‘সর্বদলীয় বৈঠকে মোদির বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে’

প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

‘সর্বদলীয় বৈঠকে মোদির বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে’

অনলাইন ডেস্ক :; ভারতের সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেয়া বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

শনিবার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) বলেছে, সর্বদলীয় বৈঠকের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল গালওয়ানে ১৫ই জুনের ঘটনায় ২০ ভারতীয় সেনার নিহতের ঘটনা। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর যে সব সেনা জওয়ান চীনাদের অপপ্রয়াসকে বাধা দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী, তাদের শৌর্য্য এবং দেশাত্মবোধকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র বলেন, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারতের দিকে চীনা সেনারা ঢুকতে পারেনি, তার কারণ আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছিলেন। ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা বাহিনীর কাঠামো তৈরির চেষ্টাকে ১৬ নম্বর বিহার রেজিমেন্টের সৈন্যরা বাধা দেয়, তার ফলে উদ্ভুত ঘটনায় তারা প্রাণ বিসর্জন দেন। ’

প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্য ছিল, ‘যারা সীমানা পেরিয়ে আমাদের দেশে ঢোকার চেষ্টা করছিল, আমাদের দেশের সাহসী সন্তানরা তাদের বিরুদ্ধে যোগ্য জবাব দিয়েছে’। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অটুট মনোবলের জন্যই এটি সম্ভব হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘আমি আপনাদের এই বলে নিশ্চিত করতে চাই যে, আমাদের সীমান্ত যথাযথভাবে রক্ষায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কোনো চেষ্টার ত্রুটি রাখবে না’।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় ভূখণ্ড কতটা জায়গা জুড়ে রয়েছে, ভারতের মানচিত্রেই তা স্পষ্ট। বর্তমান সরকার দৃঢ়ভাবে তা রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। গত ৬০ বছরে ৪৩ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা কিভাবে হাতছাড়া হয়েছে দেশ সে বিষয়ে অবগত রয়েছে। সর্বদলীয় বৈঠকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয় কোন কোন জায়গা অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। নিয়ন্ত্রণ রেখাকে এককভাবে পরিবর্তন ঘটাতে বর্তমান সরকার অনুমতি দেবে না বলেও বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়।

শনিবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে টুইটবার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, চীন এ দেশে না ঢুকলে ভারতীয় সেনার মৃত্যু হল কেন? কোন এলাকায় মৃত্যু হল তাঁদের? চীনা আগ্রাসন নিয়ে সর্বদল বৈঠকের পর, বেলা গড়াতেই তার উত্তর এল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফে। টুইটে আহত জওয়ানের বাবার বক্তব্যের ভিডিও জুড়ে অমিত শাহ পাল্টা আক্রমণ করেছেন— রাহুল গান্ধীর উচিত দেশের সংহতির স্বার্থে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক গণ্ডির ঊর্ধ্বে উঠে আসা।

লাদাখ সীমান্তে চীনা আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে তিনি দাবি করেন, চীন থেকে লাদাখে কেউ ভারতের ভূখণ্ডে ঢোকেনি। কেউ ভারতের এলাকায় ঢুকে বসেও নেই।

এর প্রেক্ষিতেই এ দিন সকালে প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধে টুইট করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় ভূখণ্ড চীনের আগ্রাসনের সামনে সমর্পণ করে দিয়েছেন। যদি ওই ভূখণ্ড চীনেরই হয়, তা হলে আমাদের সেনার মৃত্যু হল কেন? সেনাদের মৃত্যু হল কোন জায়গায়?’

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাহুলকে নিশানা করে পাল্টা টুইট করেন অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, ‘‘একজন সাহসী সেনার বাবা বলছেন এবং রাহুল গান্ধীকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন।’

এর পরেই অমিত শাহ যোগ করেছেন, ‘যখন গোটা দেশ এক, তখন রাহুল গান্ধীর উচিত ক্ষুদ্র রাজনৈতিক গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসা এবং দেশের স্বার্থে পাশে দাঁড়ানো।’

টুইটে গলওয়ান উপত্যকায় চীনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত সেনাকর্মীর বাবার বক্তব্যের ভিডিও জুড়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘ভারতীয় সেনা শক্তিশালী এবং তারা চীনা বাহিনীকেও হারাতে পারে। রাহুল গান্ধী, আপনি রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না। সেনাবাহিনীতে আমার ছেলে লড়াই করেছে এবং লড়াই চালিয়ে যাবেও।’

শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকে কংগ্রেস ও বিভিন্ন দলে প্রশ্নবানে জর্জরিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাদের প্রশ্ন ছিল প্রধামন্ত্রী যদি বলেন যে, আমাদের সীমান্তে চীনা সেনাবাহিনী ঢুকেনি, তাহলে সেখানে আমাদের সেনারা কেন মারা গেল?

রাহুল গান্ধী আরও বলেন, ‘‘এটা স্পষ্ট যে গালওয়ানে চীন যে হামলা চালিয়েছে, তা পূর্ব পরিকল্পিত। কেন্দ্রীয় সরকার প্রথমে ঘুমোচ্ছিল এবং পরে তা অস্বীকার করে। এর মূল্য চোকাতে হয় আমাদের শহীদ জওয়ানদের।’’

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ