শেষ হলো পিংক বল টেস্টের প্রথম দিন

প্রকাশিত: 9:16 PM, November 22, 2019

শেষ হলো পিংক বল টেস্টের প্রথম দিন

খেলা ডেস্ক :: বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থেকে কলকাতা টেস্টের প্রথম দিন শেষ করল স্বাগতিক ভারত। সফরকারীদের ১০৬ রানের জবাবে ভারত নিজেদের প্রথম ইনিংসে আজ তুলে নিয়েছে ৩ উইকেটে ১৭৪ রান। তারা এগিয়ে আছে ৬৮ রানে, হাতে ৭ উইকেট। অধিনায়ক বিরাট কোহলি ৫৬* রানে অপরাজিত আছেন। আজিঙ্কা রাহানে অপরাজিত ১৯* রানে। ৫৪ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশি পেসার এবাদত হোসেন। একটি নিয়েছেন আল-আমিন হোসেন, যিনি দিবা-রাত্রির টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম উইকেট শিকারী।

বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে সাবধানী শুরু করে ভারত। তবুও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে ১৪ রানে মেহেদী মিরাজের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত করেন আল আমিন হোসেন। চা বিরতির পর নিজের প্রথম ওভারেই রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দেন এবাদত হোসেন। দারুণ বলটি ছেড়ে দিয়েছিলেন রোহিত। কিন্তু সেটা তার প্যাডে আঘাত হানলে ২১ রানেই ফিরতে হয় ইনফর্ম ওপেনারকে।

এরপর ৯৪ রানের জুটি গড়েন চেতেশ্বর পুজারা এবং বিরাট কোহলি। সেই এবাদতই তৃতীয় উইকেটের এই জুটি ভাঙেন চেতেশ্বর পূজারাকে (৫৫) সাদমানের তালুবন্দি করে। ৭৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। ভারত অধিনায়কের সঙ্গী হন আজিঙ্কা রাহানে। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটিতে শেষ হয় প্রথম দিনের খেলা।

শুক্রবার ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩০.৩ ওভারে মাত্র ১০৬ রানে অল-আউট হয় বাংলাদেশ। শুরুতেই জীবন পান ইমরুল কায়েস। ইশান্ত শর্মার বলে তাকে কট বিহাইন্ড দিয়েছিলেন আম্পায়ার জোয়েল উইলসন। রিভিউ নিয়ে বাঁচেন তিনি। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। সেই ইশান্ত শর্মার বলেই এলবিডাব্লিউ হয়ে যান মাত্র ৪ রান করা অভিজ্ঞ এই ওপেনার। এরপর ইমরুলের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন বাকী ব্যাটসম্যানরা।

অধিনায়ক মুমিনুল হক ৭ বল খেলে কোনো রান না করেই উমেশ যাদবের বলে রোহিত শর্মার তালুবন্দি হন। মোহাম্মদ মিঠুন ২ বল খেলে সেই উমেশ যাদবের বলেই ‘ডাক’ মেরে ফিরেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের হলো মুশফিকুর রহিমের আউট হওয়া। নির্ভরযোগ্য এই ব্যাটসম্যান আজ ০ রানে পেসার মোহাম্মদ শামির বলে বোল্ড হয়ে যান! এ যেন ‘ডাক’ মারার মিছিল!

একপ্রান্ত আগলে লড়তে থাকা সাদমান ইসলাম চলতি সিরিজের তিন ইনিংসে প্রথমবার দুই অংকে পা রাখেন। দলীয় ৩৮ রানে উমেশ যাদবের শিকার হন ২৯ রানে। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ যোগ দেন প্যাভিলিয়নে ফেরার মিছিলে। মাত্র ৬ রানে পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম এই সদস্য আউট হলে ৬০ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে লিটন দাস (২৪*) রানে আহত হয়ে ফিরলে ষোলকলা পূর্ণ হয় বাংলাদেশের। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেহেদী মিরাজ।

এভাবেই স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। মধ্যাহ্ণ বিরতির পর এবাদত হোসেনকে (১) বোল্ড করে দেন ইশান্ত শর্মা। লিটন দাসের বদলি হিসেবে নামা স্পিন অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিত মেহেদী হাসান মিরাজ ইশান্ত শর্মার চতুর্থ শিকার হন মাত্র ৬ রান করে। দলের সংগ্রহ তখন ৯৮ রান। মোহাম্মদ শামির বলে নাঈম হাসান (১৯) আউট হতেই মাত্র ৩০.৩ ওভারে ১০৬ রানে অল-আউট হয় বাংলাদেশ। ১২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন ইশান্ত শর্মা। উমেশ যাদব নিয়েছেন ৩টি আর ২টি নিয়েছেন মোহাম্মদ শামি।

বাংলাদেশ একাদশ: ইমরুল কায়েস, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাস, নাঈম হাসান, আবু জায়েদ চৌধুরি, ইবাদত হোসেন, আল আমিন হোসেন।

ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, চেতেশ্বর পুজারা, বিরাট কোহলি, অজিঙ্কা রাহানে, রবীন্দ্র জাদেজা, ঋদ্ধিমান সাহা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ইশান্ত শর্মা, মোহাম্মদ শামি, উমেশ যাদব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ