শ্রীহট্ট-রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুরবাড়ির গভীরতা অতলস্পর্শী : রবীন্দ্র স্মরণোৎসবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন

প্রকাশিত: 10:45 PM, November 8, 2019

শ্রীহট্ট-রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুরবাড়ির গভীরতা অতলস্পর্শী : রবীন্দ্র স্মরণোৎসবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন

জেবুন্নেছা হককে লাঞ্ছিত করলেন মুহিত!

নিজস্ব প্রতিবেদক :: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘সিলেটে প্রায় তিন বছর আগে বেঙ্গল উৎসব হয়েছিল। এবার রবীন্দ্রনাথ স্মরণোৎসব হলো, যা সিলেটের সর্ববৃহৎ উৎসব। সিলেট সবসময়ই আলাদা। শতবর্ষ পূর্বে রবীন্দ্রনাথ যখন সিলেটে আসেন, তখন তাকে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সবাই স্বাগত জানায়। শতবর্ষ পরও সবাই একাত্ম হয়ে রবীন্দ্র স্মরণোৎসবকে সফল করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বাঙালির দ্রোহে, নান্দনিক উচ্ছ্বাসে রবীন্দ্রনাথ অপরিহার্য মানব। শ্রীহট্ট তথা সিলেটের সাথে রবীন্দ্রনাথ ও জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সম্পর্কের গভীরতা অতলস্পর্শী। শতবর্ষ পূর্বে বিশ্বকবি এসেছিলেন শ্রীভূমে। শতাব্দির কালপটে দাঁড়িয়ে তাই আয়োজন করা হয় ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ: শতবর্ষ স্মরণোৎসব’। এই স্মরণোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

১ নভেম্বর থেকে সিলেটে রবীন্দ্র স্মরণোৎসব চলছিল। তবে মূলপর্ব শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। রবীন্দ্রনাথকে মন ও মননে ধারণের আবাহনে শুক্রবার রাতে শেষ হয় এই স্মরণোৎসব।

শুক্রবার বিকাল ৪টায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় রবীন্দ্র স্মরণোৎসবের শেষ হয় অনুষ্ঠানমালা। অনুষ্ঠানে ছিল একক ও সম্মেলক আবৃত্তি, নৃত্য, সঙ্গীত ও আলোচনা প্রভৃতি। আলোচনা পর্বে রবীন্দ্র স্মরণোৎসব পর্ষদের আহবায়ক ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীকে এম খালিদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ কয়েছ, সিলেটের সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, সিলেটে একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার দাবি ওঠেছে। এতে আমাদের দ্বিমত নেই। সিলেটের মেয়র যদি একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে পাঠান, তবে তা অনুমোদন পেতে পারে। যেহেতু সিলেট থেকে পরিকল্পনামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, তারা এ বিষয়টি নিশ্চয়ই দেখবেন।
রবীন্দ্র স্মরণোৎসবের সমাপনীতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, লাইসা আহমেদ লিসা, অনুপম কুমার পাল, অসীম দত্ত, ভারতের পদ্মশ্রী পূর্ণদাস বাউল, অগ্নিভ বন্দোপ্যাধ্যায় প্রমুখ।

এদিকে অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা জেবুন্নেছা হক সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে লাঞ্ছিত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আলোচনা সভা শেষে মঞ্চ থেকে নেমে প্রথম সারিতে বসা দেখেন সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস ও সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা হককে। এসময় এমপি কয়েস উনার বসার জায়গা থেকে সরে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য ছেড়ে দেন। বসা থাকেন জেবুন্নেছা হক। এসময় সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত রাগান্বিত হয়ে বলেন, ‘উঠো, উঠো, এখান থেকে চলে যাও’। এসময় জেবুন্নেছা হক কেঁদে বলেন, আল্লাহ এর বিচার করবেন। এসময় আবার মুহিত বলেন, ‘যাও চলে যাও’।

এ ব্যাপারে সৈয়দা জেবুন্নেছা হকের মুঠোফোনে ফোন দিলে উনার মেয়ে সিসিক কাউন্সিলর এডভোকেট সালমা সুলতানা বলেন, উপস্থিত সবাইকে জিজ্ঞেস করে দেখেন তারা বলতে পারবেন সেখানে কি হয়েছিল। আমি এখন কথা বলতে পারব না। আমার মা অসুস্থ হয়ে গেছেন।

এদিকে শুক্রবার বেলা সোয়া বারোটার দিকে তিনি বিমানযোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ,সহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ