সিলেটের রাজনীতিতে বিধান কুমার সাহা ফ্যাক্টর !

প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১

সিলেটের রাজনীতিতে বিধান কুমার সাহা ফ্যাক্টর !

লতিফ নুতন :: সিলেটের রাজনীতিতে বিধান কুমার সাহা ফ্যাক্টর। নব গঠিত সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক,মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক এজিএস ও জিএস,সিলেটের কালজয়ী ৯০ দশকের কালজয়ী ছাত্রনেতা বিধান কুমার সাহাকে এবার নতুন কমিটিতে মূল্যায়ন করায় তার অনুসারীরা উৎফুল্ল। সিলেটে বিধান কুমার সাহার একটি বিশাল কর্মী বাহীনী রয়েছে তার বলয়ে। ছাত্র ও যুব সমাজের প্রিয় মুখ বলে পরিচিত আওয়ামীলীগের দুর্দিনের কান্ডারী বিধান কুমার সাহা দীর্ঘ দিন দলে কোনটাসা ছিলেন। কিন্তুু এবার তিনি মুল্যায়ন পেয়েছেন।

নতুন কমিটিতে স্থান করে নেওয়ায় বিধান সাহার ঘনিষ্টরা আবার সক্রিয়। কেউ ভাবতে পারেননি বিধান কুমার সাহা দলে পুরষ্কৃত করা হবে। ৯০ দশকের ছাত্রনেতারা বিধান কুমার সাহার সহকর্মীরা আবার হাত মিলাচ্ছে। ৮৮ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত পর্যন্ত আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিধান সাহার উপর স্বৈরাচারী এরশাদ ও স্বৈরাচারিনী খালেদার শাষন আমলে নির্যাতন আজও ভূলার নয় বিধান সাহার রাজনৈতিক জীবনের সহকর্মীরা বলছেন।

বিধান কুমার সাহা রাজনীতিতে বেড়ে উঠার কাহীনী বর্নাঢ্য। বাকশালের সহযোগী সংটন ছিল জাতীয় ছাত্রলীগ থেকে তিনি’র বেড়ে উঠা। জাতীয় ছাত্রলীগ সিলেট প্রতিষ্টিত হওয়ার পিছিনের যাদের অবদান রয়েছে তাদের মধ্যে বিধান সাহা অন্যতম। ৮৮ সালে মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে তিনি’র কলেজ জীবন শুরু। কলেজে ভর্তি হয়ে পারিবারিক ভাবে তার বড় ভাইয়ের হাত ধরে জাতীয় ছাত্রলীগে যোগদান করে রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। তা আজও চলমান। মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রলীগ খুব শক্তিশালী ছিল। তার বিপরীতে ছাত্রশিবির ছিল। ছাত্রশিবির মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ে দখল করতে মরিয়া যখন তাদের প্রতিহত করেছেন বিধান সাহা। ৮৯ সালে কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এজিএস নির্বাচিত হয়ে জনপ্রিয় উঠেন বিধান সাহা। তখন মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রলীগ আরো জোরদার হয়।

বিধান সাহা পরবর্তীতে মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিএস নির্বাচিত হন। ছাত্র/ছাত্রীদের প্রিয় মুখ ছাত্রনেতা বিধান কুমার সাহা নন্দিত ছাত্রনেতা হয়ে উঠেন। ৯১ সালে বাকশাল আওয়ামীলীগে যোগদান করার পর বিধান সাহা বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদান করেন। ছাত্রলীগে সিনিয়র নেতারা বিধান সাহাকে স্নেহ করতেন। সে সুবাধে কর্মট ও ত্যাগী বিধান সাহার নাম একক নামে পরিচিত হয়ে যায়। এছাড়া বিধান সাহার একটি শক্তশালী বন্ধু নেটওয়ার্ক ছিল।

সিলেটের আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ৯২ সালের দিকে গ্রুপিং চাঙ্গা তখন নগরীর দরগা গেইট এলাকায় ছাত্রলীগের কাশমীর গ্রুপের জন্ম হয়। ছাত্রলীগের কাশমীর গ্রুপ গঠনে বিধান কুমার সাহার অবদান ছিল। তৎকালীন সময়ে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রতিহত করতে কাশমীর গ্রুপের ভূমিকা ছিল। ৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত খালেদার শাষন আমলে বিধান কুমার সাহা বার কারা নির্যাতন করেছেন। সিলেটে খালেদার টার্গেট ছিলেন বিধান সাহা। বেগম খালেদা জিয়ার দুঃশষনে বার বার কারাগারে ছিলেন বিধান সাহা।

৯৪ সালের দিকে বিধান কুমার সাহা পারিবারিক ভাবে বড় ভাইয়ের প্রচেষ্টায় আমেরিকা যান। কিন্তু বিধি বাম। রাজনীতির কারণে বিধান কুমার সাহা মাত্র ১৫দিনের মাথায় ভিসা নষ্ট করে দেশের টানে দেশে ফিরে আসেন। প্রবাস জীবনকে ত্যাগ করে দেশে ফিরে এসে এক ঘন্টা বসে থাকেননি রাজনীতি থেকে। তার সহকর্মীরা বলেন বিধান সাহা এক বার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার একটি পা প্রায় পুঙ্গ হওয়ার পথে ছিল। উন্নত চিকিৎসার কারনে আজ পুঙ্গত্ব থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

এক সময়ে আর সিনিয়র নেতারা আর কয়েক জন ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহকর্মীর সাথে তার মত প্রার্থক্য দেখা দিলে ছাত্রলীগের কাশমীর গ্রুপে ভাঙ্গন দেখা দিলে। তিনি কাশমীর গ্রুপের অস্থিত্ব ধরে রাখেন। তরুন প্রজন্মের নির্লূভ যুবক নগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বিধান কুমার সাহা নিজের মেধা দিয়ে বর্তমানে সিলেটে কর্মী সংগ্রহে কাজ করে যাচ্ছেন আর বিশাল বলয় সৃষ্টি করেছেন। সিলেটের রাজনীতিতে বিধান সাহা অনেকেই বলেন ফ্যাক্টর। দীর্ঘ দিনের পরিশ্রমের কারনে রাজনীতিতে আলোচিত।
লেখক : প্রধান সম্পাদক: আব্দুল লতিফ নুতন,সুরমা কন্ঠ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ