সিদ্ধিরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড়

প্রকাশিত: ১:৪৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২০

সিদ্ধিরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড়

সিল-নিউজ-বিডি ডেস্ক :: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এ নিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। নাসিকের ৮নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতির ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও আপলোডের পর থেকে ভাঙচুরের ঘটনাটি সামনে আসে।

তবে ওই ভিডিওতে হামলাকারী বা হামলার দৃশ্য দেখানো না হলেও হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে নাসিকের এক নারী কাউন্সিলর ও তার সহযোগীদের।

তবে নারী কাউন্সিলর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অপর এক ভিডিওতে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সাংবাদিক এবং নারায়ণগঞ্জবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক জানান, এটি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ফাজলামো ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা নিজেরাই এমন কাজ করতে পারেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় এখনও কেউ মামলা করেনি বলেও তিনি জানান।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নাসিক ৮নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ হাসান অর্ণবের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়।

ওই ভিডিওতে ৮নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতির ব্যবসায়িক কার্যালয় ভাঙচুরের ছবি দেখানো হয়। সেখানে একটি টেবিলের ওপর বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের ছবি ভাঙচুর করা অবস্থায় দেখানো হয়।

ভিডিওতে ছাত্রলীগ সভাপতি আরিফ হাসান অর্ণব উল্লেখ করেন, কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনার (নাসিক ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড) নেতৃত্বে তার ক্যাডার বাহিনী ছাত্রলীগের সভাপতির ব্যবসায়িক অফিসে এসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে।

আয়েশা আক্তার দিনার ৪০-৫০ জন লোক এসে শামীম ওসমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করেছে।

ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ ভিডিওতে আরও উল্লেখ করেন, এটি কোনো রাজনৈতিক অফিস না। এখানে তিনি ইন্টারনেটের ব্যবসা করেন। কাউন্সিলর দিনার লোকজন তার অফিসে এসে ভাঙচুর করে গ্রহকদের বিলের ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।

সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, আমরা কেন ক্ষমতায় থেকে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের অত্যাচার আর হামলার শিকার হব? আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তবে আরিফ হাসান অর্ণবের আপ করা ওই ভিডিওতে হামলার কোনো ছবি বা ভিডিও দেখানো হয়নি।

গোদনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ও যুবলীগ নেতা মহসিন ভূঁইয়া ওই কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন।

ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতির ফেসবুক ভিডিওর পর কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা তার ফেসবুক আইডিতে স্থানীয় এমপি শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জবাসী এবং সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে একটি লাইভ ভিডিওতে আসেন।

ভিডিওতে কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা বলেন, আমার স্বেচ্ছাসেবক টিমের ছেলেরা নাকি আওয়ামী ছাত্রলীগের অফিস ভাঙচুর করেছে, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথা।

আমি মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে আমার অফিস বন্ধ করে নিজ বাসায় আসি। আমি অসুস্থ। অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে আমি এখন নিজেই ক্লান্ত।

এদিন কোনো কার্যক্রম না থাকায় আমার স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যদের নিজ ঘরে অবস্থান করার জন্য বলি।

দিনার অভিযোগ, তাকে ফাঁসানোর জন্য ছাত্রলীগের কর্মীরা নিজেরাই তাদের অফিস ভাঙচুর করেছে। তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম তৈরি করিনি। আমি সামাজিক লোক নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম তৈরি করেছি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে কাউন্সিলর দিনা বলেন, আমাকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র আমার পিছু নিয়েছে। সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ থাকবে আপনারা সত্যটা তুলে ধরুন। ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের অফিস ভাঙচুর করে আমার ছেলেদের নাম দিচ্ছে। আমার ছেলেরা এখন ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

আমি যে ঘরে বসে ত্রাণসামগ্রী প্যাকেট করি, সেই ঘরে ছাত্রলীগের কর্মীরা এসে ভাঙচুর করেছে। আমি সামাজিকভাবে ভালো কাজ করায় একটি চক্রের হিংসা হচ্ছে। তাই তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি এ জন্য তার সঙ্গে ইতিপূর্বে রেশারেশি করা এক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করে তার ওপর হামলাসহ ছাত্রলীগ নেতাদের উসকানি দেয়ার কথা উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর গত কয়েক মাসে এলাকাবাসীর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ, গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা ও অভাবগ্রস্তদের আর্থিক অনুদান দিয়ে এলাকাবাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন নাসিক সংরক্ষিত কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ