সময়ের সাহসী সন্তান এড.নাসির উদ্দিন খান….

প্রকাশিত: ১১:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২১

সময়ের সাহসী সন্তান এড.নাসির উদ্দিন খান….

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমরা ভুলে গেছি ‘সময়ের সাহসী সন্তানেরা বারবার আসে, বারবার যুদ্ধে যায়’ স্লোগানটির কথা । অসাধারণত্ব ফুটে ওঠে তার সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে। সু-দর্শন এই নেতা হলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান।

দেশে যখন পাঁচজন বিদেশি রাষ্ট্র/সরকারপ্রধান উপস্থিত সে সময়ে একদল স্বাধীনতাবিরোধী একাত্তরের পরাজিতদের বংশধর যে ধরনের উন্মাদনা সৃষ্টি করে দেশের ভাবমূর্তি তলানিতে নিক্ষেপ করেছে রবিবার হরতাল ডেকেছে সারা দেশে । একাত্তরের পরাজিত শক্তি মৌলবাদীরা দেশের মহান স্বাধীনতা দিবসকে রক্তাক্ত দিবসে পরিণত করার একটাই কারণ হতে পারে, যা হলো- দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তাদের লুকায়িত অবস্থানের মনোবাঞ্ছনার প্রকাশ্য নিদর্শন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কেউ এই পবিত্র দিনকে চরম বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে অপবিত্র করতে পারে না। এ ব্যাপারে তো কোনো দ্বিমত থাকতে পারে না যে, এরা এবং এদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য সবকিছু করতে। সেদিন তারা বা তাদের পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ করেছে, বহু লোক হত্যা করেছে, বহু নারীকে নির্যাতিত করেছে। রাজাকার, আলবদর হিসেবে কাজ করেছে ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঠেকাতে। কিন্তু বাংলার মুক্তিকামী আপামর জনতার জোয়ারে ওরা সেদিন ভেসে গিয়েছিল, তবে নিঃশেষিত হয়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়া-মোশতাকের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের মোর্চা গড়ে উঠলে তারা জিয়াকে ত্রাণকর্তা পেয়ে তার ছত্রছায়ায় একত্রিত হয়ে দেশে আবার ধর্মভিত্তিক রাজনীতি শুরু করে।

আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান এবং বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতকের অনুষ্ঠানের ঠিক আগ দিয়ে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির সুনামগঞ্জে হিন্দুদের ওপর বর্বর আক্রমণও একইসূত্রে গাঁথা। এর পেছনেও পাকিস্তান ও পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের মদদের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাদের কার্যক্রমগুলো স্বাধীনতার অনুষ্ঠান এবং বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতক উদ্যাপন প- করার উদ্দেশ্য ছিল তাও বলার অপেক্ষা রাখে না।

ঠিক সেই সময় হেফাজতে ইসলামের ডাকে হরতালের প্রতিবাদে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো: নাসির উদ্দিন খানের নেতৃত্বে শোডাউন দিয়েছে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ। রবিবার (২৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শোডাউনে অংশ নেন।

এই সমাবেশে সময়ের সাহসী সন্তান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেছেন, তথাকথিত হরতাল ও সহিংস কর্মসূচী ঠেকাতে রাজপথে থাকবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে হেফাজত, জামাত-শিবির ও বিএনপি উঠেপরে লেগেছে। যারা জ্বালাও পোড়াও, দোকানপাঠ ভাংচুর করে তারা দেশের মানুষের শান্তি চায় না। এদেরকে প্রতিহিত করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সেই সাথে হরতাল ও সহিংস কর্মসূচী প্রতিহিত করতে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগ সবসমবয় মাঠে থাকবে। রাজপথেই মৌলবাদীদের বিষদাত ভেঙ্গে দেওয়া হবে।

এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন , পাকিস্তানকে এখনো আন্তর্জাতিক মহল সন্ত্রাস রপ্তানিকারী এবং জঙ্গিদের অর্থায়নকারী দেশ হিসেবে বিবেচনা করছে। জঙ্গি অর্থায়ন তদন্ত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল ইনটিলিজেন্স টাস্কফোর্স (এফআইটিএস) পাকিস্তানকে পুনরায় ধূসর তালিকাভুক্ত করেছে জঙ্গি অর্থায়নকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এই রাজাকার সন্তানেরা যে ধর্মীয় কারণে মোদি বিরোধিতা করছে না, সেটা অত্যন্ত স্পষ্ট। ধর্মই যদি কারণ হতো তাহলে তারা চীনের বিরুদ্ধে কথা বলত, কেননা চীন কয়েক বছর ধরে উইঘুর মুসলিমদের ওপর যে হারে গণহত্যা এবং ধর্ষণ চালাচ্ছে তাতে বিশ্ব বিবেক প্রকম্পিত। অথচ এই পাকিস্তানপ্রেমীরা টুঁ শব্দ করছে না। কারণ চীন এদের প্রিয় দেশ। পাকিস্তানের প্রিয়তম বন্ধু। আর মোদির বিরুদ্ধে এদের অবস্থানের কারণ মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী আর ভারত ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অপরিহার্য সহায়ক শক্তি।

এর আগে সিলেট সরমা মার্কেট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি কোর্ট পয়েন্ট, বন্দর বাজার, জিন্দাবাজার হয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গা প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় বদর উদ্দিন আহমদ কামরান চত্বরে এসে বিক্ষোভ মিছিল শেষ হয়।

মিছিলে শেষে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো.নাসির উদ্দিন খানের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদ ভিপি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফছর আজিজ, জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এড.শাহ ফরিদ আহমদ, এড.মো.নিজাম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম কামাল, মোহাম্মদ আলী দুলাল, কবির উদ্দিন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহফুজুর রহমান, এড. রনজিৎ সরকার, আইন সম্পাদক এডভোকেট আজমল আলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো: মবশ্বির আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মুস্তাক আহমদ পলাশ, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এমাদ উদ্দিন মানিক, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বুরহান উদ্দিন আহমদ, শ্রম সম্পাদক সাইফুর রহমান খোকন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সামসুল আলম সেলিম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা: মোহাম্মদ সাকির আহমদ (শাহীন), উপ-দফতর সম্পাদক মো: মজির উদ্দিন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মতিউর রহমান, কোষাধ্যক্ষ শমসের জামাল, সদস্য মো: নিজাম উদ্দিন চেয়ারম্যান, এড. বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, এম কে শাফি চৌধুরী এলিম, আমাতোজ জোহরা রওশন জেবিন, এড. আফসর আহমদ, এড. ফখরুল ইসলাম, এড. মনসুর রশীদ, শাহিদুর রহমান চৌধুরী জাবেদ প্রমুখ।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহমদ কয়েছ, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন দেব নাথ, জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সালমা সুলতানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাধুরী গুন, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক তাসমিহ বিনতে স্বর্ণা প্রমুখ।

 

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ