সালুটিকর গোয়াইনঘাট সড়কে, ভারী যানবাহনের একছত্র আধিপত্য ও রাজত্ব

প্রকাশিত: ১২:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২১

সালুটিকর গোয়াইনঘাট সড়কে, ভারী যানবাহনের একছত্র আধিপত্য ও রাজত্ব

সৈয়দ বাদশাহ,গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি
সালুটিকর হইতে গোয়াইনঘাট, বঙ্গবীর হইতে বিছনাকান্দি অত্যান্ত জনগুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক। পর্যটন খাত গোয়াইনঘাট উপজেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হইতে পর্যটকদের আগমনে আরো জনগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই প্রধান সড়কটি। বর্তমান সময়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বিভিন্ন সমস্যার সমন্বয়ে হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ চলাচলের অনুপযোগী এমনকি মানুষের জীবন সংকটাপন্নের হুমকি স্বরূপ। ভারী যানবাহন আর পর্যটকদের নিয়ে আসা গাড়িসহ পাথরবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্য, একছত্র আধিপত্য আর রাজত্ব বলে অভিযোগ উপজেলার এলাকাবাসী মানুষের।
বিশেষ করে পাথর বাহি ট্রাকের দৌরাত্ম্য আর পর্যটকদের নিয়ে আসা ভারী যানবাহনের কবলে বর্তমানে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। যাত্রীবাহী পরিবহন সিএনজি, ইমা লোগুনা, কার, মাইক্রোবাস চালক এবং যাত্রীদের জীবন হাতে নিয়ে খুবই ঝুঁকিতে যাতায়াত করছে। রাস্তায় যেন যাত্রীবাহী পরিবহন এর কোন অংশদারিত্ব নেই, পুরোটাই যাযাবরের মতো। সাধারণ যাত্রীদের মনে ভয়, শঙ্কা আর উদাসীনতা নিয়ে প্রয়োজনের তাগিদে নিত্যদিন যাতায়াত করতে হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ব্যাপারে যেন দেখার কেউ নেই। যত্রতত্র টায়ার পাম্পচাটের বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ছোট ছোট শিশু বাচ্চা ও মহিলাদের এলো মেলো দৌড়ে সাথে থাকা অভিভাবক হন কিংকর্তব্যবিমূঢ়। যেখানে সেখানে গাড়ি নষ্ট হয়ে রাস্তার স্বাভাবিক যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এর জন্য ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অদক্ষ চালকদের দায়ী করেছেন এলাকার সচেতন মহল। নিত্যদিনের যানজটে কথা কাটাকাটি,রেষারেষি ও হাতাহাতি। কখনো কখনো যানজটের চাইতে কথা-কাটাকাটির জের এ সাধারণ যাত্রীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয় সেই দিকে চালকদের খেয়াল থাকেনা,তর্কে তাদের জিততেই হবে।সাথে রইলো বোনাস হিসাবে ধূলো বালি আর কালো ধোয়া। সড়ক যেন ধূলা বালির কূয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ব্যস্ততম সড়কটিতে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে ধূলা বালি উড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটিতে ধূলো বালির আবরনে নাকাল সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ও শিশুদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনায়ী উৎসের প্রধান হাতিয়ার এই সড়ক। সড়কের দু’পাশে থাকা গাছগাছালিতে স্কুল-কলেজের দেওয়ালে ধুলাবালি আবরনে আস্তর পড়ে গেছে।রাস্তা জুড়ে ছোট বড় মাঝারি পাথরের টুকরো ও বালুকনা থাকায় বিশেষ করে মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহন গুলো ঝুকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। এতে করে যে কোন সময় পথচারীদের দুর্ঘটনার কবলে পড়ার আশংকা রয়েছে। টায়ারের নিচে পড়ে পাথর উড়ে গিয়ে পথচারীদেরও দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
শব্দ দূষণের কথা না বললেই নয়। সালুটিকর গোয়াইনঘাট হইতে বিছনাকান্দি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে স্কুল-কলেজ মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গ্রাম অবস্থিত। গ্রামের মধ্য দিয়েই এই প্রধান সড়কটির যাতায়াত। ভারী যানবাহনের হরন বাজানোর শব্দে গরম হয়ে উঠেছে গ্রামে বসবাসকারী মানুষ। এমনকি রাস্তা দিয়ে চলাচলে হরনের শব্দে এলোপাতাড়ি দিতে হয় দৌড়। ভারী যানবাহনের বেপোয়ারা গতিতে যাত্রীবাহী পরিবহন এর নাজুক অবস্থা। স্টপিজে দাঁড়িয়ে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার এই সময়টুকুও নেই, তাদের হরণের শব্দে মনে হয় দিতে হবে উড়াল। অনেক সময় পরিবহনে রোগী যাত্রীদের প্রাণ যাওয়ার মত উপক্রম হয়। গভীর রাতে তাদের হরন ও গড়ুম গড়ুম শব্দে অনেকের ঘুম ভেঙ্গে যায়। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন গভীর রাতে মনে হয় ভারত উলটিয়া বাংলাদেশ আইওর। দিনের চাইতে রাতের যন্ত্রণা টা আরো বেশি।
আসছে বর্ষা মৌসুম ও রমজানে উপজেলাবাসীর সাধারণ মানুষকে আরো ভাবিয়ে তুলছে। সরেজমিন পরিদর্শনকালে অনেকেই বলেন আসছে বর্ষা মৌসুমে এই প্রধান সড়কটির অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাবে না।
যদিও রাস্তা নামক কোন চিহ্ন থাকে তবে সাধারণ যাত্রীর ও পথচারীদের চলাচলের উপযোগী থাকবে না। বিশেষ করে রমজান মাসে সৃষ্ট যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে উপজেলাবাসী, কে? নেবে এ দায়ভার। এমনকি যদি স্কুল কলেজ খোলে তাহলে এই যে ভাবে বেপোয়ারা গতিতে যানবাহন চলাচল করছে, ছাত্র-ছাত্রীদের দুর্ঘটনার কবলে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে উপজেলাবাসী সচেতন মহলের দাবি।
গত ৬ বারের বন্যায় সড়কটির বেশ জায়গায় খালখন্দক ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং কার্পেটিং নষ্ট হয়ে ইটসোলিং সরে গেছে।
সবমিলিয়ে প্রধান এই সড়কে ভারী যানবাহনের একছত্র আধিপত্য এবং রাজত্ব। এ থেকে পরিত্রান চান উপজেলাবাসী সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রধান সড়কে যানজটমুক্ত ও জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি যেন পড়ে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
17181920212223
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ