শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশন থেকে খাঁচায় বন্দী ময়না ও টিয়া উদ্ধার

প্রকাশিত: ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশন থেকে খাঁচায় বন্দী ময়না ও টিয়া উদ্ধার

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা একটি কলোনি থেকে খাঁচায় বন্দী বেশ কিছু ময়না ও টিয়া পাখি উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা। শুক্রবার রাতে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের স্টাফ কোয়ার্টার ও পাশের একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে এসব বন্য পাখি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেনের নির্দেশে জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট বুলবুল মোল্লার নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফরেস্ট গার্ড সুব্রত সরকার, রেল স্টেশন স্টাফ পয়েন্টম্যান আব্দুল খালেকের কোয়ার্টার থেকে একটি ময়না পাখি ও পাখি রাখার বেশকিছু খাঁচা উদ্ধার করেন।

এসময় আব্দুল খালেক াবী করেন, এই ময়না পাখির মালিক শ্রীমঙ্গল জিআরপি থানার ওসি আলমগীর হোসেন। পাখিটি ওসির সাথে কথা না বলে বন বিভাগের কাছে হস্তাস্তরে বাঁধা নে তিনি। পরে খাঁচাসহ ময়না পাখিটি রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে রাখা হয়। পরে জিআরপি ানা পুলিশের ওসি আলমড়ীর হোসেনের সাে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ পাখিটি তার নয়, তবে কেনার কথা ছিল বলে জানান। পরে স্টেশন সংলগ্ন শ্রীমঙ্গলের সাবেক স্টেশন মাস্টার (বর্তমানে সিলেটে কর্মরত) জাহাঙ্গীর হোসেনের কোয়ার্টারে বেশ কিছু বন্য পাখি রয়েছে বলে জানতে পারেন ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট সদস্যরা।

এসময় তারা স্টেশন মাস্টার জাহাঙ্গীর হোসেনের কোয়ার্টার থেকে বন্য পাখি উদ্ধারে জিআরপি পুলিশের সহযোগীতা চাইলে ওসি আলমগীর হোসেন জানান, জিআরপির সাহায্য নিতে হলে রখাস্ত দিতে হবে। পরে তা এসপি বরাবর পাঠিয়ে অনুমতি আনতে হবে। ওসি আলমগীর হোসেন সে পর্যন্ত পাখিগুলি প্রহরা দিতে ৪ জন বনরক্ষী নিয়োগের পরামর্শ দিয়ে কালক্ষেপন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া জিআরপি ওসি সাফ জানিয়ে নে রেল লাইনের ১০ ফুট পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব। বাকিটা বেঙ্গল পুলিশের এখতিয়ার।
পরে মৌলভীবাজার বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করে শ্রীমঙ্গল থানা থেকে পুলিশ টিম নিয়ে জিআরপি ওসি আলমগীর হোসেনের ময়না পাখিটি উদ্ধার করে বন বিভাগের কর্মীরা। পরে স্টেশন মাস্টার জাহাঙ্গীর হোসেনের কোয়ার্টার থেকে ২টি টিয়া, ২টি শালিক, ঘুঘুসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৮টি বনের পাখি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া স্টেশন সংলগ্ন শাহীবাগ এলাকার রেল লাইনের ধারে একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে শাহিদা আক্তার নামে এক মহিলার হেফাজতে থাকা আরো একটি ময়না উদ্ধার করেন বন কর্মীরা।

শ্রীমঙ্গলে কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাবেক স্টেশন মাস্টার বর্তমানে সিলেটে বদলি হলেও তার পরিবার কোয়ার্টারে থাকে। তিনি শখের বসে কিছু সৌখিন পাখি ও দেশী পাখি লালন-পালন করে থাকেন। অভিযান কালে স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন এসব পাখি উদ্ধারে বন বিভাগ ও পুলিশের সদস্যদের সহযোগীতা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল জিআরপি থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, রেল স্টেশন থেকে ১০ ফুট এলাকা তাদের নিরাপত্তা দেখার এখতিয়ার রয়েছে। এর বাইরে বেঙ্গল পুলিশের ায়িত্ব। তবে তার কোন সাহায্য চাইলে যে কেউ লিখিত আবেন করতে পারেন। তবে তিনি পয়েন্ট ম্যান আব্দুল খালেকের কাছ থেকে টিয়া পাখিটি কিনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কিনেননি বলে জানান।

তবে আব্দুল খালেক জানান, লোহার খাচাঁসহ ওসি সাহেব ময়না পাখিটি কিনেছেন। এরপর থেকে তার তিনি ময়নাটি তার কোয়ার্টারে রেখে প্রতিপালন করছেন।

অভিযান শেষে জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট বুলবুল মোল্লা বলেন, দেশী বন্যপ্রাণী ধরা পোষা অথবা খাওয়া ন্ডনীয় অপরাধ। তিনি উদ্ধারকৃত বন্য পাখিরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবারো বনে অবমুক্ত করা হবে বলে জানান।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ