সাংসদ মানিকের পি এস মোশাহিদ আলীকে নিয়ে তোলপাড় চলছে!

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

সাংসদ মানিকের পি এস মোশাহিদ আলীকে নিয়ে তোলপাড় চলছে!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ছাতক দোয়ারাবাজার থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের একান্ত সচিব মোশাহিদ আলীকে নিয়ে তোলপাড় চলছে। সমালোচনার ঝড় বইছে ছাতক- দোয়ারাবাজার উপজেলায় । গত ১২ অক্টোবর দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আব্দুর রহিমের একটি বিতর্কিত বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে সাংসদ মানিকের পক্ষে দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ডাঃআব্দুর রহিমের সমালোচনা করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে পাল্টা একটি বক্তব্য ফেসবুকে পোস্ট করেন। এতেই শুরু হয়। সমালোচনা । মোশাহিদ আলীর বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে রুহুল ফেরদৌস পলক।

পলক তার ফেসবুক আইডিতে মোশাহিদ আলীর কঠোর সমালোচনা করে বিতর্কে ঘি ঢালেন। তিনি মোশাহিদ আলীকে নোয়ারাই ইউনিয়নের বেতুরা গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার মৃত ফকির চেয়ারম্যানের সহচর, পাকবাহিনীর দুসরের পুত্র উল্লেখ করেন। মোশাহিদ আলীকে যুবদল থেকে রাতারাতি খোলশ পাল্টে আওয়ামীলীগ হয়েছেন বলে দাবি করেন।

নরসিংপুর বাজারের টো টো কোম্পানির ম্যানেজার। জন্মান্ধ না কিছুদিন হইলো অন্ধ”। এসব বিতর্কিত বিষয় উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট করার পর তোলপাড় শুরু হয়।

নীচে রুহুল ফেরদৌস পলকের লেখা পোস্ট পাঠকের জন্য হুবহু দেয়া হলো । জনাব মোশাহিদ সাহেব,

যেহেতু আপনি মাননীয় এমপি মহোদয়ের একান্ত সচিব,তাই যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেই বলছি যেহেতু বাদশার বাড়ির যে কেউকে সম্মান দেখাতে হয় তাই।

আমার আব্বা ডাঃ আব্দুর রহিম সম্পর্কে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন! প্রশ্ন আপনি যতই স্ট্যাটাস দেন না কেন আপনি আমার আব্বার সমান হতে পারবেন? কিংবা আমার আব্বা মাননীয় এমপি মহোদয় সম্পর্কে কোনো কিছু বলে থাকলে তিনি কি এমপি মহোদয়ের সমান হতে পারবেন ?

দুঃখ পেলে মানুষ আল্লাহ কেও গালি দেয়, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মঞ্চেও বক্তব্য দেওয়া হয় !

আমরা তো একই এলাকার লোক। সুতরাং আপনার তো আমার আব্বাকে জিজ্ঞেস করার অধিকার আছে ।

ব্যক্তিত্ব জাহির করার জন্য স্ট্যাটাস দিয়ে দিলেন !

আপনি বলছেন আমার আব্বা প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় নরসিংপুর ইউনিয়নে কোন কাজ করেন নি !

নরসিংপুর বাজারে অধিককাল কাঁটাইলেন টো টো কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে।

আপনি জন্মান্ধ না কিছুদিন হইলো অন্ধ হয়েছেন বুঝতে পারলাম না।

নরসিংপুর ইউনিয়নে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ ইং পর্যন্ত আমার আব্বা কি কি করেছেন তার হিসেব নেন এবং দিল পরিষ্কার করে সরেজমিনে দেখে আসার অনুরোধ রইলো।

১. লাস্তবেরগাঁও হইতে বালিউরা বাজার হইয়া জুয়াইরগাঁও, মুকিরগাঁও, জাহাঙ্গীরগাঁও হইয়া বড়খাল পর্যন্ত রাস্তা।

২. নৌকারভাঙা হইতে বালিউরা বাজার, নেতরছই, নরসিংপুর, ঘিলাছড়া, বিরেন্দ্রনগর হইয়া শারপিনপাড়া আইয়ুব আলীর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা।

৩. সোনাপুর চেলা নদীর পাড় হইতে নাছিমপুর বাজার হইয়া মন্তাজনগর পর্যন্ত রাস্তা।

৪. নরসিংপুর বাজার থেকে চাইরগাঁও বাজার পর্যন্ত রাস্তা ( যে রাস্তা বর্তমানে পাকাকরণ হয়েছে )

৫. পূর্ব সোনাপুর চেলা নদীর পাড়ে বেড়ীবাঁধ।

৬. সুনাইত্যা হইতে শ্রীপুর রাস্তা।

বালিউরা বাজার,নরসিংপুর বাজার, নাসিমপুর বাজার ফিস সেড।

🔺 নরসিংপুর ইউনিয়নের সকল বাজার মসজিদে ও বড় বড় গ্রামের মসজিদে মাইক সেট দেন।

🔺 নাসিমপুর মৌজার খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

নরসিংপুর বাজারে এতোকাল অবস্থান করার পরও কি এই কাজগুলো আপনার নজরে পড়ে নাই!

মিথ্যার একটা সীমা থাকা দরকার।

এখন আপনি বলেন আপনি মাননীয় এমপি মহোদয়ের একান্ত সচিব হিসাবে ১৫ বছর আছেন। আপনি কি একটুকরো মাটি নরসিংপুর বা নোয়ারাই ইউনিয়নে ফেলেছেন ?

এখন শুনি আপনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন ! ভালো কথা, আল্লাহ চাইলে হতে পারেন। এমপি মহোদয়ের ছত্রছায়ায় থাকিয়া যখন কিছুই করতে পারেন নাই, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে যে করবেন মানুষকে কিভাবে বুঝাবেন, বুঝা দায়।

আমার আব্বা অকৃতজ্ঞ নন।

মাননীয় এমপি মহোদয়ের সক্রিয় সাহায্যে উনার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি হয়েছে, হয়তো দুবছর পরে হতো কিন্তু এমপি মহোদয়ের সুপারিশে আগেই হয়েছে। আমার আব্বা হাটে মাঠে সভাসমাবেশে এমপি মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।

কিন্তু এর পরিপ্রেক্ষিতে আমার বয়োবৃদ্ধ আব্বা বিগত ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অক্টোবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর এই তিনমাস রাতকে দিন দিনকে রাত এমপি মহোদয়ের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তা কি মনে নেই ?

বিনিময়ে বিগত উপজেলা নির্বাচনে মাননীয় এমপি মহোদয় সশরীরে তো দূরের কথা টেলিফোনে কাউকে কিছু বলেছেন এই প্রমাণ দিতে পারবেন মোশাহিদ সাহেব ?

রাজনৈতিক বক্তব্য প্রত্যাহারের কি আছে।

বরং আপনি যে চোখ থাকতে অন্ধ হইয়া আমার আব্বার নরসিংপুর ইউনিয়নের কাজ দেখেন নাই তার জন্য নরসিংপুর ইউনিয়নবাসীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হোন।

আর আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিযোগিতার জন্য নৌকা প্রতীক আকাঙ্খা করতেছেন, আগে নিজের পিঠটা দেখেন তারপর।

আপনার সম্পর্কে হয়তো মাননীয় এমপি মহোদয় অবগত নন।

আপনার বাবা মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজাকার মৃত ফকির চেয়ারম্যানের সহচর, পাকবাহিনীর দুসর ছিলেন। আপনার বাবাকে এলাকাবাসী কি ডাকনাম দিয়েছিলো তা না ই বা বললাম।

আপনি এমপি মহোদয়ের সহকারী হওয়ার পূর্বে কি ছিলেন এলাকাবাসীর অজানা নয়। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা ভুলেও করবেন না।

যুবদল থেকে রাতারাতি খোলশ পাল্টে আওয়ামীলীগ হয়েছেন তা কারো অজানা নয়।

what is your political background mr. mushahid ali?

you know what is mean by the word political person?

you are a assistant, who work for salary. that’s not politics. before say or write anything at first know what is the definition of politics. well wishes for you mr. ps.

দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃআব্দুর রহিমকে উদ্দেশ্য করে

সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের একান্ত সচিব মোশাহিদ আলী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন , আশা করবো অনতিবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে মানুষের আস্থায়, ভালবাসায় ও সম্মানে থাকতে সচেষ্ট হবেন।বিতর্কিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের দায় অন্যের উপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। বরাদ্দ যার, সেটা ব্যয় করার এখতিয়ার এবং দায় তাঁরই এর জন্য তিনি কাউকে দোষারোপ করতে পারেন না। এটাও হাস্যকর তিনি যে সরকারের আমলে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন সেই সরকারকে বিনা ভোটের সরকার বলছেন! এই সরকারের চেয়ে স্বৈরাচারী সরকার আমলকে ভাল বলছেন! এটাও সত্য যে, বিগত প্রায় বিশ বছরে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দোয়ারাবাজার উপজেলায় যে সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে তা এখন ভেঙে পড়েছে। জনগনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য তথা সরকার নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে, কোনোটার কাজ চলমান, কেনো কোনোটা টেন্ডার হয়েছে এবং কোনো কোনোটা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আছে।আজ যাকে তিনি বিনা ভোটের এমপি বলছেন তার কিংবা তার ভাষ্য অনু্যায়ী এই অগতান্ত্রিক সরকারের সহায়তা ছাড়া তিনি কি আজ মুক্তিযোদ্ধা হতে পারতেন? যদি সত্যই তিনি এই সরকারকে অগণতান্ত্রিক সরকার মনে করেন, তাহলে এই সরকারের কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধা সনদটা গ্রহন করলেন কোন যুক্তিতে? তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তথা চেয়ারম্যানদের ঢালাও ভাবে ফকিরনির পুয়াইন বলা কি উচিৎ হলো? একজন জনপ্রতিনিধির কাছে অপর জনপ্রতিনিধিরা সম্মান পাওয়ার আশা করে। অন্যকে অসম্মান করে নিজেকে কখনো সম্মানিত করা যায় না।

উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর সোমবার দুপুরে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলায় সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এলজিএসপির ব্যাগ ও বয়স্ক ভাতা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আব্দুর রহিম।

এ সময় তিনি সাংসদ মানিক,এলাকার উন্নয়নে আমলা তান্ত্রিক জটিলতা, বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেন । সেই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। আজ ১৪ অক্টোবর দোয়ারাবাজারে একটি সভায় তিনি বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চান।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ