সিলেটে চোরাকারবারি মান্নানের গড-ফাদার ‘পাখি’

প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২১

সিলেটে চোরাকারবারি মান্নানের গড-ফাদার ‘পাখি’

অনলাইন ডেস্ক

সিলেটে পলাতক চোরাকারবারি আব্দুল মান্নানকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)-৯। শুক্রবার (১৮ জুন) দক্ষিণ সুরমার কদমতলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আব্দুল মান্নান সিলেটের শাহপরাণ থানার খাদিমনগর ইউনিয়নের কল্লগ্রামের মো. আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি দক্ষিণ সুরমা থানায় দায়েরকৃত মামলায় পলাতক আসামি ছিলেন।

র‍্যাব জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ সুরমার কদমতলি এলাকার রুচি রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে চোরাকারবারি আব্দুল মান্নানকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৯ এর সদর কোম্পানি (সিলেট ক্যাম্প)-এর একটি আভিযানিক দল।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাব-৯ এর এএসপি সোমেন মজুমদার।

এনিয়ে সামাজিক যােগাযোগ মাধ্যমে দুলু আহমদ লিখেন , মূল হোতা চোরা কারবারি আবুল হাসনাত উরপে পাখি তাহার সহযোগী চোরা কারবারি আপন ভাই আব্দুল মন্নান এদের বিষয়ে কিছু তথ‍্য তুলে দরলাম ঃ কল্ল গ্রাম একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম।চোরা কারবারি আবুল হাসনাতের ভাই আব্দুল মন্নান গংরা কল্ল গ্রামের স্হায়ী কোন বাসিন্দা নয়।৩ থেকে ৪ শতক জায়গা কিনে বাইপাস সংলগ্ন একটি বাড়ি করে। এর পর থকেই সমাজের কিছু দুর্ণীতি লোকদের সাতে বন্ধুত্ব হোওয়ার পর থেকেই চোরাচালানের সাতে জড়িয়ে পরা, জায়গা দখল,জাল দলিল সৃষ্টি করা,হয়রানি মূলক মামলা দিয়ে কল্ল গ্রাম তথা ভিবিন্ন লোকজনের জীবন ধংস করে দিয়েছে ।আবুল হাসনাত গংরা এই দরনের অপরাধ মূলক কাজে জড়িয়ে যাওয়ার কারনে কল্ল গ্রাম বাসী মাননীয় পুলিশ কমিশনার বরাবরে,উপজেলা ইউএন,উপজেলা চেয়ারম্যান, খাদিম পাড়া চেয়ারম্যান সহ ভিবিন্ন জায়গায় এই পরিবারের অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওেয়া হয়েছিল।পরর্বতিতে কল্ল গ্রাম বাসী কোন প্রতিকার না পেয়ে এই পরিবারের অপকর্মের কারনে গ্রাম এবং পঞ্চায়েত থেকে তাদেরকে সামাজিক সব কাজ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে ।কল্ল গ্রাম বাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি এই পরিবারের কারনে গ্রামের মান সম্মান নস্ট হচ্ছে যুব সমাজ ধংস হচ্ছে তাই এই পরিবার কে হাওর অঞ্চল অথবা যোগাযোগের ব‍্যবস্হা কম সেই জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার জন‍্য আবেদন জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, সিলেটের দীর্ঘদিন থেকে চোরাচালানি কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন আব্দুল মান্নান। ভারত থেকে চোরাই পথে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল বাংলাদেশে নিয়ে এসে সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেন।

গত ৯ এপ্রিল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভারতীয় পণ্যের বিশাল একটি চালান দক্ষিণ সুরমা থেকে জব্দ করে পুলিশ। ওই দিন ভোররাতে দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়নের ঢালিপাড়া এলাকায় আবদুল মান্নানের ভাড়া করা গোডাউন থেকে ভারতীয় পণ্যের এই চালানটি জব্দ করা হয়। কিন্তু এ সময় চোরাকারবারি আব্দুল মান্নান পালিয়ে যান।

পরে ওই দিনই (৯ এপ্রিল, ২০২১ইং) মান্নানকে আসামি করে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা রুজু করে পুলিশ। যার নং-৯ ও জিআর নং-৯৮।

মামলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ী, থ্রিপিস ও কসমেটিক্স পণ্য জব্দ করার কথা উল্লেখ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয় ৫১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা।

সেই মামলায় এতদিন পলাতক ছিলেন আব্দুল মান্নান। তবে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে এই চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৯।

মান্নানের বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম শনিবার রাতে বলেন, আব্দুল মান্নান চোরাচালানি মামলায় পলাতক আসামি ছিলো। শুক্রবার রাতে র‍্যাব তাকে গ্রেফতারে এবং পরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে।

(শনিবার) তাকে আমরা আদালতে প্রেরণ করেছি। পরে বিজ্ঞ আদালত মান্নানকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন।

আব্দুল মান্নান সিলেটের শাহপরাণ থানার খাদিমনগর ইউনিয়নের কল্লগ্রামের মো. আব্দুল আজিজের ছেলে ও যুবলীগ পরিচয়দানকারী আবুল হাসনাতের ছোট ভাই ।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ