শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ধ্বংস করতে ভয়ংকর চেষ্টা চালানো হয়: হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ধ্বংস করতে ভয়ংকর চেষ্টা চালানো হয়: হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলার আপিলের রায়ে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সমগ্র জাতিকে পিছিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। সে অবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার উন্নত দেশ গঠনের চেষ্টা শুরু করলে তার জনপ্রিয়তাকে ধ্বংস করতে ভয়ংকরভাবে চেষ্টা চালানো হয়। এটি দেশের জন্য কালো, জঘন্য ও বর্বরোচিত অধ্যায়।

আদালত বলেন, কোটালীপাড়ায় বোমা হামলার প্রচেষ্টার মাধ্যমে মূলত আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। ১৫ আগস্টের পর ইতিহাসে আরও একটি কলঙ্কজনক কালো অধ্যার সৃষ্টি করতে চেয়েছিল জঙ্গিরা।

আদালত আরও বলেন, সেদিন কোটালীপাড়ায় বোমাগুলো ফুটলে বোমা পুঁতে রাখার স্থান থেকে চারপাশে এক কিলোমিটার ধ্বংসলীলায় রূপান্তরিত হতো। মাটির ভূগর্ভে ৯ ফুট ৫ ইঞ্চি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হতো এবং ওপরে ৩৪ ফুট পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করত। সব মিলিয়ে ওই হামলা সফল হলে চারপাশ ধ্বংসলীলায় পরিণত হতে পারত। আদালত বলেন, এ মামলার তদন্ত সন্তোষজনক ছিল না।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১০ জনকে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

পাশাপাশি যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেহেদী হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদ এবং ১৪ বছরের দণ্ডিত আনিসুুল ইসলাম ওরফে আনিসের সাজাও বহাল আছে। তবে খালাস দেওয়া হয়েছে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সারওয়ার হোসেনকে। এ ছাড়া কারাগারে থাকা ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মহিবুল­াহ ওরফে মফিজুর রহমানকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মহিবুল্লাহর কারাভোগ সম্পন্ন হওয়ায় এ নির্দেশ দেন আদালত।

বুধবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বাংলায় এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ মোহাম্মদ শাহীন মৃধা। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন অমূল্য কুমার সরকার। বাকি আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান, মোহাম্মদ আহাসান, ইমাদুল হক ও নাসির উদ্দিন।

এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন : ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক ওরফে মারফত আলী, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান ওরফে শিমন খান, ইউসুফ ওরফে মোসাহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে ওমর।

১৪ বছরের দণ্ডিত মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমানের দণ্ড বহাল রেখে আদালত বলেন, দেখা যাচ্ছে- শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর পর থেকে তার ১৪ বছর দণ্ড ভোগ করা হয়ে গেছে। তাকে বিচারিক আদালত ১৪ বছর দণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। সুতরাং জেলকোড অনুসারে এ আসামি তার ওপরে প্রদত্ত দণ্ড যদি ভোগ করে থাকেন, তবে তাকে মুক্তি দিতে (যদি অন্য কোনো মামলা না থাকে) নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর এ আপিল শুনানি শুরু হয়। ১ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে রায়ের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছিল। সে অনুসারে রায় ঘোষণা করা হয়।২০০০ সালে কোটালীপাড়া সফরের অংশ হিসাবে শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

সমাবেশের দুদিন আগে ২০ জুলাই কলেজ প্রাঙ্গণে জনসভার প্যান্ডেল তৈরির সময় শক্তিশালী বোমার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। পরে ওই কলেজের উত্তর পাশে সন্তোষ সাধুর দোকানঘরের সামনে থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল ৭৬ কেজি ওজনের বোমাটি উদ্ধার করে। পরদিন ২১ জুলাই গোপালগঞ্জ সদর থেকে ৮০ কেজি ওজনের আরও একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় আলাদা দুটি মামলা করা হয়। ২০১০ সালে মামলা দুটি ঢাকার ২ নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ২০ আগস্ট দুই মামলার একটিতে ১০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া একজন আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও তিনজনের ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার ২ নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম। রায় ঘোষণার এক সপ্তাহের মাথায় ২৭ আগস্ট বিচারিক আদালত থেকে পাঠানো ডেথ রেফারেন্স, রায় ও মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর আসামিদের পক্ষে তিনটি আপিল ও সাতটি জেল আপিল করা হয়। নিয়মানুসারে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্নের পর এ ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ