সিলেটে গান, কবিতা ও নাটকে হত্যা ও ধর্ষণের বিচার দাবি

প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

সিলেটে গান, কবিতা ও নাটকে হত্যা ও ধর্ষণের বিচার দাবি

অনলাইন ডেস্ক :: গান, কবিতা ও নাটকের মাধ্যমে দেশব্যাপী ধর্ষণ ও পুলিশি নির্যাতনে যুবক হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ, সিলেট। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় রায়হান হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সারাদেশে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ধর্ষকদের মদতদাতাদের বিচারের আওত্তায় নিয়ে আসার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

শুক্রবার বিকেল চারটায় ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ, সিলেটের এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে সংহতি জানিয়ে গান ও কবিতা পরিবেশন করে উদীচী সিলেট জেলা সংসদ, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন সিলেট, একদল ফিনিক্স, ভাটিয়াল শহুরের তুহিন কান্তি দাস, মৃদূল কান্তি গোম্বামী। এসময় সংহতি জানিয়ে ধর্ষণ বিরোধী নাটক ‘এন্টিবায়োটিক’ পরিবেশন করে থিয়েটার মুরারিচাঁদ।

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের আগে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সভাপতি সঞ্জয় কান্ত দাসের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক নাবিল এইচের পরিচালনার একটি সংহতি সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। এতে বক্তব্য দেন, ভূমি সন্তান বাংলাদেশের সংগঠক আশরাফুল কবির, দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা সিলেটের সংগঠক আব্দুল করিম কিম, নারীমুক্তি সংসদ সিলেটের সভাপতি ইন্দ্রানী সেন শম্পা, অ্যাডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি সরোজ কান্তি, ছাত্রফ্রন্ট মহানগরের আহ্বায়ক সঞ্জয় শর্মা, ছাত্রফ্রন্ট সিলেট নগরের সংগঠক ফাহিম আহমদ চৌধুরী, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সহসাধারণ সম্পাদক মনীষা ওয়াহিদ প্রমুখ। এসময় ৫ বছর আগে খুন হওয়া ছেলের বিচারের দাবিতে বক্তব্য দেন মৃত আব্দুল আলীর বাবা মো. আলকাস।

এসময় বক্তারা বলেন, ‘বিচারহীনতার কারণেই দেশে গুম, খুন, ধর্ষণ বাড়ছে। পাঁচদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হানের খুনিদের গ্রেপ্তার করা গেল না। ফাঁড়ি ইনচার্জ এখনো পলাতক, তার সন্ধান আইনশৃংখলা বাহিনী জানে না। এসব বিষয়ের কারণে জনমনে এই হত্যার বিচার নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমরা দাবি জানাই অবিলম্বে পলাতক এইআই আকবর সহ অন্যানদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সিলেটের সাধারণ জনগণকে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘এসমি কলেজের ধর্ষণ ঘটনার পর আমরা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। আমরা শুধু একটি খুন বা ধর্ষণের বিচারের জন্য আন্দোলন করছি না, আমরা দেশে সংগঠিত সকল গুম, খুন ধর্ষণের বিচার চাই। বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন, বাসদ সিলেট জেলার সমন্বয়ক আবু জাফর, উদীচী সিলেট জেলার সহসভাপতি রতন দেব, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ সিলেটের সংগঠক প্রণব জ্যোতি পাল, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি মতিউর রহমান, সাবেক সভাপতি সপ্তর্ষী দাস, ছাত্র ইউনিয়ন এমসি কলেজের সাবেক সভাপতি বিশ^পা ভট্টাচার্য্য, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেটর সংগঠক রুবাইয়াত আহমদ, উদীচী সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, সম্মিলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জোটের মুখপাত্র মতিউর বারী চৌধূরী, ছাত্রফ্রন্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রবাল রায় প্রমুখ।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ