সিলেটে করোনা টিকার নিবন্ধন যে স্থানে যেভাবে করবেন

প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১

সিলেটে করোনা টিকার নিবন্ধন যে স্থানে যেভাবে করবেন

অনলাইন ডেস্ক :: ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারা দেশের ন্যায় সিলেট মহানগরীতেও চলছে করোনা ভাইরাস প্রদান কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এ কার্যক্রমের পঞ্চম দিন। প্রতিদিন বাড়ছে টিকা নেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা।

তবে গত দুদিন থেকে করোনার টিকা নিবন্ধনে দেখা দিয়েছে বিড়ম্বনা। স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিভাগের অনলাইনে অনেকেই নিবন্ধন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করছেন। এ সমস্যা নিরসনে এবং মানুষের নিবন্ধন সুবিধার জন্য নতুন করে আরও ৩ টি অনলাইন নিবন্ধন বুথ চালু করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)।

জানা গেছে, সিলেটসহ সারা দেশে শুরুতেই সম্মুখসারির কর্মী এবং ৪০ বছরের বেশি বয়সের নাগরিকরা টিকা নিচ্ছেন। নিবন্ধনের মাধ্যমে ৪০ বছরের বেশি বয়সীরা যেকোনো টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কারা টিকা নিতে পারবেন, টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন নিয়ে অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন। তাই সিলেট নগরীতে ৩ টি অনলাইন নিবন্ধন বুথ চালু করেছে সিসিক।

এ বিষয়ে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নগরীতে নতুন করে ৩ টি অনলাইন নিবন্ধন বুথ চালু করেছে সিসিক। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন ভবনের অভ্যন্তরে ২টি ও ওসমানী মেডিকেল অভ্যন্তরে চালু করা হয়েছে একটি বুথ। নগর ভবনের অভ্যন্তরে স্থাপিত দুই বুথের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

নিবন্ধর করবেন যেভাবে :
করোনার টিকা পেতে আগ্রহীরা সুরক্ষা ওয়েব অ্যাপ-এ www.surokkha.gov.bd গিয়ে অথবা মোবাইলে অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধনের কাজটি করতে পারবেন। এজন্য প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয় পত্র এবং নাম, ঠিকানা, বয়স, পেশা, শারীরিক পরিস্থিতি, ফোন নম্বর ইত্যাদি তথ্য। সেখানে নিজের পেশার ধরণ, পেশা বাছাই করার পরে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর দিতে হবে। এরপর অনলাইনে ভ্যাকসিন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এরপর প্রদানকৃত মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে ভ্যাকসিনেশনের তারিখ ও কেন্দ্র জেনে যাবেন। কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ সম্পন্ন হওয়ার পর www.surokkha.gov.bd ওয়েব পোর্টালে ‘টিকা সনদ সংগ্রহ’ মেনু বা অপশন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইপূর্বক টিকার সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে ১৮ বছরের কম বয়সী, গর্ভবতী, দুগ্ধবতী মা, হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা টিকার আওতায় আসবেন না।

স্পট রেজিস্ট্রেশন :
করোনাভাইরাসের টিকা পেতে নিবন্ধন করা নিয়ে ঝামেলার মুখে পড়ার কথা জানিয়েছেন অনেকে। ঝামেলা এড়াতে ম্যানুয়ালি স্পট রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্পট রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে-টিকা কেন্দ্রে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন। আগে থেকে নিবন্ধন করা না থাকলে সরাসরি টিকা কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন করে তারপর টিকা নেয়া যাবে। সেক্ষেত্রে টিকা নেয়ার জন্য শুধু ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র সাথে নিয়ে গেলেই চলবে।

কয় ডোজ টিকা গ্রহণ করবেন :
কোভিশিল্ড টিকা যাঁরা নেবেন তাদের মোট দুই ডোজ গ্রহণ করতে হবে। প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণের আট সপ্তাহের ব্যবধানে পরবর্তী ডোজটি নিতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো টিকা নিতে বাধা নেই। তবে কমপক্ষে দুই মাস বিরতি দিলে ভালো হবে। কেননা এন্টিবডি তৈরি হতে এই সময় লাগে।

কাদের দেওয়া যাবে না :
জাতীয় কোভিড-১৯ টিকাদান ও কর্ম পরিকল্পনা অনুসারে অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা কিছু নিয়ম বেধে দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৮ বছরের কম বয়সী, গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারী মা, সিভিয়ার এলার্জি, মুমূর্ষু ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া হবে না। তবে কোন গর্ভবতী নারী সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকলে তিনি চিকিৎসকের তত্বাবধানে টিকা নিতে পারেন। এছাড়া, কোভিড-১৯-এর টিকা প্রদানের স্থানে সামান্য ব্যথা, ফোলা, লালচে ভাব, মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব, জ্বর, ক্লান্তি ইত্যাদি ছাড়া এখন পর্যন্ত মারাত্মক কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
তবে,উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমার রোগীরা টিকা নিতে কোন বাধা নেই। তবে তার খুব বেশি গুরুতর হলে নেয়া ঠিক হবে না।

করোনা থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তি :
একবার কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তার দেহে করোনাভাইরাসের যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়; তা মূলত তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে বলে জানা গেছে। তার মানে হলো, তিন থেকে ছয় মাস পর তিনি পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এ জন্য সুস্থ হওয়ার পর ওই ব্যক্তিটির টিকা নেওয়া উচিত, যাতে অন্তত আরো বেশি সময় ধরে সুরক্ষা মিলবে। তবে সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার তিন থেকে চার সপ্তাহ দেরি করে নেওয়া ভালো।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগে ভ্যাক্সিন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে ৩০৫টি। এর মধ্যে সিলেটে (মহানগর ও জেলা) ১৬২টি। এর মধ্যে সিলেট নগরীতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২টি সেন্টার ও সিলেট বিভাগীয় পুলিশ (পুলিশ লাইন্স) হাসপাতালে ১টি। এছাড়াও সুনামগঞ্জে ১২৮, হবিগঞ্জে ৮ এবং মৌলভীবাজারে ৭টি সেন্টার রয়েছে।

বিভাগের জন্য গঠিত ৪৮টি মেডিকেল টিমের মধ্যে সিলেটে ১৭টি, সুনামগঞ্জে ১৬, হবিগঞ্জে ৮ ও মৌলভীবাজারে ৭টি টিম রয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ