সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী হাবিব হত্যা : ৪ বছর পর রায়, ১১ আসামিই খালাস

প্রকাশিত: ২:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২১

সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মী হাবিব হত্যা : ৪ বছর পর রায়, ১১ আসামিই খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র, ছাত্রলীগ কর্মী কাজী হাবিবুর রহমান হাবিব (২৪) হত্যা মামলার সকল আসামি খালাস পেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুমিনুন নেসা তাদেরকে খালাস প্রদানের রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর জুবায়ের বক্ত।

প্রসিকিউটর জুবায়ের বক্ত বলেন, ‘মামলায় ১১ জন আসামি ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত খালাস প্রদান করেছেন।’

জুবায়ের বক্ত আরও বলেন, ‘এ হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ৮ জন আদালতে হাজির ছিলেন। বাকি ৩ জন পলাতক ছিলেন।’

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন এডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল ও এডভোকেট সুহেল আহমদ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি দুপুরে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফটকে কাজী হাবিবুর রহমানের উপর হামলা হয়। তার ডান পা ও হাতে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে সেখান থেকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ওই দিন রাত পৌনে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ওই ইউনিভার্সিটির বিবিএ চতুর্থ বর্ষের ছাত্র হাবিব ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের রানীঘাট গ্রামের কাজী সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে হাবিব। ইউনিভার্সিটির পাশে কানিশাইল এলাকার একটি মেসে থাকতেন তিনি।

এ খুনের ঘটনায় হাবিবের ভাই কাজী জাকির হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়।

আসামিরা হলেন- ছাত্রলীগ নেতা হোসাইন মোহাম্মদ সাগর, ইলিয়াছ আহমদ পুনম, ইমরান খান, সুবায়ের আহমদ সুহেল, ময়নুল ইসলাম রুমেল, তুহিন আহমদ, নাহিদ হাসান, আওয়াল আহমদ সোহান, আশিক, সায়মন ও নয়ন।

এদের মধ্যে হোসাইন মোহাম্মদ সাগরকে কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

খুনের ঘটনার পর এদের সবাইকের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

হাবিব যেদিন খুন হন, এর একদিন পরেই (২১ জানুয়ারি, ২০১৬) সিলেট সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন এ খুনের ঘটনা বেশ আলোড়ন তুলে সিলেটের রাজনীতিতে। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, হাবিব কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়, ব্যক্তিগত কারণে খুন হয়েছেন।

২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। তাই পক্ষ-বিপক্ষে সক্রিয় থাকারও কোনো অবকাশ নেই। ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব থেকে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে যে কারণেই হোক, এ হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।’কিন্তু হাবিব খুনের বিচার আর পেলো না তার পরিবার।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ