সিলেটে চাঁদাবাজির মামলায় দুজনের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২১

সিলেটে চাঁদাবাজির মামলায় দুজনের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের নয়াসড়কে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমিতে দোকান নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও চাঁদা দাবি করার মামলায় দুইজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তারা হলেন- জিয়াউর রহমান লিমন ও মতিউর রহমান শিমুল। তারা এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে বাদী পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো মইনুল ইসলাম, সিনিয়র অ্যাডভোকেট শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ আলী, অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার এবং অ্যাডভোকেট মারুফ আহমদ তামিম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর একই এলাকার আদনান মহামুদ তার রেকর্ডিও স্বত্তদখলাধীন ভূমিতে সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে স্থাপনা তৈরি করতে গেলে ওই দুই আসামিসহ অন্যান্য আসামিরা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দাবির পাশাপাশি তারা স্থাপনা তৈরিতে বাধা ও আদনান মাহমুদকে বেধড়ক মারধরও করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নয়াসড়কের বাসিন্দা মৃত শফিক উদ্দিনের ছেলে আদনান মাহমুদ গত ২৩/০৪/২১ইং দুপুরে তার নিজস্ব জায়গায় সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু করেন। কাজ চলা অবস্থায় কারাগারে পাঠানো ওই আসামিসহ অন্যরা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তাদের দাবি না মানায় আদনান মাহমুদকে বাসায় গিয়ে গত ৬ অক্টোবর তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এ ঘটনায় একই এলাকার বাসিন্দা আতা মিয়া (৬৫) তার ছেলে সেনাজ (৪৬), লিমন (৪২), শিমূল (৩৪)সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় উক্ত দুই আসামি মঙ্গলবার দুপুরে জামিন চাইলে গেলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। গত ৬ অক্টোবর চাঁদাবাজির মামলায় এজাহার দেবার পর গত গত ৯ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। মামলা নং- ২৪/৭৫৯।

জানা গেছে মামলার আসামি আতা মিয়ার ছেলে ছাত্রদলের সাবেক ক্যাডার লিমন সরকারবিরোধী জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনে জড়িত থাকায় ৬ মাস জেল খেটেছেন। অপর ছেলে মামলার আসামি সেনাজও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে যুক্ত থাকায় জেল খেটেছেন। অপর আসামি নাহিদ ২০০৩ সালে সিলেটে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তারা এলাকাবাসীর কাছে ত্রাস হিসেবে পরিচিত। এদিকে ওই চক্রের বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালী থানার সাধারণ ডায়েরি নং-১৬৬৭ দায়ের করেছিলেন আদনান মাহমুদ। থানা পুলিশ সাধারণ ডায়রেটিও তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছিল। বর্তমানে প্রতিবেদনটি আদালতে বিচারাধীন আছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। দুইজনকে আজ কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ