ছাতক জুড়ে তোলপাড় ,বোনের জামাই বকুল চৌধুরী যা বললেন

প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

ছাতক জুড়ে তোলপাড় ,বোনের জামাই  বকুল চৌধুরী যা বললেন

ছাতক প্রতিনিধি ::: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে সরকারি নলকূপ বরাদ্দের তালিকায় এবার নাম এসেছে খোদ সংসদ সদস্যের প্রবাসী ভাইয়ের। উপজেলার উত্তর খুরমা, সৈয়দের গাঁও, ইসলামপুর ও নোয়ারাই ইউনিয়নে যে ৫৬জন ব্যক্তির নামে নলকূপ বরাদ্দের তালিকা করে জমা দেওয়া হয়েছে তাতে ৪২ নম্বরে নাম রয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের ভাই মিজানুর রহমান হিরুর। হিরু বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। গত ১২ জুন সুনামগঞ্জ-৫ আসসেন আলোচিত সাংসদ মানিক সাক্ষরিত তালিকাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ছাতকে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলী মিজানুর রহমান। এদিকে একজন ধনাঢ্য ব্যক্তির নামে সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। ওই প্রবাসী মানিকের ভাই হওয়ায় কারণে পক্ষে বিপক্ষে চলছে নানা কথা। উপজেলার একাধিক ব্যাক্তির সাথে আলাপকালে তারা জানান, এমপি মানিকের তৈরী করা তালিকাটি লুটপাটের জন্যই করা হয়েছে। না হয় প্রবাসী ভাইয়ের নামে সরকারি নলকূপ বরাদ্দ করা হতো না। এমনকি তালিকায় অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা সামর্থবান। তারা নিজেরাই তা ব্যবহার করবেন। অথচ শর্ত রয়েছে কয়েকটি পরিবার ব্যবহার করতে পারে এমন ব্যাক্তি নলকূপ বরাদ্দ নিতে পাবেন। তারা জানান, তালিকায় অনেকের ঠিকানা অসম্পূর্ণ। এসব নলকূপ নিয়ে বানিজ্য করা হবে।

অবশ্য এমপির এক অনুসারী জানান, সরকারি শর্ত পূরণ করে যে কেউ ফি জমা দিয়ে নলকূপ নিতে পারবেন। এতে দোষের কিছু নয়। এমপি মানিকের ভাই হোক আর অন্য কেউ হোক। একটি পক্ষ অপপ্রচার করছে বলে তিনি মনে করেন।

ছাতক উপজেলা যুবলীগনেতা জসিম উদ্দিন লিখেছেন, ছাতকের সবকিছুতেই দুর্নীতি হচ্ছে ।টিউবওয়েলে বরাদ্দে আরও দুর্নীতি যোগ হলো।এ যেন দেখার কেউ নেই ।তালিকায় দেখলাম যাদের সামর্থ্য আছে তাকেই টিউবওয়েল দেওয়া হয়েছে ।একজন গরীব দিনমজুরের নাম নেই!আমি দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।ছাতকের জনপ্রতিনিধিরেদর সম্পদের হিসাব নিলেই তিনফুটরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ যে হয়েছেন সব বেরিয়ে আসবে ।

রশিদ আহমদ নামের এক ব্যক্তি ফেইসবুক আইডিতে ট্যাগ করার পর আনর উদ্দিন নামের একজন লিখেছেন, ‘অবাক করার কিছু নাই।… ভিক্ষুকের টাকা পেলে তারা খাবে’।

এমনকি ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান চৌধুরী বকুল তার ফেসবুক আইডিকে লিখেছেন- ‘কত ভয়ঙ্কর পর্দা-বালিশকেও হার মানায়। সবকিছু খুলে বলতে হবে কেন………….. আর কত নীচে নামতে পারে’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার প্রেক্ষিতে

বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন এমপি মানিকের ব্যক্তিগত সহকারী মোশাহিদ আলী। তিনি লিখেছেন- ‘যার যেমন চরিত্র, সবকিছুতেই সে তার মতো করে দালালী করে। ………. বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা। …… সরকার প্রতি ইউনিয়নে সাবমার্জিবল মটরসহ ১৩টি করে নলকূপ বরাদ্দ দিয়েছে। ……… ফি জমা দিয়ে যে কেউ নলকূপ নিতে পারেন। … সামর্থ্যবান হিসেবে মিজানুর রহমান হিরুর নাম দেওয়া হয়েছে’। এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, তালিকা পেয়েছি। একটি নলকূপ থেকে ৪-৫টি পরিবার যাতে পানি পায় সে শর্ত রেখেই নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য সরকারি ফি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। কে কার আত্মীয় সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ