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আর ছাত্রলীগের বর্তমান প্রজন্ম জানে না তাদের সর্বশেষ সম্মেলন কবে হয়েছে। আগামী ১৩ ও ১৪ নভেম্বর গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন নিয়ে মহাউল্লাস কর্মীদের মাঝে। বিশেষ করে যারা গত এক যুগ নুরুল ইসলাম নাহিদের সান্নিধ্যে যেতে পারেননি তাদের মাঝে উৎসাহ বেশী। সাবেক ছাত্রনেতা আর সাবেক মন্ত্রীর প্রিয়ভাজন হয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তারা যেন দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে না পারে সেদিকে সাধারণ কর্মীদের নজর। নেতায় নেতায় ঐক্য হলেও অতীতকে ভুলতে পারছেন না তৃণমূল আওয়ামী লীগ। এছাড়া যেসব নেতা সাবেক মন্ত্রীর পাশে থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাধারণ নেতা-কর্মীদের দল থেকে দূরে রেখেছেন তাদের জন্য সুখবর নেই। তৃণমূলের মতামত নিয়ে যারা গ্রুপিং রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের এবার সাত কানন প্রয়োজন।

গত ২৭ ও ২৯ জুলাই সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগের সম্মেলন হয়েছে। পদ থেকে বিতাড়িত যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর দেয়া ভোটের মাধ্যমে কমিটি নিয়ে এখনো ক্ষোভ যায়নি যুবলীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে। ভোট হয়েছে ঠিক কিন্তু গননা হয়েছে অঠিক। যা সিলেটে চাউর হয়ে আছে। সিলেট যুবলীগে শুদ্ধি অভিযান হতে পারে। অনুপ্রেবশকারীরা বিতাড়িত হতে পারে। এমনি জেলা ও নগর কমিটি বিলুপ্তি সময়ের দাবী।

সিলেটে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নাজুক অবস্থা। ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসার কমিটি দিয়ে যান। কিন্তু বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক। অনুপ্রেবশকারী ও প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাদের কারণে সাংগঠনিক অবস্থা ঝিমিয়ে পড়েছে। মোল্লা আবু কাওসার পদচ্যুত হওয়ায় সিলেটে তার অনুসারীরা গা ঢাকা দিয়েছে। শেষ কথা হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার নিজস্ব টিম আর গোয়েন্দা রিপোর্ট নিয়ে সিলেটের আওয়ামী লীগ পরিবারের সর্বশেষ খবর নিয়ে যাতে সিলেট আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান চলে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ