সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেনের ‘৭১ সালের মার্চের করচা’

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২১

সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেনের ‘৭১ সালের মার্চের করচা’

নজির হোসেন : >>

নজির হোসেন। সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে তিনি ছিলেন টানা তিনবারের সংসদ সদস্য। শৈশবে রাজনীতির হাতে কড়ি দেশের তৎকালীন বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনয়নের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে যুক্ত হন অভিভাবক সংগঠন সিপিবির সাথে। ওই সংগঠন থেকে ১৯৯১ সালে সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে দল ত্যাগ করে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগদান করে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ও ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো বিএনপি থেকে একই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ১০ বছর সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, ৫ বছর জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও ২০০১ বিএনপি সরকারের আমলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৭’এর ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের সংস্কারপন্থি অংশের নেতা হিসাবে পরিচিতি পাওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে তাকে বহিস্কারও করা হয়। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ ও সুনামগঞ্জ-১ এই দুই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন তিনি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ থেকে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন।

নজির হোসেন ১৯৪৯ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শাহপুর গ্রামে জনাব মোঃ আব্দুল গণী ও সুয়েতুন নেছার ঔরসে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । এটি ঐতিহাসিক লাউর রাজ্যে কাগজী পরিবার নামে খ্যাত এক ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভ্রান্ত বংশ । পঞ্চাশ দশক পর্যন্ত অত্র পরিবার তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত ছিল । বাবা ছিলেন একজন ধার্মিক মৌলানা এবং ছোট ঔষধ ব্যবসায়ী । নজির হোসেনের পত্নী সালমা আক্তার একজন ব্যাংকার। শিশুকাল থেকেই নজির হোসেন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র, যার প্রথম জানান দেন পঞ্চম শ্রেণিতে স্কলারশিপ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বৃত্তি পেয়ে । দারিদ্রের কারণে সেই বাল্যকাল থেকেই টিউশনী করে পড়াশুনা চালিয়ে যান । অষ্টম শ্রেণি পাশের পর বাবা আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে পড়াশুনা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন । কিন্তু মা ছিলেন ছেলের পড়াশুনার পক্ষে, মায়ের কাছ থেকে চার আনা পয়সা চেয়ে নিয়ে সেই ১৯৫৭ সালে ভাগ্য এবং নিজের দৃঢ় মনোবলের উপর নির্ভর করে বাড়ী থেকে অজানার পথে বেরিয়ে পড়েন। নজির হোসেন ১৯৬৩ ইং সনে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সহিত প্রথম বিভাগে এস.এস.সি পাশ করেন । সে সময়ে প্রথম বিভাগ একমাত্র অনন্য মেধাবী ও চরম অধ্যবসায়ী ছাত্রেরাই পেতেন। অতঃপর সিলেট এম.সি কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় এইচ.এস.সি এবং বি.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৬৭ সালে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এস.সি (গণিত) তে ভর্তি হন।

ছাত্রাবস্থায় নজির হোসেন ১৯৬৫ সালে ছাত্র ইউনিয়নে যোগদানের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন । ১৯৬৬ সালে তিনি সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৬৮ সালে গোপন কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করে কঠোর অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে ১৯৬৯ সালে সিলেট জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্য নির্বাচিত হন । ৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন । ৬৯ সালের শেষের দিকে সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবির দায়িত্ব লাভ করে দলকে সংগঠিত করতে সুনামগঞ্জ চলে আসেন।সুনামগঞ্জ মহকুমার গোপন কমিউনিষ্ট সেলের প্রধান ছিলেন জনাব নজির হোসেন ৷

১৯৭১ সালে জুনের প্রথম দিকে শিলং এর সানী হোটেলে কমরেড বরুণ রায়, পীর হাবিবুর রহমান, বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ও সরদার লতিফের উপস্থিতিতে গোপন কমিউনিষ্ট পার্টির সিদ্ধান্তের আলোকে টেকেরঘাট সাব সেক্টর একটি গেরিলা যুদ্ধের জোন হিসেবে গড়ে ওঠে । বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত সেক্টর কমাণ্ডার ও নজির হোসেন টেকেরঘাট সাব সেক্টরের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৭২ সালে তিনি সুনামগঞ্জ মহকুমা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭৪ সালে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন । ১৯৭৪ সালে ১৮ মাস ব্যাপী রাজনৈতিক পড়াশুনার জন্যে মস্কোতে ছিলেন । ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ৪ বছর আত্নগোপনে ছিলেন এবং মুস্তাক সরকার বিরুধী শশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন ৷ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ১৯৮৫ সালে নিরাপত্তা আইনে ৬ মাস কারাবরণ করেন।

এখন তিনি রাজনীতি থেকে অবসরে আছেন। অবসরকালীন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগুলো তুলে ধরছেন নিজের ব্যক্তিগত টাইম লাইনে। মার্চ মাসে লেখা ধারাবাহিক পর্বগুলো বাংলা নিউজ ২৪ ফোর এনওয়াই পাঠকদের জন্য ধারাবাহিক প্রকাশ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

(আমার জীবনের গল্প “করোনা জেল থেকে বলছি” হঠাৎ করেই বন্ধ করে দিয়ে ছিলাম ৷লেখার তাগাদা দিচ্ছেন অনেকে ৷ একটা সাধারন মানুষের উপড়ে ওঠে আসার গল্প শুনতে চান ৷ আদর্শ ,নীতি ,দৃঢ়তা,অদম্য সাহস,জীবনের একটা মান ,পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ৷ এই গুলিই হল উপড়ে উঠে আসার চাবিকাঠি ৷)

নেতা তিনিই হতে পারেন যিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ৷কঠিন জটিল পরিস্থিতে সঠিক সিদ্ধান্ত ৷একটি আর্থ সামাজিক ব্যবস্থায় জনগনকে শাসনের জন্য অথবা জনশৃংখলা ব্যবস্থাপনার জন্য রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ ঘটে ৷সমাজের একটা মূহূর্তে রাজনৈতিক শক্তির আন্তঃসম্পর্ক ও শক্তি বিবেচনা করেই নেতা কৌশল নির্ধারন করেন ৷কর্মীর আখাংকা থেকে কৌশল নির্ধারন হলো ভুল ৷

এখন চলছে মার্চমাস ৷ একাত্তরের এই মাসে পশ্চিমা শাসকদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তূতি চলছিল ৷প্রতিটি দিনই ছিল অশান্ত ৷সুনামগঞ্জের সংগ্রামী মানুষের নেতৃত্বের কাঠামোর অগ্নিগর্ভা মার্চের স্মৃতি চারন অনেকের পথ চলার উপাদান হতে পারে ৷ )

এই সময় আমি একুশ বছরের টগবগে যুবক ৷দুরন্ত বিপ্লবী আখাংখা নিয়ে ছুটছি ৷সমাজতন্ত্রের বিপ্লব করতে হবে ৷সকল সম্পদকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আনতে হবে ৷গরীব ও ধনীর পার্থক্য ধ্বংস করে দিতে হবে ৷এজন্য বিপ্লবী অভ্যুত্থান করতে হবে ৷জনগনের মাঝে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে ৷বিষেশতঃ কৃষক শ্রমিক ছাত্র যুবককে সংগঠিত ও বিপ্লবে উজ্জিবীত করতে হবে ৷শ্রমিক শ্রেনীর একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে হবে ৷নিজেকে শ্রেনীচ্ছূত সর্বহারা ভেবে বাড়ী ঘরের সাথে সম্পর্ক ছেড়ে আমি এক নিবেদিত বিপ্লবী ৷জীবনের চলার পথে ১৯৭১ সালের মার্চমাস চলে আসে ৷এখন চারদিক চেয়ে দেখি সে মার্চ মাসের সমাবেশের নিঃসঙ্গ অধিবাসী ৷১৫ জনের সংগ্রাম পরিষদের ২জন বেচে আছি ৷আমি আর রমেন্দ্র কুমারদে মিন্টু ৷

একাত্তরের উত্তাল মার্চ ৷ সারাদিন মিটিং মিছিল জনসভা ৷ মাঝে মাঝে সিপিবির গ্রুপ সভা ৷ আমি ছিলাম এইচএমপি হাইস্কুলের অংকের মাষ্টার ৷ নাম ডাক ছিল মাষ্টারীর ৷ অংকে অথবা বিজ্ঞানে দুর্বল ছাত্রদের ছুটির পর রেখে দিতাম ৷ বিনা বেতনে টিউশনী করতাম ৷ ভাল পড়াতাম বলে আমার প্রতি আগ্রহ ছিল ছাত্রদের ৷ ৬৯ সালের প্রথম ভাগে রাষ্ট্রদোহীতার অভিযোগ এনে গোলাপগঞ্জ থানার ভাদেশ্বর হাই স্কুলের কতৃপক্ষ আমাকে অত্র স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষকের পদ থেকে বহিস্কার করে ৷ তখন আমি ছিলাম গোপন কমিউনিষ্ট পার্টির সিলেট জেলা কমিটির কনিষ্ট সদস্য ৷ প্রথমে গোপনে কমিউনিষ্ট পার্টি ,ন্যাপ,ছাত্র ইউনিয়ন সংগঠিত করতাম । ৬৯ গনঅভ্যুত্থানে প্রকাশ্য মিছিলগুলিতে অংশ গ্রহন করার কারনে স্কুল কতৃপক্ষ আমাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে বহিস্কার করে ৷ পার্টি আমাকে সুনামগঞ্জ কমিউনিষ্ট পার্টির দায়িত্ব দিয়ে সুনামগঞ্জ আসার নির্দেশ দেয় ৷ আমি এইচএমপি হাইস্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষকের চাকুরীতে ভর্তি হই ৷

আমি মনে প্রানে ছিলাম বিপ্লবী ৷ আমার মাঝে লুকিয়ে ছিল চেগুয়েভারার বিপ্লবী আদর্শ ৷ তখন বয়সই বা কত ছিল ৷ এই বয়সে গোপন কমিউনিষ্ট পার্টির সিলেট জেলা কমিটির সদস্য চাট্টিখানি কথা নয় ৷ সিলেট জেলা তখন এখনকার চারটি জেলা নিয়ে গঠিত ছিল ৷৬৯/৭০/৭১ যারা রাজনীতি করতেন তারা অনেকেই ওপাড়ে পাড়ি দিয়েছেন ৷ গোপন কমিউনিষ্ট পার্টির সুনামগঞ্জ মহকুমা সেলটি ছিল চার সদস্যের। এরা চারজন হলেন, নজির হোসেন,শওকতুল ইসলাম আজাদ, রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু ও অজিত নাগ ৷ আজাদ ভাই ছাড়া সবাই আমরা বেঁচে আছি ৷ সুনামগঞ্জ পার্টি সেলটি ন্যাপ ,কৃষক সমিতি ছাত্র ইউনিয়ন পরিচালনা করতো ৷ কমিউনিষ্ট পার্টি ছিল অত্যন্ত মর্যদাপূর্ন পার্টি ৷ জনগন অনেক সমীহ করতো ৷বৃটিশ রাজের শেষভাগে পাকিস্তানের প্রথমভাগে রবিদাম ছিলেন দুর্দর্ষ স্বশস্ত্র গেরিলা ৷ ঘাটি করেছিলেন ধর্মপাশার মহেশখলা এলাকায় ৷ সুনামগঞ্জ শহরের গুন্ডা মদখোররা তার ভয়ে ত্রাসের মাঝে থাকতো ৷ মাঝে মাঝে শহরে আসতেন ৷তখন ওরা শহর ছেড়ে পালাতো ৷ ১৯৪৮ সালে পুলিশের সাথে যুদ্ধে তিনি নিহত হন ৷ সুনামগঞ্জের মেয়ে অনিমা সিং সক্রিয় ছিলেন মহেশখলা ঘাটি এলাকায় ৷ ১৯৫৪ সালে বাবু বরুন রায় এম এল এ নির্বাচিত হয়েছিলেন ৷ তিনি ছিলেন কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্য ৷ আত্ন গোপন আর জেল খেটে তিনি হয়ে ছিলেন প্রবাদপুরুষ ৷ এমন একটি পার্টির দায়িত্ব প্রাপ্ত হিসেবে সুনামগঞ্জে এসে কাজ করছিলাম ৷ আমি ন্যাপ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলাম ৷ আমার ন্যাপে কোন পদ পদবী ছিল না ৷ উনসত্তর এবং সত্তরের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আমি গোপনে থেকেই কাজ করতাম ৷ কোন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে যোগ দিতাম না ৷ কমিউনিষ্ট সেলের আহবায়ক হিসেবে প্রতি সেল মিটিং এ উপস্থিত থাকতাম ৷ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যাক্তির সাথে যোগাযোগ রাখতাম ৷ এর মধ্যে জনাব হোসেন বখত, জনাব দেওয়ান আনোয়ার রেজা চৌধুরী ,নিরঞ্জন চৌধুরী, খোকন বাবু,দীপালী চক্রবর্তী অন্যতম ৷
জনাব হোসেন বখত প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ করতেন কিন্তু গোপনে কমিনিষ্ট পার্টির গ্রুপ সদস্য ছিলেন ৷ জনাব দেওয়ান আনোয়ার রাজা কনভেনশন মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন ৷কিন্তু গোপনে চীনপন্থী ও রুশ পন্থি কমিউনিষ্টদের সাথে যোগাযোগ ছিল ৷খোকনদা ,দীপালী চক্রবর্তী ন্যাপের নেতা ছিলেন ৷বছর খানেক আমার যোগাযোগের পরিধি আমি আর বাড়াইনি ৷ গোপনে কমিউনিষ্ট পার্টির থৈমাসিক পত্রিকা বিতরন ,কমিউনিষ্ট পার্টির ছাত্র ইউনিয়নের ২টি এবং ন্যাপের একটি গ্রূপ পরিচালনা করতাম ৷ আদর্শগত শিক্ষা,বক্তৃতা রপ্ত করা সাংগঠনিক পরিকলপনা,কাজের রিভিউ ,গ্রুপের নূতন সদস্য সংগ্রহ এই গুলিই ছিল প্রধান কাজ ৷ এছাড়া বাবু বরুন রায়কে তার আত্ম গোপনের স্থান থেকে শহরে নিয়ে আসা আর নিরাপদে আবার যথাস্থানে পৌছে দেওয়াও ছিল রিস্কি কাজ ৷ একাজটা পার্টি আমাকে ছাড়া কাউকে দিত না ৷ নির্বাচনের বছরটা মোটামুটি শান্তিপূর্নই ছিল ৷

একটা গনবিপ্লবের সাবজেকটিভ ও অবজেকটি কর্মকাণ্ড কাছে থেকে অনুধাবন করেছিলাম ৬৯,৭০,৭১ উত্তাল দিন গুলিতে ৷ ৭১ সালের মার্চের কচড়া নামে স্মৃতিগুলি লিপিবদ্ধ করতেই এ প্রয়াস
(চলবে)

লেখক : নজির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য, সুনামগঞ্জ -১

আমাদের ফেইসবুক পেইজ